বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, শুল্ক অস্থিরতা এবং বহু অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের মতো অর্থনৈতিক জটিলটার কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রির পূর্বাভাস কমিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়তে পারে দশমিক ৬ শতাংশ। বছরজুড়ে প্রায় ১২৪ কোটি স্মার্টফোন বাজারে সরবরাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থাটি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে স্মার্টফোন বাজারে ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল আইডিসি।
২০২৪-২৯ সাল পর্যন্ত চলতি পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজারে প্রবৃদ্ধি নিম্ন একক অংকে (১-৩ শতাংশ) সীমিত থাকবে। এ পাঁচ বছরে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ধীরগতির এ প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে আইডিসি বলছে, স্মার্টফোন ব্যবহার এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে, মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে একই ফোন ব্যবহার করছে।
এদিকে বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিসের মে মাসের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের বাজার প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে এসেছে। টানা তিন প্রান্তিক ধরে স্মার্টফোন বাজারে প্রবৃদ্ধির হার শ্লথগতিতে বেড়েছে। এ সময় বাজার খুব বেশি সম্প্রসারণ হয়নি, আবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেও যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন শিল্পের গতি এখন বেশ মন্থর। অন্যদিকে বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা। তবে চলতি বছর স্মার্টফোনের বাজারে প্রবৃদ্ধিতে এ দুই দেশই মূল ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা তাদের। চীনে এ সময় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সরকার ঘোষিত ভর্তুকি, যা ডিভাইসের চাহিদা বাড়াবে এবং অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর বিক্রি ত্বরান্বিত করবে।
এর বিপরীতে ২০২৫ সালে অ্যাপলের বিক্রি ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে আইডিসি। কারণ সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি হুয়াওয়ের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করছে। অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা ও সরকার ঘোষিত সর্বোচ্চ ৬ হাজার ইউয়ানের ভর্তুকির আওতায় অধিকাংশ আইফোন মডেলই অনুপযুক্ত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্মার্টফোন বাজারে ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইডিসি। আগের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল আরো বেশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া শুল্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর গত এপ্রিল থেকে স্মার্টফোন শিল্পে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বর্তমানে অব্যাহতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে শুল্কারোপের আশঙ্কা এ খাতের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানান আইডিসির সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর নবিলা পোপাল।










