বিশাল তুর্কি খেলাফতের সবচেয়ে বোকা লোকটির নাম প্রায় সবাই জানতেন। তিনি নাসিরুদ্দিন হোজ্জা। কিন্তু খলিফা বিশ্বাস করতেন না যে, হোজ্জাই সবচেয়ে বোকা।
খলিফা মন্ত্রীকে বললেন, এটা হতে পারে না।
মন্ত্রী বললেন, সিঁকি আর আধুলির মধ্যে কোনটা বেশি মূল্যবান— এটা নাদান শিশুও জানে। কিন্তু জানে না ওই ব্যাটা আহাম্মক নাসিরুদ্দিন হোজ্জা।
খলিফা বললেন, সেটা যদি সত্যি হয়, এটা তাহলে আমার খেলাফতের জন্য অপমানজনক। এমন বোকা আমার রাজত্বে থাকতে পারে না।
মন্ত্রী বললেন, তাহলে মহামান্য চলুন হাতেনাতে ব্যাপারটা পরীক্ষা করে আসি।
খলিফা বললেন, উত্তম প্রস্তাব। নিজ চোখে না দেখে আমি বিশ্বাস করতে চাই না।
দুজন ছদ্মবেশ ধরে হোজ্জার ডেরায় হাজির হলেন। যথারীতি ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে হোজ্জা ডেরার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
খলিফা নিজের ডান হাতের তালু তাঁর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তালুতে দুটি মুদ্রা। একটি আধুলি, একটি সিঁকি।
হোজ্জা দুজনের কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে খলিফার হাতের তালু থেকে সিঁকিটা তুলে নিলেন এবং দুই হাত তুলে দাতার ইহকাল ও পরকালের মঙ্গল কামনা করলেন।
ফেরার পথে খলিফা মন্ত্রীকে বললেন, কথাটা তাহলে মিথ্যে নয়। এমন আহাম্মকও আমার রাজত্বে আছে!
একসময় খলিফা অবসর নিলেন। তার পুত্র খেলাফত চালাচ্ছেন। অবসরের দিনগুলোয় একদিন তার মনে হলো হোজ্জার কথা। মানুষটা আসলেই কি এত বোকা?
খবর নিয়ে জানলেন বার্ধক্যজনিত কারণে হোজ্জা আর ভিক্ষে করেন না, ডেরাতেই শুয়ে-বসে দিন কাটান। সাবেক খলিফা এবার নিজ পরিচয়েই সেখানে হাজির হয়ে হোজ্জাকে বললেন, আমি আর খলিফা নই। চাইলেও তোমাকে এ রাজ্য থেকে তাড়াতে পারব না। আমি তোমার বোকামির কথা শুনেছি, নিজে এসে হাতেনাতে প্রমাণও পেয়েছি। কিন্তু আমার মনে হয় না তুমি আসলে এতটা বোকা। এখন তুমিও আর ভিক্ষে করো না। তুমি যদি তোমার এই বোকামির কারণটা আমাকে বলতে, আমি খুশি হতাম।
হোজ্জা বললেন, খলিফাতুল মুমেনিন। এটাই আমার ট্রেড সিক্রেট। মনে রাখবেন, একজন মানুষ চিরকালই অন্য একজন মানুষের বোকামিকে উপভোগ করে। আমি কোনো দিন আধুলি নিলে এভাবে কেউ আর সিঁকি ও আধুলি নিয়ে আমার বোকামি উপভোগ করতে আসত না। বোকা সেজে বেঁচে থাকাটা অনেক সহজ।
সাবেক খলিফা তাঁর হাতে কিছু ইনাম তুলে দিয়ে ফেরার পথে ভাবলেন, তার রাজত্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোকটিই হচ্ছেন নাসিরুদ্দিন হোজ্জা।
নাসিরুদ্দিন হোজ্জাকে পৃথিবীর অনেক দেশ সে দেশের সন্তান বলে দাবি করে, তাঁর জন্মোত্সব পালন করে, তাঁকে নিয়ে সাংবত্সরিক মেলা বসায়।
হোজ্জার দাবিদারদের মধ্যে সর্বাগ্রে আছে তুরস্ক। ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে তুরস্কের আকসেহির প্রদেশে তাঁর জন্ম ১২৭৫ কিংবা ১২৮৫তে তাঁর মৃত্যু হয়। সেখানে তাঁর সমাধিও আছে। এই সমাধি ঘিরে প্রতি বছর ৫ থেকে ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক নাসিরুদ্দিন হোজ্জা উত্সব চলে।
হোজ্জাকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন অধ্যাপক মিকাইল ব্যায়রাম। তিনি মনে করেন, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার জন্ম পশ্চিম আজারবাইজান খয় শহরে। তাঁর পুরো নাম নাসির উদ-দিন মাহমুদ আল-খোয়ি, বংশনাম আহি এভরান। তিনি পড়াশোনা করেছেন খোরাসান শহরে। হেরাতে বিখ্যাত কুরআনে মুফাসছির ফকর আল-দিন আল-রাজির শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর অধীনে পড়াশোনা করেন।
মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করতে লোকবল সংগঠিত করার জন্য বাগদাদের খলিফা তাঁকে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় পাঠান।
তিনি ক্যায়সিরির কাজী নিযুক্ত হয়ে বিচারাসনে বসেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে মওলানা জালালুদ্দিন রুমির প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। মসনবিতে তাঁর প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
দ্বিতীয় কায়কাউসের দরবারে তাঁকে উজির নিয়োগ করা হয়।
মঙ্গোল আক্রমণের বিরোধিতা তাঁকে বিশেষ খ্যাতিমান করে তোলে। বহু শহরে বসবাস, বহু ক্ষমতাসীন ব্যক্তির সঙ্গে চেনাজানা, তাঁর রসবোধ হোজ্জাকে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতি আপন করে নেয়। তুরস্ক থেকে আরব ভূখণ্ড, পারস্য থেকে আফগানিস্তান, রাশিয়া থেকে চীন— তিনি সর্বত্রই আদৃত হন।
নাসিরুদ্দিনের নামের সঙ্গে মোল্লা, খোজা, আফেন্দি, হোজ্জা অনেক কিছু যোগ হয়েছে। হোজ্জার রস-কাহিনী কিছু লিখিত হয়েছে, কিছু লোককথার মতো মুখে মুখে ছড়িয়েছে। হোজ্জার রস-রচনার প্রাচীনতম আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিটি ১৫৭১ সালের।
বিচার ব্যবস্থা, ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে অনেক ঠাট্টা-মশকরা করার পরও হোজ্জা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। কখনো পণ্ডিত, কখনো বোকা, কখনো খামখেয়ালি চরিত্র হিসেবে হোজ্জা ফার্সি, আরবি, উর্দু, আফগানি, আলবেনীয়, আর্মেনীয়, বাংলা, বসনীয়, বুলগেরীয়, গুজরাটি, হিন্দি, কুর্দিশ, রুশ ও চৈনিক সংস্কৃতির একান্ত আপনজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন।
তাঁর খামখেয়ালিপনা মূলত হোজ্জার দার্শনিকী আত্মপ্রকাশ।
ইউনেস্কো ১৯৯৬-৯৭কে আন্তর্জাতিক নাসিরুদ্দিন বর্ষ হিসেবে উদযাপন করেছে।
হোজ্জার অনেক গল্প আফ্রিকার সোয়াহিলি ও ইন্দোনেশীয় ভাষায় আবু নওয়াসের গল্প হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রভাব ইউরোপেও পড়েছে। তাঁর গল্প ঈশপের গল্প হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— যেমন বাবা-ছেলে ও তাদের গাধার গল্পটি। মোল্লা নাসিরুদ্দিন নামের একটি বিখ্যাত ম্যাগাজিন সারা পৃথিবীতে পরিচিত।
হোজ্জার চোরাচালানি
হোজ্জাকে প্রায়ই তাঁর গাধা ও বস্তাসহ সীমান্ত পারাপার হতে দেখে শুল্ক-গোয়েন্দা বিভাগের মনে হলো, এই বিশিষ্ট লোকটি নিশ্চয়ই চোরাকারবারিতে যুক্ত। গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তাঁর বস্তা তল্লাশির নির্দেশ দিলেন।
তল্লাশি করে পাওয়া গেল বস্তার ভেতর কেবল মাটি, অন্য কিছু নয়। আরো কয়েকবার তল্লাশির পর মাটি ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেল না। মাঠপর্যায় থেকে প্রতিবেদন দেয়া হলো, সম্ভবত বুড়ো হোজ্জার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, এজন্য গাধার পিঠে বস্তাভর্তি ধুলোবালি নিয়ে এপার-ওপার করেন। ধুলোবালি কোনো নিষিদ্ধ আইটেমও নয়, এর ওপর কোনো শুল্কও ধার্য করা হয় না।
শেষ দিকে পাগল মনে করে কেউ আর হোজ্জাকে ঘাঁটায়নি। শুল্ক বিভাগের প্রধান কিন্তু পুরো ব্যাপারটা নিয়েই সন্দিহান ছিলেন। এদিকে তিনি চাকরি থেকে অবসরে গেলেন। নাসিরুদ্দিন হোজ্জাও বস্তায় ধুলোবালি আনা-নেয়ার কাজ বন্ধ করে দিলেন।
শুল্ক বিভাগের প্রধান একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি আর চাকরিতে নেই, আপনিও ধুলোবালি টানার কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সত্যি করে বলবেন কি আপনি আসলে কী করতেন?
হোজ্জা বললেন চোরাচালান।
কী চোরাচালান করতেন?
তিনি বললেন গাধা। আমি গাধা নিয়ে আসতাম, পায়ে হেঁটে চলে যেতাম। এদিকে গাধার দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসাটা ছেড়ে দিয়েছি।
প্রতিশোধ
গাধার পিঠে চড়ে তুরস্কের এক গ্রামের রাস্তা ধরে নাসিরুদ্দিন হোজ্জা যাচ্ছেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে এক গোত্রপ্রধান অনুরোধ করল, হুজুর আমাদের গ্রামের ইমাম নেই আজ এক বছর। আপনি অনুগ্রহ করে পদটি গ্রহণ করুন এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালনা করুন। আমরা আপনাকে ভালো বেতন দেব, বাসস্থান ও খোরাকিও দেব।
হোজ্জা রাজি হয়ে তার সঙ্গে চললেন। কিন্তু চৌরাস্তায় এসে দেখা পেলেন অন্য এক তুর্কি গোত্রপ্রধানের। প্রথম তুর্কি তাকে বলল, আমাদের গ্রামের নতুন ইমাম। একটু আগে নিয়োগ দিয়েছি। এক বছর ধরে আমাদের গ্রামে ইমাম নেই।
দ্বিতীয় তুর্কি বলল, হোজ্জা হবে আমাদের গ্রামের ইমাম। নয় বছর ধরে আমাদের ইমাম নেই।
মোল্লাকে নিয়ে দুই তুর্কির মধ্যে ঝগড়া শুরু হলো। একপর্যায়ে দ্বিতীয় তুর্কি বলল, যদি সে হোজ্জাকে না নিতে পারে, তাহলে তাঁর গলা কেটে দুই টুকরো করে ফেলবে, তবুও প্রথম তুর্কির গ্রামের ইমাম হতে দেবে না।
প্রথম তুর্কি এবার হোজ্জার কানে বলল, একদম চিন্তা করবেন না। আপনাকে দুই টুকরো করলে আমি কি বসে থাকব? এই তলোয়ার দিয়ে ওর গাধাটার গলা কেটে আমি প্রতিশোধ নেব।
পাতিলের বাচ্চা
বড় ভোজের রান্নার জন্য হোজ্জা এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটা বড় পাতিল ধার নিলেন। ফেরত দেয়ার সঙ্গে একটা ছোট পাতিলও দিলেন।
প্রতিবেশী বলল, ছোটটা আমার নয়।
হোজ্জা বললেন, না তোমারই। বড় পাতিল একটা বাচ্চা বিইয়েছে, এটা সেটাই।
প্রতিবেশী এর পর দুটোই রাখল।
ক’মাস পর হোজ্জা আবার বড় পাতিলটা ধার নিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফেরত না দেয়ায় প্রতিবেশী এসে হাজির হলো।
হোজ্জা বললেন, দুঃসংবাদ আছে। ডেলিভারির সময় তোমার পাতিলটা মারা গেছে।
প্রতিবেশী খেপে গেল।
তিনি বললেন, খেপছ কেন? বাচ্চা দিতে পারবে আর ডেলিভারির সময় মরতে পারবে না!
হোজ্জার ডায়িং শপ
নাসিরুদ্দিন হোজ্জা ডায়িং শপ খুললেন। কাপড়ে রঙ করে দেন। ব্যবসা বেশ জমজমাট। একদিন শহরের মেয়র এলেন একটি কাপড় নিয়ে, রঙ করিয়ে স্ত্রীকে উপহার দেবেন। একই সঙ্গে হোজ্জাকে একটা শিক্ষাও দেবেন।
হোজ্জাকে বললেন, পাকা রঙ হতে হবে। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, সবুজ আর কালো বাদ দিয়ে রঙ করাবেন। পারবেন তো?
অবশ্যই, এ আর তেমন কি?
তাহলে কবে নিতে আসব?
শনি, রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বাদ দিয়ে অন্য যেকোনো দিন নিয়ে যাবেন।
স্ত্রীর জন্য ভালোবাসা
নাসিরুদ্দিন হোজ্জার দুই স্ত্রী ঝগড়া করছে। ঝগড়ার বিষয় হোজ্জা কাকে বেশি ভালোবাসেন— বড় বিবিকে না ছোট বিবিকে।
বড় বিবি বলল, আমাকে।
ছোট বিবি বলল, আমাকে।
যখন দুজন মারামারি শুরু করে দিল, হোজ্জা হাজির। বড় বিবি জিজ্ঞাসা করল, যদি আমরা তিনজন একটা নৌকায় থাকি আর যদি নৌকা ডুবতে থাকে, আপনি কাকে বাঁচাবেন— আমাকে না ছোট বিবিকে?
হোজ্জা বড় বিবিকে বললেন, তুমি তো সাঁতার জানো, তাই না?
হোজ্জার বাঘ
ক. হোজ্জা তাঁর বাড়ির চারদিকে এক ধরনের বিষাক্ত পাউডার ছড়িয়ে রাখলেন, যাতে তাঁর বাড়িতে বাঘ আসতে না পারে।
একজন প্রতিবেশী বললেন, হোজ্জা এখানে বাঘ আসবে কোত্থেকে? আশপাশে ১০০ মাইলের মধ্যে কোনো বাঘ নেই।
হোজ্জা বললেন, বুঝুন তাহলে পাউডারের গন্ধে ১০০ মাইল দূরে চলে গেছে। বেশ আশ্বস্ত হলাম।
খ. হোজ্জা তাঁর বাড়ির চারপাশে মাংস ও হাড় ছড়িয়ে রাখলেন।
প্রতিবেশীর প্রশ্নের জবাবে বললেন— যাতে বাঘ আসে সেজন্য।
মানুষ যেখানে বাঘ তাড়াতে চায়, আপনি সেখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন! ব্যাপারটা কি?
হোজ্জা বললেন, ঘরে বসে বাঘ শিকারের আনন্দই আলাদা।
হোজ্জার ডাক্তার
পয়সাকড়ি নিয়ে ঝামেলা করেন বলে হোজ্জা অসুস্থ হলেও তাঁর ডাক্তার তাঁকে দেখতে আসেন না।
একবার তাঁর অবস্থা খুবই কাহিল। তাঁর স্ত্রী ভয় পেয়ে গেল এবং ধরে নিল, এই যাত্রায় হোজ্জা আর টিকবেন না।
কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে ডাক্তারকে বলল, অন্তত একটিবার চলুন। আমার ভয় হচ্ছে, যদি মারা যায়— এতগুলো বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমি পথে বসব।
ডাক্তার বললেন, এটা দাতব্য চিকিত্সালয় নয়। আমি যদি ওষুধ লিখেও দিই, লাভ হবে না। তাঁর তো ওষুধ কেনার টাকাও নেই।
বিষণ্ন মনে হোজ্জার স্ত্রী ফিরে এল, সুস্থ হয়ে ক’দিন পর হোজ্জা ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে ধন্যবাদ দিতে গেলেন। ডাক্তার বললেন, আমি তো আপনার কোনো চিকিত্সাই করিনি, আমাকে আবার ধন্যবাদ দিচ্ছেন কেন?
হোজ্জা বলেন, সেজন্যই আমি সুস্থ হয়ে উঠেছি। আপনি আমার চিকিত্সা করলে আমাকে যে এতক্ষণে কোন গোরস্তানে দাফন করা হতো কে জানে!
সত্যজিত্ রায় কেবল নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ভক্ত নন, তাঁর গল্পগুলো নিয়ে ‘মোল্লা নাসীরুদ্দীনের গল্প’ নামে একটি বইও লিখেছেন। সেই বই থেকে দুটি অ্যানেকডট উদ্ধৃত করছি:
১. রাজদরবারে নাসীরুদ্দীনের খুব খাতির।
একদিন খুব খিদের মুখে বেগুন ভাজা খেয়ে ভারি খুশি হয়ে রাজা নাসীরুদ্দীনকে বললেন, ‘বেগুনের মতো এমন সুস্বাদু খাদ্য আর আছে কি?’
‘বেগুনের জবাব নেই’, বললেন নাসীরুদ্দীন।
রাজা হুকুম দিলেন, ‘এবার থেকে রোজ বেগুন খাব।’
তার পর পাঁচদিন দুবেলা বেগুন খেয়ে ছ’দিনের দিন রাজা হঠাত্ বেঁকে বসলেন। খানসামাকে ডেকে বসলেন, ‘দূর করে দে আমার সামনে থেকে এই বেগুন ভাজা।’ ‘বেগুন অখাদ্য’, সায় দিয়ে বললেন নাসীরুদ্দীন।
রাজা এ কথা শুনে ভারি অবাক হয়ে বললেন, ‘সে কী মোল্লাসাহেব, তুমি যে এই সেদিনই বললে বেগুনের জবাব নেই।’
‘আমি ত আপনার মোসাহেব জাঁহাপনা’, বললেন নাসীরুদ্দীন, ‘বেগুনের ত নই।’
২. মোল্লাগিন্নী একটা শব্দ পেয়ে ছুটে গেছে তার স্বামীর ঘরে। ‘কী হলো? কিসের শব্দ?’
‘আমার জোব্বাটা মাটিতে পড়ে গেস্ল’, বললে মোল্লাসাহেব।
‘তাতেই এত শব্দ!’
‘আমি ছিলাম জোব্বার ভেতর।’
হোজ্জারি বচন
* সূর্যের চেয়ে চাঁদ বেশি উপকারী। কারণ দিনের বেলা এমনিতেই আলো থাকে।
* কলসি ভাঙার অপরাধে চড় মেরে কি লাভ, তার চেয়ে চড়টা আগাম মেরে দিলে সতর্ক থাকত।
* নিজের ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী বদলে অন্য লোকের কুড়ি বছর বয়সী দুটো মেয়ে আনা যাবে না— এটা কেমন কথা?
* দীর্ঘজীবী হতে হলে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন আর পা গরম।
* যখন বৃষ্টি হয়, পাকা রাস্তাও ভিজে যায়।
* তুমি যা-ই করো, মানুষের জিহ্বা কখনো তোমাকে ছাড় দেবে না।
* গাধার পিঠে উল্টো হয়ে বসলে অধিক মানুষের মুখোমুখি হওয়া যায়।






