২০২৫ সালে প্রযুক্তি খাতের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘এআই ডাটা সেন্টার’। তবে এর সংজ্ঞা ও প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ তৈরি হয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ও অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং এটি সাধারণ ডাটা সেন্টারের চেয়ে আলাদা। অন্যদিকে অনেকের মতে এটি নতুন কিছু নয়, বরং বিদ্যমান অবকাঠামোরই একটি উন্নত সংস্করণ বা বিবর্তন মাত্র। খবর ডাটা সেন্টার নলেজ।

ডাটা সেন্টার নলেজের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক জেমস ওয়াকার বলেন, ‘চলতি বছর ডাটা সেন্টার শিল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে এআই। বর্তমানে নির্মিত নতুন ডাটা সেন্টারগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশই এআই ওয়ার্কলোড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট কাজের কথা মাথায় রেখে নকশা করা হচ্ছে। মূলত সাধারণ তথ্য সংরক্ষণের চেয়ে এখন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই প্রসেসিংয়ের দিকেই বেশি ঝুঁকেছে প্রযুক্তি বিশ্ব।’

তিনি জানান, ২০২৫ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে এআই অবকাঠামোর দক্ষতা বাড়াতে ‘এআই ডিস্টিলেশন’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিশোধন প্রক্রিয়ার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। চলতি বছর অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএ) ‘প্রজেক্ট রেইনিয়ার’-এর মতো কিছু প্রকল্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

জেমস ওয়ালার বলেন, ‘প্রযুক্তির এ জয়যাত্রার পাশাপাশি এআই ডাটা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে জনমনে অসন্তোষও বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং এর ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক দেশেই সাধারণ মানুষ এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে।’

ইদানীং ‘এআই ফ্যাক্টরি’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারখানা শব্দটি প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। তবে এর প্রকৃত সংজ্ঞা ঠিক কী, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। মূলত চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এ ধারণা সামনে এনেছে।

এনভিডিয়ার মতে, ভবিষ্যৎ ডাটা সেন্টারগুলো হবে এমন এক কারখানা, যেখানে বিপুল পরিমাণ হাই-এন্ড ‘এআই অ্যাকসিলারেটর’ বা শক্তিশালী চিপ থাকবে। এখানে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হবে ব্যাপক পরিমাণ ‘তথ্য’, আর ফলাফল হিসেবে উৎপাদন হবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একক উদ্দেশ্যে তৈরি এআই ফ্যাক্টরির বদলে ‘মাল্টিপারপাস’ বা বহুমুখী ডাটা সেন্টারই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করবে। এসব ডাটা সেন্টারে সাধারণ কাজের পাশাপাশি এআইয়ের জন্য নির্দিষ্ট একটি জোন বা এলাকা বরাদ্দ থাকবে।