চলতি বছর শেষে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি পৌঁছবে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন বা ১২৫ কোটি ইউনিটে। একই সঙ্গে বাজারটি আগামী কয়েক বছর দেড় শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইডিসি।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি মোবাইল ফোন ট্র্যাকারের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হুয়াওয়ে শাওমির মতো চীনা ব্র্যান্ড ও অ্যাপলের আইফোন বিক্রি। বছর শেষে আইফোনের কারণে অ্যাপলের আয় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা আগের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পূর্বাভাসের তুলনায় দ্বিগুণের মতো।
আরো ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে স্মার্টফোন বিক্রিতে ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যাবে অ্যাপল। বছর শেষে অ্যাপল প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ আইফোন বিক্রি করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোন বিক্রি দাঁড়াবে ২৩ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে।
আইডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, ‘অ্যাপলের জন্য একটি স্মরণীয় বছর হবে ২০২৫ সাল। রেকর্ড আইফোন বিক্রির পথে রয়েছে কুপারটিনোভিত্তিক কোম্পানিটি।’
তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছর আইফোন বিক্রি ২৪ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট ছাড়াতে পারে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ নতুন আইফোন ১৭ সিরিজের সাফল্য।
গত সেপ্টেম্বরে বাজারে আইফোন ১৭ সিরিজের মোট চারটি মডেল বাজারে এনেছে অ্যাপল। আইফোন ১৭, আইফোন ১৭ প্রো, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও আইফোন এয়ার। এর পরই অ্যাপলের বিক্রি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আইডিসি জানিয়েছে, অক্টোবর ও নভেম্বরে চীনের বাজারে ২০ শতাংশের বেশি হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল টেক জায়ান্টটি।
তবে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ২০২৫ সালের জন্য স্মার্টফোন বাজারের পূর্বাভাস শক্তিশালী হলেও আগামী বছর বাজারটি কিছুটা সংকুচিত হতে পারে। ২০২৬ সালে স্মার্টফোন বিক্রি কমে আসার মূল কারণ হবে চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সরবরাহ কমে যাওয়া। পাশাপাশি নতুন পণ্য বাজারে আনার সময়সূচির পরিবর্তন। যেমন পরবর্তী বেস আইফোন মডেল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উন্মোচন না করে পরের বছর শুরুতে আনার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। ফলে ২০২৬ সালে আইওএসের বিক্রি ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপ সরবরাহে ঘাটতি ও দাম বাড়াবে, যার প্রভাব পড়বে মিড-রেঞ্জের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে।
আইডিসি আরো জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময় মোট ডিভাইস বিক্রি ৩২ কোটি ইউনিট ছাড়িয়েছে।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড ক্লায়েন্ট ডিভাইসেস বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ ডিরেক্টর নাবিলা পোপাল বলেছেন, ‘স্মার্টফোন শিল্প এখন নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং শুল্কনীতি জটিলতার মধ্যেও এটি একটি অসাধারণ অর্জন।’
অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের পর গত প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি বিক্রি ও বাজার হিস্যার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে চীনের শাওমি। এর পেছনে বিশেষ ভূমিকা ছিল রেডমি নোট ও পোকো সিরিজের জনপ্রিয়তা।










