বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির প্রসারে ডাটা সেন্টারে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই ডাটা সেন্টারের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ খরচ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কার্যক্রমে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ডিজিকোনমিস্টের প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স ডি ভ্রিস-গাওর গবেষণাপত্রে এ তথ্য উঠে আসে। খবর টেকমনিটর।
অ্যালেক্স ডি ভ্রিস-গাওর গবেষণাটি বলছে, এআই প্রযুক্তির চাহিদা যত বাড়বে, তার সঙ্গে বাড়বে জ্বালানি ও পরিবেশগত চাপ। ফলে এসব বিশ্বব্যাপী ডাটা সেন্টার পরিচালনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এনভিডিয়া, এমএমডি ও ব্রডকমের মতো কোম্পানির চিপগুলো এআই প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার সময় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। গবেষণাটির পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিদ্যুৎ চাহিদা জাপানের বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আইইএর তথ্যানুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং ব্যতীত বাকি সব ডাটা সেন্টারে গত বছর মোট ৪১৫ টেরাওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। এদিকে ডি ভ্রিস-গাও তার গবেষণায় বলছেন, এআইয়ের পেছনে এরই মধ্যে মোট সে খরচের ২০ শতাংশ খরচ হচ্ছে।
তার মতে, চলতি বছরের মধ্যে এ খরচ বেড়ে ৪৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যা হবে প্রায় ২৩ গিগাওয়াট বা নেদারল্যান্ডসের পুরো বিদ্যুৎ ব্যবহারের দ্বিগুণের কাছাকাছি।
এআই প্রযুক্তিতে কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে, তা নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। গবেষক অ্যালেক্স ডি ভ্রিস-গাওর মতে, এক্ষত্রে ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নকশা ও কুলিং সিস্টেমের কার্যকারিতা দুটোই বড় ভূমিকা রাখে। যেহেতু ডাটা সেন্টারই এআইয়ের মেরুদণ্ড, তাই এর বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠছে। এছাড়া ডি ভ্রিস-গাও মনে করেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়লে এআইয়ের ব্যবহার আরো বাড়বে।
গবেষক জানান, এআই চালাতে ঠিক কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয় বা পরিবেশে কী প্রভাব পড়ছে, তা কোনো কোম্পানি পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করে না। ফলে সাধারণ মানুষ, গবেষক বা নীতিনির্ধারকরা সহজে এ তথ্য জানতে পারেন না। তাই যুক্তরাজ্যের অ্যালান টুরিং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অ্যাডাম সোবি মনে করেন, এআই খাতে আরো স্বচ্ছতা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর অন্যদিকে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এ প্রযুক্তি পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।
এদিকে ডাটা সেন্টার শুধু বিদ্যুৎ নয়, প্রচুর পরিমাণে পানিও খরচ করে। এআই প্রযুক্তির কারণে ডাটা সেন্টারের কাজ বেড়ে যাওয়ায় পানির ব্যবহারও বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশ বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছে, যা বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা লফেয়ারমিডিয়া।
সংস্থাটির গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, পানির ব্যবহারকারী অন্যান্য খাত যেমন গবাদিপশু পালন ও বস্ত্র শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে ডাটা সেন্টার।










