স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা সাধারণত নিজেদের ডিভাইসকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করেন। গ্লাস প্রটেক্টর, কেস, স্ক্রিন গার্ডের মতো বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে তারা ডিভাইসগুলো সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেন। তবে ডিভাইসকে সচল রাখা ও এতে ব্যবহার হওয়া আনুষঙ্গিক যেমন চার্জিং কেবল, ইয়ারবাড, পাওয়ার ব্যাংক অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকসেসরিজ প্রায়ই অবহেলিত থাকে। অনেকেই মনে করেন, চার্জিং কেবল ছয় মাসে একবার ফেটে যাওয়া স্বাভাবিক এবং ইয়ারবাডের ব্যাটারি কমে যাওয়া প্রকৃতপক্ষে নির্মাতাদের পূর্ব-পরিকল্পনার অংশ। কিন্তু অনেক সময় অযত্নে এসব ব্যবহারের পর বোঝা যায় সমস্যাগুলো নিজেদের কারণে বেশি ঘটে। তাই ডিভাইসের পাশাপাশি অ্যাকসেসরিজেরও সঠিক যত্ন নেয়া দরকার—

কেবল প্যাঁচানোর সঠিক পদ্ধতি

অনেকে চার্জিং কেবল বা হেডফোন কেবল চার্জারের সঙ্গে ঘুরিয়ে রাখেন। কিন্তু এভাবে ব্যবহার করলে কেবলের ভেতরের তারগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে বারবার ঘুরালে তারগুলো টান পড়ে এবং এমনকি ভেঙেও যেতে পারে। এ কারণেই অনেক কেবল সহজে নষ্ট হয়ে যায়। এর সমাধান হলো ‘ওভার-আন্ডার’ পদ্ধতি, যা কেবলকে গুটিয়ে যাওয়া বা টান পড়া থেকে রক্ষা করে। এতে কেবলকে প্রতিবার একই দিকে ঘোরানো হয় না। কেবল বাঁধার সময় লুপগুলো একবার একদিকে ঘুরিয়ে, পরের লুপটি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয়। এতে ভেতরের তারগুলো এক জায়গায় চাপ না পেয়ে সুরক্ষিত থাকে এবং কেবল সোজা থাকে।

ব্যবহারের পর পরই পরিষ্কার করা উচিত

হেডফোন বা অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ সাধারণত ব্যবহারের পর সরাসরি ড্রয়ার বা ব্যাগে রেখে দেয়া হয়। এতে ডিভাইসগুলো দ্রুত ময়লা হয় এবং নষ্ট হতে শুরু করে। যেমন ইয়ারবাডে ময়লা ও লিন্ট জমে এবং চার্জিং পোর্টে ধুলো জমতে থাকে। সমাধান হলো ব্যবহার শেষে সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার করা। ইয়ারবাডের জন্য শুকনো কাপড় এবং ছোট ব্রাশ দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা যায়। গভীর পরিষ্কারের জন্য সামান্য আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করা যেতে পারে। চার্জিং কেবলের জন্য সংযোগস্থল পরীক্ষা করতে হবে এবং ধুলো সরাতে কমপ্রেসড এয়ার বা কাঠের টুথপিক ব্যবহার করা শ্রেয়। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা সহজ এবং এ অভ্যাস অ্যাকসেসরিজের আয়ু বাড়ায়। পরে পরিষ্কার করলে ময়লা জমে যেতে পারে বা স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

অ্যাকসেসরিজ পরিবহনের জন্য সুরক্ষিত ব্যবস্থা নেয়া

অনেকেই কেবল, অ্যাডাপ্টার বা হেডফোনসহ সবকিছু ল্যাপটপ, নোটবুক ও বোতলসহ ব্যাগে ঢুকিয়ে দেন। কিন্তু ব্যাগে চলাচল ও ওজনের চাপের কারণে এগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সংযোগস্থল বেঁকে যেতে পারে। সহজ সমাধান হলো অ্যাকসেসরিজের জন্য আলাদা, সুরক্ষিত কেস ব্যবহার করা। এর জন্য খুব ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের পাউচের প্রয়োজন নেই। ছোট, চাপ-প্রতিরোধী কেস যেমন জিপারযুক্ত পেনসিল পাউচ বা সাধারণ ইলেকট্রনিকস অর্গানাইজারও কাজ করে। এতে অ্যাকসেসরিজ নিরাপদ থাকে এবং খরচও কমে। কারণ একটি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাডাপ্টার বদলানো সস্তা কেসের তুলনায় অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে।

ছোট সমস্যা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করা

হালকা ফেটে যাওয়া কেবল, ঢিলা স্ক্রু বা গ্লু ছুটে যাওয়া দ্রুত বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। তাই সমস্যা দেখামাত্রই ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কেবল অংশে ইলেকট্রিক্যাল টেপ ব্যবহার করা যায়, ঢিলা স্ক্রু টাইট করে নিতে হবে এবং যেখানে গ্লু ছুটে যাচ্ছে, সেখানে নতুন গ্লু লাগিয়ে নেয়া ভালো। দিনে মাত্র ৫ মিনিট খরচ করে ভবিষ্যতে পুরো অ্যাকসেসরিজ বদলানোর ঝামেলা রোধ করা যেতে পারে। মেকইউজঅব অবলম্বনে