ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, ট্রোজান ও র‍্যানসমওয়্যার প্রায়ই সাধারণ ফাইলের ছদ্মবেশে থাকে। তবে একটু সতর্ক থাকলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। যেকোনো ফাইল উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে খোলার আগে এটি নিরাপদ কিনা, তা যাচাই করার জন্য ছয়টি সহজ পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।

উইন্ডোজ সিকিউরিটি বা বিল্ট-ইন অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার

ডাউনলোড করা ফাইল স্ক্যান করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো উইন্ডোজ সিকিউরিটি ফিচারের ব্যবহার। ফাইলের ওপর রাইট ক্লিক করে ‘স্ক্যান উইথ উইন্ডোজ সিকিউরিটি’ নির্বাচন করতে হবে। এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফলাফল দেখাবে। র‍্যানসমওয়্যার সুরক্ষা চালু রাখলে আরো নিরাপত্তা পাওয়া যায়। উইন্ডোজ সিকিউরিটি এখন এতটাই উন্নত যে সাধারণ ব্যবহারের জন্য বাড়তি অ্যান্টিভাইরাসের প্রয়োজন হয় না। ম্যাক ও লিনাক্সেও অনুরূপ সুরক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে ‘ডটইএক্সই’ বা স্ক্রিপ্ট ফাইল খোলার আগে অবশ্যই স্ক্যান করতে হবে।

ফাইলের এক্সটেনশন যাচাই

সাইবার অপরাধীরা প্রায়ই ম্যালওয়্যার ফাইলকে ‘ফটোডটজেপিজি’র মতো সাধারণ ফাইলের ছদ্মবেশে পাঠায়। এ ধরনের ফাইল প্রকৃতপক্ষে ‘ফটোডটজেপিজিডটইএক্সই’ হতে পারে। উইন্ডোজে ডিফল্টভাবে ফাইলের এক্সটেনশন লুকানো থাকে। তবে সেটিংস পরিবর্তন করে এটি দৃশ্যমান করা যায়। ডটইএক্সই, ডটবিএটি, ডটভিবিএস, ডটজেএস, ডটওসিএম ইত্যাদি ফাইল থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এগুলো সিস্টেমে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে।

অনলাইন ভাইরাস স্ক্যানিং সার্ভিস

কোনো ফাইল নিয়ে সন্দেহ থাকলে ‘ভাইরাসটোটাল’-এর মতো অনলাইন ভাইরাস স্ক্যানার ব্যবহার করতে হবে। এটি ৭০টির বেশি অ্যান্টিভাইরাস ইঞ্জিন দিয়ে ফাইল বিশ্লেষণ করে। ফাইল আপলোড করলেই ফলাফল পাওয়া যায়। তবে গোপনীয় বা সংবেদনশীল ফাইল আপলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এগুলো সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে।

ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ফাইল হ্যাশ যাচাই

বৈধ সফটওয়্যার কোম্পানি নিজেদের ফাইলে ডিজিটাল স্বাক্ষর যোগ করে। ফাইলের প্রপার্টিজে গিয়ে ডিজিটাল স্বাক্ষর ট্যাব চেক করতে হবে। তাছাড়া ফাইল হ্যাশ তুলনা করে ফাইলের অখণ্ডতা যাচাই করা যায়। উইন্ডোজ পাওয়ারশেলে ‘গেট-ফাইলহ্যাশ’ কমান্ড ব্যবহার করে হ্যাশ তৈরি করে তা ডেভেলপারের দেয়া হ্যাশের সঙ্গে তুলনা করে যাচাই করতে হবে।

সন্দেহজনক ফাইল স্যান্ডবক্সে খোলা

সন্দেহজনক ফাইল খুলতে চাইলে স্যান্ডবক্স ব্যবহার করুন। উইন্ডোজ ১০ বা ১১ প্রোয় উইন্ডোজ স্যান্ডবক্স সহজেই সেটআপ করা যায়। বিনামূল্যে ‘এনি ডটরান’ বা ‘হাইব্রিড অ্যানালাইসিস’-এর মতো অনলাইন স্যান্ডবক্সও ব্যবহার করা যায়। এটি একটি নিরাপদ সিস্টেম তৈরি করে ফাইলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। ফলে মূল সিস্টেমে ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সিকিউরিটি ওয়ার্নিং উপেক্ষা না করা

উইন্ডোজের ‘স্মার্টস্ক্রিন’ বা অন্যান্য সুরক্ষা সতর্কতাগুলো উপেক্ষা করা যাবে না। এগুলো ম্যালওয়্যার ধরতে সাহায্য করে। সিকিউরিটি ওয়ার্নিং নোটিফিকেশন দেখলে উপরের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ফাইল যাচাই করতে হবে। একাধিক সিকিউরিটি ওয়ার্নিং দেখলে ফাইলটি এড়িয়ে চলতে হবে।

মেকইউজঅব অবলম্বনে