চলতি বছর বিশ্বজুড়ে নতুন করে ২৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা ৬০০ কোটি মানুষ অনলাইনে রয়েছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগারসে’ এ তথ্য উঠে এসেছে।
আইটিইউর তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫৮০ কোটি। অন্যদিকে এখনো বিশ্বের প্রায় ২২০ কোটি মানুষ অফলাইনে বা ইন্টারনেটের আওতার বাইরে রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় (২৩০ কোটি) কিছুটা কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পেতে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো, সাশ্রয়ী সেবা এবং কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে সংযোগ বাড়লেও ইন্টারনেটের মান এবং ব্যবহারের সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাপক বৈষম্য রয়ে গেছে।
আইটিইউর মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল প্রযুক্তি যখন অপরিহার্য, তখন প্রত্যেকেরই অনলাইনে থাকার সুযোগ থাকা উচিত। বর্তমানের ডিজিটাল বৈষম্য মূলত ইন্টারনেটের গতি, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যয় ও ব্যবহারের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ হচ্ছে। সর্বজনীন সংযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের এ বিষয়গুলোকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
আইটিইউর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো বিশ্বে ফাইভজি গ্রাহকের সংখ্যা ৩০০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ ফাইভ জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। তবে এ সুবিধার বিস্তার অত্যন্ত অসম। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় ৮৪ শতাংশ মানুষ ফাইভজি ব্যবহারের সুযোগ পেলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় এ হার কেবল ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখনো থ্রিজি ও ফাইভজি ব্যবহার করছে, তবে আইটিইউ সতর্ক করেছে, এ পুরনো প্রযুক্তিগুলো এআইয়ের মতো আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম নয়।
ডিজিটাল দুনিয়ার সীমানা যত বাড়ছে, ততই সংকুচিত হয়ে আসছে বিশ্ব। বাড়ছে মানুষের ভার্চুয়াল যোগাযোগ। বর্তমানে প্রযুক্তি কেবল বিলাসবহুল কোনো মাধ্যম নয়, বরং প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিসংখ্যান বলছে, বিশেষ করে গত ছয় বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারের হারে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটে সময় কাটানোর পরিমাণ কভিড মহামারী চলাকালে সবচেয়ে বেশি ছিল। ঘরবন্দি থাকার ফলে অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকে। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সিং, অনলাইন শিক্ষা, ই-কমার্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের সক্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপক প্রসারের পেছনে বিশ্লেষকরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবার সহজলভ্যতা এ পরিবর্তনের প্রধান অনুঘটক।
বর্তমানে শিক্ষা, পেশাগত কাজ, কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিনোদনসহ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে নেটফ্লিক্স, ইউটিউব ও স্পটিফাইয়ের মতো অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোয় মানুষ এখন প্রথাগত টেলিভিশনের বিকল্প হিসেবে এগুলোকেই বেছে নিচ্ছে। পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠায় মানুষের অনলাইন উপস্থিতি বেড়েছে বহুগুণ।










