প্রথম প্রকাশের পরই অত্যন্ত প্রভাবসঞ্চারী একটি বই এবং একটি উদ্ভাবন কুশলকাজ হিসেবে সমাদৃত হয়েছিল ট্রান্সলেটরস থ্রু হিস্ট্রি, যা একই সঙ্গে তথ্যপূর্ণ এবং খুবই পাঠযোগ্য। অনুবাদকরা যুগে যুগে, দেশে দেশে বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। উচ্চ প্রশংসিত এ গ্রন্থে বলা হয়েছে বিভিন্ন ভাষার বিকাশে, নানা সাহিত্যের আবির্ভাবে, জ্ঞান বিতরণে ও মূল্যবোধ বিস্তারে এ অনুবাদকদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজনের অমলিন অবদানের কথা, যা হয়ে উঠেছে বিশ্বসংস্কৃতিরই একটি অনুপম কাহিনী। সে কাহিনীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই পাক্ষিক আয়োজনে পাঠকদের আমন্ত্রণ
(১৪শ কিস্তি)
দ্বিতীয় অধ্যায়
‘অনুবাদক ও জাতীয় ভাষাগুলোর বিকাশ’
মার্টিন লুথার: জার্মান ভাষার কারিগর (শেষাংশ)
লুথার লক্ষ্য-ভাষার (target-language) নীতি অনুযায়ী অনুবাদ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু জার্মান ভাষা তখনো বিকাশের সে স্তরে উন্নীত হতে পারেনি বলে কাজটি সেভাবে করা সম্ভব হয়নি পুরোপুরি। তিনি অন্য যে বিধি অনুসরণ করেছিলেন তা হলো, শব্দের উচিত টেক্সটের মানে অনুসরণ করা, উল্টোটা নয়। এটি যে নতুন কোনো ধারণা ছিল, তা নয়: বস্তুর অনুগামী শব্দের ধারণা সে সময়ের অনেক সূত্র থেকেই পাব আমরা। কিন্তু তার পরও লুথারকে যথেষ্ট সাহসী হতে হয়েছিল, কারণ তিনি একটি ধর্মগ্রন্থ নিয়ে কাজ করছিলেন। লুথার মনে করতেন অনুবাদ সবসময়ই এক ধরনের ব্যাখ্যা (interpretation), অন্তত খানিকটা হলেও। ভাষাতাত্ত্বিক নিখুঁতত্ব অতএব তাঁর প্রধান বিবেচ্য ছিল না। তিনি মনে করতেন অনুবাদকদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিক এবং পরিস্থিতিগত যথার্থতা অর্জন। আর সেজন্য তিনি বলতেন, তাঁদের দর্শন ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে পড়াশোনা থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে তাঁদের যাজকীয় অভিজ্ঞতাও থাকা ভালো।
লুথারের জীবদ্দশায় বিশেষ করে ১৫২২ থেকে ১৫৪৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর অনুবাদের যেসব সংস্করণ প্রকাশ হয়েছিল, সেগুলো তুলনা করে আমরা তাঁর অনুবাদ-সংক্রান্ত নীতি ও কৌশলগুলো সম্পর্কে আরো ধারণা পেতে পারি। কারণ এ সংস্করণগুলো তিনি নিজে সম্পাদনা করেছিলেন। এ সংস্করণগুলো থেকে প্রত্যক্ষ কিন্তু প্রাঞ্জল অভিব্যক্তির প্রতি তাঁর পক্ষপাতিত্বের ব্যাপারটি দেখানো যায়; এবং উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এ কাজটি তিনি করেছিলেন ক্রিয়াপদীয় অভিব্যক্তিগুলো ‘noun phrase’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। আর এটি বিশেষভাবে দ্রষ্টব্য তাঁর ‘স্তোত্রসমূহ’ (the Psalms) অনুবাদে। লুথার সবসময়ই কথ্য ভাষার ধ্বনিকে গুরুত্ব দিতেন। ধর্মপ্রচারক হিসেবে তিনি তাঁর শ্রোতা-দর্শকের প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করার এবং তাঁর কথা আত্মস্থ করার ব্যাপারে তাদের সক্ষমতা বিচারের মতো অবস্থানে ছিলেন। অনুবাদ করার সময় তিনি তাঁর এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেন।
দুটো রচনার মাধ্যমে লুথার নিজ অনুবাদের পক্ষ সমর্থন করেছেন: Sendbrief vom Dolmetschen (অনুবাদ-বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি বা খোলা চিঠি, ১৫৩০) ও Summarien über die Psalmen und Ursachen des Dolmetschens (স্তোত্রগুলোর অনুবাদের সমর্থনে কিছু কথা, ১৫৩১-৩৩)। লুথার পবিত্র বাইবেল পরিবর্তন করেছেন বা বিকৃত করেছেন এই মর্মে ক্যাথলিক কর্মকর্তারা যে অভিযোগ এনেছিলেন, তার জবাব দেয়ার জন্য এ বই দুটো রচিত হয়েছিল। মেইনযের আর্চবিশপ এ যুক্তিতে গ্রিক ও লাতিন থেকে যাজকীয় নথিপত্র জার্মান ভাষায় অনুবাদ নিষিদ্ধ করেছিলেন যে, সে ভাষায় যথেষ্ট শব্দভাণ্ডার নেই এবং ভাষাটি ধর্মতাত্ত্বিক ধ্যান-ধারণা উপস্থাপনের অনুপযুক্ত। Sendbrief ও Summarien ছিল মূলত পক্ষ-সমর্থনমূলক রচনা এবং সম্ভবত সেখানে অনুবাদ সম্পর্কে কোনো গবেষণা-প্রবন্ধ রচনার প্রয়াস নেয়া হয়নি বা অনুবাদের কোনো অভিনব পদ্ধতির প্রস্তাবও করা হয়নি। কিন্তু তার পরও লুথার সেখানে এমন কিছু তাত্ত্বিক সমস্যার কথা আলোচনা করেছেন, যেগুলো এমনকি আজও বিতর্কিত বিষয়। তিনি যেসব প্রসঙ্গের ওপর আলোকপাত করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ভাবানুবাদ বনাম আক্ষরিক অনুবাদ, অনূদিত টেক্সটের স্বাভাবিকীকরণ (naturalization) বনাম অপরিচিতকরণ (foreignization), শৈলী-বিষয়ক নানান প্রশ্ন এবং প্রাসঙ্গিক কাঠামো (contextual structure) বিবেচনায় নেয়ার গুরুত্ব। এ দুই টেক্সটে (Sendbrief আর Summarien) লুথার Vulgate থেকে কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছেন, আক্ষরিক অনুবাদ এবং তাঁর নিজের অনুবাদ— যেখানে একটি শব্দবন্ধ (phrase) গঠনকারী প্রতিটি স্বতন্ত্র শব্দের মানের বদলে গোটা শব্দবন্ধের মানের ওপর জোর দেয়া হয়েছে— এই দুইয়ের মধ্যে একটা প্রতিতুলনা করে। এ প্রসঙ্গে প্রায়ই উদ্ধৃত করা হয় এমন একটি উদাহরণে ‘রোমকদের প্রতি সন্ত পঅলের পত্র (৩:২৮)’-তে লুথার যে nur (একমাত্র) অর্থে allien (একাকী/একমাত্র/ব্যতিরেক) শব্দটি যোগ করেছিলেন— যেখানে মূলে লাতিন sola শব্দটি পাওয়া যায় না, সে বিষয়টি রয়েছে। ‘Arbitramur hominem iustificari ex fide absque operibus legis’ বাক্যটির লুথারকৃত অনুবাদ হচ্ছে— ‘Wir halten / das der mensch gerecht werde on des gesetzs wreck / allien durch den glauben.’ এবং এই বাক্যটি, যার ইংরেজি হচ্ছে We hold that a man is justified without the works of the law, by faith alone’ (কেননা আমাদের মীমাংসা এই যে, ব্যবস্থার কার্য ব্যতিরেকে বিশ্বাস দ্বারাই মনুষ্য ধার্মিক গণিত হয়— পবিত্র বাইবেল, নূতন নিয়ম, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি, ঢাকা— অনুবাদক) লুথারের শিক্ষার মূল আলোচ্য বিষয়। ধর্মতাত্ত্বিক ও ভাষাতাত্ত্বিক দুদিক থেকেই লুথার ‘allien’ শব্দটির ব্যবহারের ন্যায্যতা সমর্থন করতে চেয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করে বলছেন, দুটো জিনিসের ব্যাপারে কথা বলার সময়— যে দুটো জিনিসের একটি অনুমোদিত হয়েছে, অন্যটি নাকচ করা হয়েছে, অবশ্যই ‘allien’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে, যাতে করে বৈসাদৃশ্যটি স্পষ্ট করে তুলে ধরা যায়। আর তাই এ ‘allien’-এর ব্যবহার লুথারের ধর্মতত্ত্বে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আরেকটি উদাহরণ নেয়া হয়েছে মথি ১২:৩৪ (Matthew) থেকে, যেখানে লাতিন টেকস্টটি এ রকম: ‘Ex abundantia cordis os loquitur.’ দুর্বোধ্য আক্ষরিক অনুবাদটির (The mouth speaks out of an excess of heart) বদলে লুথার— একটি সুপরিচিত জার্মান প্রবাদ (Wes das hertz voll ist / des gehet der mund uber) ব্যবহারের মাধ্যমে একটি ভাবানুবাদ হাজির করেন। জার্মান প্রবাদটির আক্ষরিক মানে হচ্ছে— ‘হূদয় পরিপূর্ণ থাকলে বা হলে মুখের বাঁধ টুটে// যায়’; এর সমতুল্য বাইবেলের ইংরেজি হচ্ছে ‘Out of the abundance of the heart the mouth speaketh’ (হূদয় হইতে যাহা ছাপিয়া ওঠে মুখ তাহাই বলে— পবিত্র বাইবেল, নূতন নিয়ম, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি, ঢাকা— অনুবাদক)। এই উদাহরণগুলো ব্যবহার করে তিনি দেখাতে চেয়েছেন কী করে কোনো বিশ্বস্ত অনুবাদ একটি গোটা বাক্যের অর্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে বা সেটার মানে বদলে দিতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন, অনুবাদকদের উচিত কখনো কখনো লক্ষ্য-ভাষার এমন কোনো শব্দবন্ধ বা ফ্রেজের খোঁজ করা, যা ভিন্ন শব্দ দিয়ে ভাবনাটি পরিষ্কারভাবে অনুবাদ করতে পারবে। এবং এই ব্যাপারটিই লুথারকে ‘ভাষার ইতিহাসে এবং সেই সঙ্গে অনুবাদের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান’-এ সমাসীন করেছে।
লুথার দাবি করেন, তিনি তাঁর অনুবাদকে আরো কথ্য ও আরো বোধগম্য করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁর লক্ষ্য ছিল উচ্চ ও নিম্ন কোটির শব্দসম্ভার (হাই ও লো রেজিস্টার)— যাজকীয় এবং সাধারণ ভাষার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য আনা, যেমনটি তাঁর আগে কেউ করতে সক্ষম হননি। Sendbrief-এ তিনি বলছেন, জার্মান ভাষায় লোকে এমনভাবে কথা বলবে যেন ‘বাজারে কোনো সাধারণ মানুষ কথা বলছে।’ লুথারের কাছে জনসাধারণের ভাষা ছিল একটি অনুপ্রেরণা ও একটি অফুরন্ত ভাণ্ডার, তবে তিনি যে সাধারণ মানুষের মতো কথা বলতেন বা লিখতেন, সে কথা কিন্তু তাঁর বাইবেল অনুবাদের ভিত্তিতে দাবি করা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে, ‘সাধারণ মানুষ’ সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি খুব বেশি আক্ষরিক অর্থে নেয়া ঠিক হবে না, বরং সেটাকে ভাষা ব্যবহারের একটি আলঙ্কারিক বর্ণনা হিসেবে গ্রহণ করাই সঙ্গত হবে।
খানিক পূর্বে উদ্ধৃত উদাহরণটিই বুঝিয়ে দেয় হূদয় লুথারের কাছে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাইবেল সম্পর্কিত বর্ণনা বা উপস্থাপনায় হূদয়ই ছিল যুক্তি ও বুদ্ধির আসন, যা বার্জিট স্টল্ট তাঁর একটি গ্রন্থে দেখিয়েছেন। লুথারের কাছে চিন্তা, অনুভূতি ও শব্দ ছিল অবিচ্ছেদ্য এবং হূদয়ই ছিল এই সবকিছুর অধিষ্ঠান, যা আবার বিশ্বাসেরও আসন বটে। একজন ভালো অনুবাদকের গুণাবলির কথা বলতে গিয়ে লুথার বলছেন: অনুবাদ কারো জন্য কোনো শিল্প নয়, যা কিনা পথভ্রষ্ট অনেক যাজক মনে করেন। যা দরকার তা হলো, একজন ন্যায়পরায়ণ, নিবেদিতপ্রাণ, বিশ্বস্ত, পরিশ্রমী, ধার্মিক খ্রিস্টান, বিদ্বান, দক্ষ, অভিজ্ঞ, হূদয়।
ভাষা ও অনুবাদের ওপর লুথারের প্রভাব তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছিল। প্রথম দিকের জার্মান অভিধানগুলো, যেগুলো Valentin Ickelsamer ও Fabian Franck ষোড়শ শতকে প্রণয়ন করেছিলেন, সেগুলো লুথারের বাইবেল অনুবাদের ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে Johannes Clajus (১৫৩৫-৯২)-এর নামও উল্লেখযোগ্য, যাঁর টেক্সটের শিরোনাম ছিল: ‘Grammatica Germanicae linguae ex bibliis Lutheri Germanicis et aliis eius libris collecta’ (লুথারের বাইবেল এবং তাঁর অন্যান্য রচনার সংকলনের ভিত্তিতে জার্মান ভাষার ব্যাকরণ)। অষ্টাদশ শতকের দিকেই কেবল লুথারের ভাষার সুনির্দিষ্ট আরো নানান দিক নিয়ে মূল্যায়ন শুরু হয়। Johann Christoph Adelung (১৭৩২-১৮০৬), যিনি ‘Grammatisch-Kritisches Wörterbuch der hochdeutschen Mundart’ (পার্বত্যাঞ্চলীয় জার্মান উপভাষার ব্যাকরণসম্মত ও সমালোচনামূলক অভিধান)-এর রচয়িতা, তিনি লুথারের বাইবেলকে যতটা-না শুদ্ধ ভাষার নমুনা বলে মনে করতেন, তার চেয়ে বেশি সেটাকে একটি প্রয়োজনীয় ও কার্যকর উত্স হিসেবে বিবেচনা করতেন। সে যা-ই হোক, লুথারের ভাষার মান-নির্ণায়ক প্রভাব একেবারে উনিশ শতক পর্যন্ত মোটেই দুর্লক্ষ্য নয়; উদাহরণ হিসেবে গ্রিম ভাইদের অভিধানের কথা বলা যায়, যেখানে লুথারের ভাষাই সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্স হিসেবে অবদান রেখেছে।
{তাঁদের এই ‘Deutsches Wörterbuch’ (জার্মান ভাষার অভিধান)-এর প্রথম কিস্তি ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ৮ম অধ্যায়ে দেখুন}
লুথার তাঁর বাইবেল অনুবাদের মধ্য দিয়ে জার্মান ভাষার অভিধানের সমৃদ্ধি এবং প্রমিতকরণে এবং সেই সঙ্গে ক্রিয়াপদের অবস্থান এবং অব্যয়ের মতো কাঠামোগত উপকরণ ব্যবহার করে সুষম বাক্য গঠনের (সিনট্যাক্স) বিকাশে সহায়তা করেছেন। অবশ্য তাঁর মূল অবদান শৈলীবিদ্যার (স্টাইলিস্টিক্স) ক্ষেত্রে। তাঁর বাইবেল অনুবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল স্বচ্ছতা, সরলতা, প্রাঞ্জলতা এবং সাধারণ বোধগম্যতা, যা এখন পর্যন্ত ভালো লেখার আদর্শ বলে গণ্য হয়। বাইবেলের সব পরিমার্জনা এবং আধুনিক অনুবাদ লুথারের টেক্সট সামনে রেখেই করা হয়ে থাকে।
লুথার হয়তো প্রকৃতপক্ষে নতুন পার্বত্যাঞ্চলীয় জার্মান ভাষার লিখিত ও কথ্যরূপ সৃষ্টি করেননি, কিন্তু জার্মান জাতীয় ভাষার বিকাশে তাঁর অনুবাদগুলো একটি চালিকা শক্তি, প্রভাবক এবং মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর কাছে তাঁর সময়ের ভাষা ব্যবস্থার মধ্যে উপকরণগুলোর যে সংগ্রহ ও বাছাইকৃত সমাহার ছিল, সেসব এবং সেই সঙ্গে তাঁর নিজের সৃষ্টি ও উদ্ভাবনগুলো পুরো জার্মান ভাষাকেই প্রভাবিত করেছিল। তবে লুথারের প্রভাব তাঁর নিজের দেশের বাইরে আরো বহু দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বাইবেল অনুবাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য স্থানে উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল।
পরবর্তী পর্ব: ‘সুইডিশ ভাষার বিকাশ’





