এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের মুখে পড়ল ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স। গত শনিবার সকালে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্লাটফর্মটি অচল হয়ে পড়ে। এতে বিশ্বজুড়ে হাজারো ব্যবহারকারী ভোগান্তিতে পড়ে। খবর সিএনবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডাউনডিটেক্টর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে এক্স প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ সময় লোডিং সমস্যা, ফিড না আসা, লগ ইন জটিলতাসহ নানা কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়।

কিছুক্ষণ পর বিভ্রাট আরো চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে ২১ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী সমস্যার কথা জানিয়ে রিপোর্ট করে। পরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজারে। সকাল ১০টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে অনেক ব্যবহারকারীকেই।

এদিকে বিভ্রান্তিকর এ পরিস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অসন্তোষও প্রকাশ পায়। কেউ কেউ নিজেদের হতাশা জানিয়ে আবার অন্য প্লাটফর্মে পোস্ট করে। তবে এরই মধ্যে ত্রুটি ঠিক করা হয়েছে এবং এক্স আগের মতো সচল হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বৃহস্পতিবারও এক্স প্লাটফর্মে অনুরূপ বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুবার এ ধরনের সমস্যা হওয়ায় এক্সের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত শনিবারের বিভ্রাটের পর এক্সের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও ইলোন মাস্ক নিজের অ্যাকাউন্টে ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমন পুনরাবৃত্তি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এক্সকে প্রযুক্তিগতভাবে আরো উন্নত করতে হবে।

২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পর এক্স নতুন ব্র্যান্ডিং, নীতিমালা ও প্রযুক্তি অবকাঠামোয় পরিবর্তন আনে। তবে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার প্লাটফর্মটি প্রযুক্তিগত জটিলতায় পড়েছে।

চলতি বছরের মার্চেও বড় ধরনের একটি বিভ্রাট ঘটে। সে সময় একে সাইবার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন ইলোন মাস্ক।

তিনি তখন বলেন, ‘প্রতিদিনই এক্সের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হচ্ছে। এছাড়া মার্চের হামলায় বিপুল পরিমাণ রিসোর্স ব্যবহার হয়েছিল, যা প্লাটফর্মের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’