যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চীনা প্রযুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সব কোম্পানিকে সতর্ক করে তিনি জানান, হুয়াওয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চিপ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের জন্য ফৌজদারি শাস্তি হতে পারে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড সিরিজের চিপগুলো মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি অথবা তাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এগুলো দেশটির রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্তর্ভুক্ত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) গত সপ্তাহে জানায়, তারা বিদেশী এআই চিপের ক্ষেত্রে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড চিপ ব্যবহার করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হবে। তবে এ বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এটা কোনো নতুন নিয়ম নয়, বরং একটি স্পষ্ট নির্দেশ যে হুয়াওয়ের তৈরি উন্নত কম্পিউটিং চিপ ব্যবহার করাও রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে।
রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনজীবী কেভিন উল্ফ বলেন, ‘এ নির্দেশনা কোনো নতুন নিয়ন্ত্রণ আইন নয়, বরং এটি একটি জনসমক্ষে ঘোষিত ব্যাখ্যা। এর মানে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যে কেউ হুয়াওয়ের ডিজাইনকৃত উন্নত কম্পিউটিংয়ের (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট) সাধারণ ব্যবহারও রফতানি নিয়ন্ত্রণ বিধি লঙ্ঘন করবে।’"
বিআইএস জানায়, হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ডের তিনটি চিপ ৯১০বি, ৯১০সি ও ৯১০ ডি এ নিয়মের আওতাভুক্ত হবে। কারণ এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সফটওয়্যার, প্রযুক্তি বা উৎপাদন যন্ত্রপাতি দিয়ে ডিজাইন বা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা করা হয়।
এ নির্দেশনা এমন সময় এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র হুয়াওয়ের উন্নত চিপ ও অন্যান্য এআই হার্ডওয়্যার তৈরির গতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়ার চিপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান এখন হুয়াওয়ের থেকে অধিক পরিমাণে চিপের ক্রয়াদেশ বাড়াচ্ছে। এ চাহিদা পূরণে হুয়াওয়ে এখন নিজস্ব আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন লাইন তৈরি করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।










