আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের (জাপানকে বাদ দিয়ে) ডাটা সেন্টার বাজার। ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও হাইপারস্কেল ডিজিটাল সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাজার দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ডাটা সেন্টার ডিপ্লয়মেন্ট মডেল অ্যান্ড স্পেন্ড ফোরকাস্ট ২০২৫-২৯’ প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

আইডিসির পূর্বাভাসে বলা হয়, হাইপারস্কেল, ক্লাউড সেবাদাতা ও ডিজিটাল সার্ভিস অপারেটররা খাতটির প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এখন উচ্চ ক্ষমতার, দ্রুত প্রসেসিংয়ে সক্ষম এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন এবং ক্লাউড সেবার চাহিদা পূরণে ডাটা সেন্টার নির্মাণে মনোযোগ বাড়িয়েছে। ভারত, মালয়েশিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অংশে বৃহদায়তনের নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলো ডাটা সেন্টার বাজারের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। অপারেটররা উচ্চ সক্ষমতার স্কেলেবল এবং এআই-রেডি ডাটা সেন্টার তৈরি করছে, যা নতুন প্রজন্মের কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

ডাটা সেন্টার অপারেটররা এখন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মডুলার নকশা, উচ্চ সক্ষমতার কম্পিউটিং এবং এআই-ভিত্তিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে মনোযোগ দিচ্ছে বেশি, যাতে আরো নমনীয়তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন বছরগুলোয় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল হাই-পারফরম্যান্স ডাটা সেন্টারের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হবে। টেকসই বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ এবং হাইপারস্কেল সুবিধার সম্প্রসারণ এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির পরবর্তী অধ্যায়কে নির্ধারণ করবে।

আবার বড় সক্ষমতার এই ডাটা সেন্টারগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতেরও চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আইডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে আইটি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্থাপিত মোট সক্ষমতা ১ লাখ ৪২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। এ পাঁচ বছরে আইটি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থাপিত সক্ষমতার পরিমাণ বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) ২২ শতাংশ হারে বাড়বে।

এক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ও জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগগুলোর গুরুত্বও এখন ক্রমে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা। ডাটা সেন্টার অপারেটররা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত কুলিং সিস্টেম ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো জ্বালানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ডাটা লোকালাইজেশন আইনও ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগ ও স্থাপত্য পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে। ফলে অপারেটরদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনি ও পরিবেশগত দিকেও নজর দিতে হচ্ছে।

আইডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক মিখাইল জউরা বলেন, ‘জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে (এপিজে) ডাটা সেন্টারের বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যেখানে ক্লাউড ও এআই মূল প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে জ্বালানি ব্যয় ও নিঃসরণ বৃদ্ধি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের টেকসই ও দক্ষ অবকাঠামোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।’

এ অবস্থায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপকে সহজ করতে সম্প্রসারণযোগ্য, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং এআই উপযোগী সমাধান তৈরিতে জোরারোপ প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে বলেও আইডিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।