ভবিষ্যতের পৃথিবীতে স্কুলে ঢুকেই যাকে শিক্ষক হিসেবে সম্মান জানাতে হবে, তিনি হয়তো মানুষ নন বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। আবার মানুষের শরীরের ভেতরে বসানো প্রযুক্তি নজর রাখবে স্বাস্থ্য, স্মৃতি ও যোগাযোগের ওপর। একদিকে এআই শিক্ষক বদলে দেবে শিক্ষা ব্যবস্থার চেনা রূপ, অন্যদিকে সাইবারনেটিক প্রযুক্তি মানুষ ও যন্ত্রের সীমারেখা মুছে দেবে। এ প্রেক্ষাপটে আগামী ২৫ বছরে প্রযুক্তির চেহারা কেমন হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছে বিবিসি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৫০ সালে প্রযুক্তি ও জীববিজ্ঞানের মধ্যকার পার্থক্য প্রায় মুছে যেতে পারে। যাকে বলা হচ্ছে সাইবারনেটিকস বা মানুষ এবং যন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির বিজ্ঞান। ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি অতি ক্ষুদ্র রোবট বা ‘ন্যানোবট’ প্রবেশ করবে মানুষের রক্তপ্রবাহে। প্রযুক্তিটি নির্দিষ্ট অঙ্গে ওষুধ পৌঁছে দেবে এবং সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যের তদারকি করবে। সাইবারনেটিকস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কেভিন ওয়ারউইকের মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ মস্তিষ্কে মাইক্রোচিপ স্থাপনের মাধ্যমে সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব হবে এবং মানুষ কেবল চিন্তার মাধ্যমে দূরবর্তী কোনো যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
এদিকে গুগল, আইবিএম ও এনভিডিয়ার মতো বড় কোম্পানিগুলো এখন বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে। এ প্রযুক্তি সাধারণ কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে আগামী দিনে খুব জটিল হিসাবনিকাশ কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটেই করা সম্ভব হবে ও উন্নয়নকাজ অনেক দ্রুত এগোবে। এ অগ্রগতির ছোঁয়ায় ২০৫০ সাল নাগাদ শিক্ষা ব্যবস্থাও হবে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। ফিউচারিস্ট ট্রেসি ফলোসের মতে, তখন পাঠ্যবইয়ের বদলে এআই শিক্ষক এবং ‘ইমারসিভ সিমুলেশন’ বা ভার্চুয়াল বাস্তবতার মাধ্যমে পাঠদান করা হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব ডিএনএ এবং বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের মেধা ও শেখার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা কার্যক্রম সাজানো হবে।










