মোবাইল ম্যালওয়্যার নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে রাশিয়াভিত্তিক সাইবারসিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কি। সাইবারপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত বছর ক্যাস্পারস্কির নিরাপত্তা সফটওয়্যার বিশ্বব্যাপী সাড়ে তিন কোটির বেশি সাইবার আক্রমণ প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে ছিল ম্যালওয়ার ও অ্যাডওয়্যার বা অযাচিত মোবাইল সফটওয়্যার। মোট শনাক্তকৃত হুমকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যা (৩৫ শতাংশ) এসেছে অ্যাডওয়্যার থেকে। খবর সাইবার সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স।
ক্যাস্পারস্কির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী মোট ১১ লাখ ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত অ্যাপ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৯ হাজারটি অ্যাপ শুধু মোবাইল ব্যাংকিং ট্রোজান হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর ব্যাংকিং তথ্য চুরি করার চেষ্টা করে।
উল্লেখ্য, অ্যাডওয়্যার হলো এমন অ্যাপ বা সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর কাছে বিরক্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তার, ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকা, অজানা অ্যাপ ডাউনলোড ও হ্যাকারদের নতুন কৌশলের কারণে স্মার্টফোনে সাইবার হুমকি বেড়েই চলছে। এছাড়া হ্যাকাররা নতুন ম্যালওয়্যার তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান ম্যালওয়্যার আরো বড় পরিসরে ছড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ক্যাস্পারস্কির তথ্য বলছে, গত বছর সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কিছু ‘অদ্ভুত’ সফটওয়্যার ক্র্যাশ (অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কাজ না করা) লক্ষ্য করেছেন। এগুলো মূলত সরকার, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ফোনে ঘটেছে। এ ধরনের সমস্যা ২০২৫ সালেও দেখা গেছে। উন্নত মানের এ সাইবার আক্রমণে ব্যবহারকারীর কোনো ক্লিক ছাড়াই হ্যাকাররা ফোনে প্রবেশ করতে পারছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য। কারণ বেশির ভাগ প্রায় সবাই দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যাংকিং, কেনাকাটা, সোশ্যাল মিডিয়া ও কাজের ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এছাড়া মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় ও ব্যক্তিগত তথ্য এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথির মতো সংবেদনশীল তথ্য থাকে, যা অপরাধীদের কাছে মূল্যবান।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকে অরক্ষিত বা সুরক্ষাহীন ওয়াই-ফাই ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফোন চালায়। ফলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ডাটা হ্যাকারদের দ্বারা চুরি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে বেশি। মোবাইল ম্যালওয়্যার প্রথমে এসএমএস বা কন্টাক্ট লিস্টের মতো সাধারণ ফিচারগুলোকে টার্গেট করে। এসব মোবাইল ম্যালওয়্যারের মধ্যে রয়েছে ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান, অ্যাডওয়্যার ও স্পাইওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, আর্থিক প্রতারণা বা পরিচয় চুরি করতে পারে।
পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের বিপুলসংখ্যক ডাউনলোডের কারণে ব্যবহারকারীরা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর অ্যাপের ঝুঁকিতে পড়েন। অনেক ক্ষতিকর অ্যাপ বা ম্যালওয়্যার এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে এগুলো দেখতে বৈধ বা সাধারণ অ্যাপের মতো মনে হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই ভুলবশত অ্যাপগুলো ডাউনলোড ও ব্যবহার করেন।










