জাপানি অ্যানিমেশন বা ‘অ্যানিমে’-এর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ছড়ানোর নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত অ্যানিমে-ভিত্তিক ফিশিং আক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ। খবর টেকরাডার।

ক্যাসপারস্কি বলছে, এসব আক্রমণে ভুয়া লিংক ও ক্ষতিকর ফাইলের মাধ্যমে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে অ্যানিমে দেখতে গিয়ে এসব ফাঁদে পা দিচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

অ্যানিমে মূলত ‘অ্যানিমেশন ইন জাপান’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা জাপানে উদ্ভূত অ্যানিমেশনকে বোঝায়। এর মধ্যে আছে টিভি সিরিজ ও সিনেমা।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির মতে, বর্তমানে অ্যানিমে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়, বিশেষ করে ২০০০ সালের শুরুর দিকে জন্ম নেয়া প্রজন্ম ‘জেন-জিয়ের’ মধ্যে। গবেষণা বলছে, এ প্রজন্মের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিয়মিত জাপানি অ্যানিমেশন দেখে। ফলে অ্যানিমে-ভিত্তিক ফিশিং আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রজন্মটি বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা সব জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যানিমে ‘নারুতো’, যেটা লক্ষ্য করে গত প্রায় এক বছরে আনুমানিক ১ লাখ ১৪ হাজার বার আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘ডেমন স্লেয়ার’। এক্ষেত্রে আক্রমণের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪ হাজার। এরপর রয়েছে আরো কিছু অ্যানিমে, যেমন ‘অ্যাটাক অন টাইটান’, ‘ওয়ান পিস’ ও ‘জুজুৎসু কাইসেন’।

ক্যাসপারস্কির তথ্যানুযায়ী, হ্যাকাররা সাধারণত বিশেষ পর্ব, ফাঁস হওয়া দৃশ্য বা প্রিমিয়াম কনটেন্ট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবহারকারীদের লিংকে ক্লিক ও ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করাতে বা ব্যক্তিগত তথ্য আদায় করতে চেষ্টা করে।

এছাড়া সম্প্রতি শ্রেক, স্ট্রেঞ্জার থিংস, টুইলাইট, ইনসাইড আউটের নাম ব্যবহার করে ৪৩ হাজারের বেশি বার আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে শ্রেকের নতুন ট্রেলার প্রকাশের সময় এমন আক্রমণের পরিমাণে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। এসব ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্যবস্তু থাকে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম।