পঙিক্তটি রবীন্দ্রনাথের, বৃক্ষবন্দনার—

মৃত্তিকার হে বীর সন্তান

সংগ্রাম ঘোষিলে তুমি মৃত্তিকারে দিতে মুক্তিদান

মরুর দারুণ দুর্গ হতে, যুদ্ধ চলে ফিরে ফিরে

সন্তরি সমুদ্র-উর্মি দুর্গম দ্বীপের শূন্য তীরে

শ্যামলের সিংহাসন প্রতিষ্ঠিলে অদম্য নিষ্ঠায়

বিজয় আখ্যানলিপি লিখি দিলে পল্লব-অক্ষরে

ধূলিরে করিয়া মুগ্ধ, চিহ্নহীন প্রান্তরে প্রান্তরে

ব্যাপিলে আপন পন্থা।

উন্নয়নের কঠোর কুঠার ধেয়ে এসেছে, মৃত্তিকার বীর সন্তানদের এবার মূলোৎপাটিত করবেই।

উন্নয়নের পথে দাঁড়িয়ে বাধা দেয়ার অধিকার

উন্নয়নের পথ আগলে দাঁড়ানো যে সমীচীন নয়, এটা মানুষ কমবেশি বোঝে। কিন্তু তাদের বোঝাই যথেষ্ট নয়। উন্নয়নের পথে যদি বৃক্ষ পড়ে, সেই বৃক্ষকেও বুঝতে হবে দাঁড়িয়ে থেকে বাধা হয়ে থাকলে চলবে না। বৃক্ষ যদি নিজে থেকে না বোঝে কুঠার ও করাত তো আছেই। ফিলিপাইনের ম্যানিলা নর্থ রোড সম্প্রসারণের কাজে বাধা দেয় ১ হাজার ৮০০-র চেয়ে বেশি গাছ। এগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করতে এগিয়ে আসে একদল বৃক্ষপ্রেমিক উন্নয়নদ্রোহী। উন্নয়নদ্রোহীদের সামলাতে কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ছাড় দেয়। তাতে ১০০টি বৃক্ষ বেঁচে যায়, পতিত হয় ১ হাজার ৭০০টি। এরপর ক্ষেপে উঠল নর্দার্ন ও সেন্ট্রাল লুজানের বৃক্ষদরদিরা। সেখানে দুই লেনের রাস্তা চার লেন করা হচ্ছে, ফলে রাস্তার পাশের গাছের ওপর উৎপাটনের হুমকি এসেছে। তাই উন্নয়নদ্রোহীরা রাস্তায় নেমেছেন, তারা গাছ কাটতে দেবেন না। বিষয়টি পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার প্যান্টালিয়ন আলভারেজ জনপ্রতিনিধিদের একটি দল নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এসে পার্লামেন্টে রুলিং দিয়েছেন!

রাস্তা থেকে গাছকে অবশ্যই সরে যেতে হবে

অবকাঠামো প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যবসায়ীরা অমনি কুঠার হাতে গাছের শরীরে কোপ বসিয়ে দিলেন। স্পিকার অবশ্য বললেন, গাছের বদলে গাছ লাগিয়ে দিতে হবে, বেশি লাগাতে পারলে আরো ভালো।

ম্যানিলার ম্যাগসেসে অ্যাভিনিউতে ২৩টি গাছ কাটা পড়েছে। তার পরই ছায়াবিলাসী নাগরিকরা মামলা ঠুকে দিলে আদালত গাছ অক্ষত রেখে উন্নয়নকর্ম সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছেন। নাগা সিটিতে জারি হয়েছে টেম্পোরারি এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন অর্ডার (টিইপিও), গাছ কাটা যাবে না।

অস্ট্রেলিয়ায় মোটর অ্যাকসিডেন্ট কমিশন (এমএসি) রাস্তার পাশের গাছ কেটে ফেলার সুপারিশ করেছে। গাছের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং জীবননাশের ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। ১৯ বছর বয়সী নিক এলরাইটের মৃত্যুর পর এমনকি বৃক্ষদরদিরা ধাক্কা খেয়েছেন। কেউ বলছেন, কিছু গাছ কাটা যেতে পারে, অন্যরা বলছেন বৃক্ষ এসে কোনো গাড়িতে ধাক্কা দেয়নি। কাজটা করেছেন গাড়ির চালক কিংবা ত্রুটিযুক্ত গাড়ি নিজেই। বরং মানুষকে গাছের সঙ্গে মানিয়ে চলা শিখতে হবে।

বেঙ্গালুরুর আন্দোলন: ১১২টি গাছ বাঁচান

জয়মহল রোড ঘেঁষে ইস্পাত ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প প্রণয়ন, টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ সব কাজই প্রায় শেষ। অ্যাপ্রোচের দিকে ১১২টি গাছ জয়মহল রোড চওড়া করতে কাটতে হবে।

প্রফেসর হারিনি নগেন্দ্র বললেন, এ তো কেবল শুরু, এখান থেকে ফ্লাইওভার করতে উৎপাটন করতে হবে ২ হাজার ২২৪টি গাছ। আন্দোলন শুরু হলো।

বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ক্ষুব্ধ আন্দোলনে। তাদের কথা: আন্দোলন উন্নয়নকে থামিয়ে দেবে। ফলাফল: ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল ফ্লাইওভার নির্মাণের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

উন্নয়নে মডেল: গাছ কাটুন পানি মারুন, রাস্তা করুন

এটা হচ্ছে কর্ণাটক মডেল— বৃক্ষদরদিদের দাবি। তারা মনে করেন, বৃক্ষনিধন অনেক প্রজাতির পাখি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। হেরন, জলকাক এবং তোতাও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। বৃক্ষনিধন পাখিকে ঘরছাড়া করে, পাখির ডিম নষ্ট করে, শাবকদের হত্যা করে। কর্ণাটকবাসীর দাবি— আমরা পাখি মারার উন্নয়ন চাই না, পাখির সঙ্গে বসবাস করতে চাই।

এ ঘটনাগুলো গত এক বছরের মধ্যে ঘটেছে। অ্যামাজনের কাপুর ইন্ডিয়ানরা কাঠ পাচারকারীদের ট্রাক পুড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিশোধ নিতে তারা কাপুরদের এলাকা ঘিরে বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে, গুলি করে হত্যা করেছে। ‘লগার’দের হাত থেকে গাছ রক্ষা করার জন্য তারা দিন-রাতের সশস্ত্র পাহারা বসিয়েছে। বৃক্ষঘাতক ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মিলেমিশে নাইজেরিয়াকে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে। গত কয়েক বছরে পেরু ও কঙ্গো বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে বৃক্ষ উৎপাটিত হচ্ছে, নগ্ন নিষ্প্রসবা ও নিষ্প্রাণ পৃথিবী প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ডে ইউনেস্কোর ন্যাশনাল হেরিটেজ ঘোষিত থাপ লেন ন্যাশনাল পার্ক উজাড় করে ফেলছে ক্ষমতাশালী বৃক্ষদস্যুরা। ইন্দোচীন বিস্তৃত অংশে সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি ও বৃক্ষদস্যুতায় প্রতিহতকারীদের ঠেকাতে ব্যবহূত হচ্ছে একে ৪৭ রাইফেল। নির্মাণ নিধনযজ্ঞ চলছে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়।

যে বিষ বৃক্ষ হরণ করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করত, তা এখন মানুষকেই গ্রহণ করতে হবে।

যারা কুটি কুটি কাটে পাতা

শামসুর রাহমানের চারটি পঙিক্ত মনের মধ্যে গেঁথে আছে:

যারা কুটি কুটি কাটে পাতা

তারা বটে পশু

তাদের আছে প্রাণ, সাক্ষী

জগদীশ বসু।

মানুষের পাশবিকতা কেবল কুটি কুটি করে পাতা কাটাতেই নয়, মানুষ বৃক্ষকে আরো অনেক যন্ত্রণা দিয়ে থাকে। যন্ত্রণার একটি ধরন ‘ট্রি স্পাইকিং’।

হাতুড়ি দিয়ে গাছে তারকাঁটা, পেরেক কি অন্য কোনো ধারালো ও ক্ষতিকর কিছু  ঢোকানোই হলো ‘ট্রি স্পাইকিং’। এতে গাছের স্বাভাবিক বিকাশ ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কিন্তু এসবের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত গাছটাকে মেরে ফেলা এবং তারপর গাছটির ওপর করাত চালানো। ঊনবিংশ শতকের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট অঞ্চলের জঙ্গলে এ চর্চার শুরু। স্পাইকিং করে গাছটাকে মরণাপন্ন করা। তারপর গাছটিকে দখলে নিয়ে কাঠের জন্য করাত কলে পাঠিয়ে দেয়া। হাজার হাজার গাছ ট্রি স্পাইকিংয়ের শিকার হয়েছে। ১৯৮৮ সালে ট্রি স্পাইকিং অপরাধ হিসেবে আইনে স্বীকৃত হয় এবং তা ফেডারেল অপরাধ হিসেবে আইনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

এমনিতেই ঢাকা কিংবা বাংলাদেশের শহরের রাস্তাগুলো বৃক্ষবিরল। আর স্বাস্থ্যবান বৃক্ষগুলো স্পাইকিংয়ের শিকার। আমরাও বৃক্ষ-নিপীড়ক জাতি।

অথচ নিষ্ফলা সময়ে বৃক্ষই যে শ্রেষ্ঠ আশ্রয়। আবারও শামসুর রাহমানের কাছে, তার ‘একটি কবিতার জন্য’ কবিতার পঙিক্তগুলো কি মনে পড়ে?

বৃক্ষের নিকট গিয়ে বলি,

n এরপর পৃষ্ঠা ১৫

 

দয়াবান বৃক্ষ তুমি একটি কবিতা দিতে পারো?

বৃক্ষ বলে আমার বাকল ফুঁড়ে আমার মজ্জায়

যদি মিশে যেতে পারো, তবে

হয়তো বা পেয়ে যাবে একটি কবিতা।

১৭৩০ সাল। রাজস্থানের অরণ্যাঞ্চলে আরো একটি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করতে হবে। জায়গাটা যোধপুরের জলনদী গ্রামে। মহারাজ অভয় সিং পাইক, পেয়াদা, বরকন্দাজ সব পাঠিয়ে দিলেন। অরণ্যসহ গ্রাম ঘেরাও হলো। অমৃতা দেবী জানের বৃক্ষ নিধনে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা আছে। মহারাজের বাহিনী যখন কুড়াল চালাচ্ছে, তিনি একটি বৃক্ষকে আঁকড়ে ধরলেন। মহারাজের লোকেরা তাকে হত্যা করল। এগিয়ে এলেন অমৃতার তিন কন্যা, নিহত হলেন তারাও। গ্রামবাসী বন কেটে রাজপ্রাসাদ বানাতে দেবে না। শেষ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬৩ জন।

মহারাজ অভয় সিং অনুতপ্ত হয়ে তার বাহিনী প্রত্যাহার করলেন এবং প্রাসাদ নির্মাণ পরিকল্পনাও বাতিল করলেন।

বৃক্ষ বাঁচাতে আরো শতবর্ষ আগে দুই নারী ও এক পুরোহিত নিহত হন। তবে অমৃতা দেবীই প্রথম খ্যাতিমান শহীদ।

গত শতকের সত্তরের দশকের চিপকো আন্দোলনও বৃক্ষ এবং পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন।

আপ্পিকো আন্দোলনও বৃক্ষ রক্ষার। আপ্পিকো মানে আলিঙ্গন। বৃক্ষকে আলিঙ্গন। বৃক্ষ বাঁচাতে হলে বৃক্ষকে আলিঙ্গনই করতে হবে। মৃত্যু যদি আসে অমৃতা দেবী যেভাবে তা বরণ করেছেন, মৃত্যুকে সেভাবেই বরণ করে নিতে হবে।

আপেল গাছ ও কৃষকের গল্প

একদা এক গ্রামে বনের পাশে এক কৃষক বাস করত। তার বেশ বড় একটা বাগান ছিল। বাগানে বিভিন্ন ধরনের গাছ ও ফুলের সমারোহ। একটা বুড়ো আপেল গাছও ছিল। কৃষক যখন শৈশবে, এই আপেল গাছটা ছিল তার খেলার সাথী। ছায়া তো দিয়েছেই, সুমিষ্ট আপেলও। গাছটা বুড়ো হয়ে একসময় ফল দেয়া বন্ধ করল। গাছ যখন আর ফল দিচ্ছে না কৃষক ভাবল এটা রেখে আর কাজ কী? তার চেয়ে বরং গাছটা কেটে ফেলে ছোট ডালপালা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলেই তো হয় আর বড়গুলোয় চমত্কার কাঠ হবে, মনের মতো আসবাব বানানো যাবে। সে ভুলে গেল যে শৈশবে এ গাছে চড়েছে, আপেল খেয়েছে, গাছের সঙ্গে মধুর সময় কেটেছে। মানুষ কি এমনই হয়! এ গাছ ছিল চড়ুই, কাঠঠোকরা ও অন্যান্য পাখির ঘরবাড়ি।

কৃষক যখন আপেল গাছের গোড়ায় কুড়াল মারল এবং গাছটা কাটতে শুরু করল ভীত ও অসহায় প্রাণীগুলো এক এক করে বেরিয়ে এল এবং কৃষককে ঘিরে বিনয়ের সঙ্গে বলল, দয়া করে গাছটা কাটবেন না। আপনি যখন ছোট ছিলেন আমরা আপনার সঙ্গে এই গাছের নিচে খেলতাম। এটাই তো আমাদের বাড়িঘর। আমাদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

কিন্তু কৃষক গো ধরেছে, গাছ কাটবেই। কাঠবিড়ালি বলল, আমার আর আমাদের বাচ্চাদের বাড়িটা ধ্বংস করে দেবেন না।

ছোট পাখিরা কেঁদে কেঁদে বলল, এটাই তো একমাত্র ঘর। ভাঙবেন না প্লিজ।

ফড়িংরা এসে বলল, আপনি এই আপেল গাছ কাটতে পারেন না, এটা আমাদের।

কৃষক তার শৈশব এবং এই ছোট্ট প্রাণী-বন্ধুদের কথা ভুলে গেছে। সে গাছের গোড়ায় আবার কুড়াল চালায়। ছোট্ট প্রাণীগুলো মরিয়া হয়ে ওঠে এবং যেকোনো মূল্যে আপেল গাছটি রক্ষা করার চেষ্টা করল।

তারা বলল, হে কৃষক আপনি যখন মাঠে কঠোর পরিশ্রম করবেন, ক্লান্ত থাকবেন আমরা আপনাকে গান শোনাব, আমরা আপনার বাচ্চাটাকে দেখেশুনে রাখব, সে কাঁদবে না, আমাদের নিয়ে আনন্দে থাকবে।

এসব কথা কৃষকের কানে ঢুকল না, তাদের কান্না তার মনে এতটুকু দয়া সৃষ্টি করল না। কৃষক আরো জোরে কুড়াল চালাল।

হঠাৎ চকচকে কিছু একটা তার চোখে পড়ল। এটা তো মৌচাক, চাকভর্তি মধু। আঙুলে একটু মধু লাগিয়ে মুখে দিল। মিষ্টি মধু তার ভেতরের শিশুটাকে জাগিয়ে তুলল, একের পর এক শৈশবের স্মৃতি এসে জড়ো হলো। মধুটা এত মিষ্টি! আরো একটু মধু এনে খেয়ে নিল। খুশিতে মনটা ভরে গেল। অবাক হয়ে বলল, আহ, কী মজা!

কৃষকের মনের ভেতর একটা বদল ঘটে গেছে, এটা টের পেয়ে মৌমাছি বলল, আপনি যদি গাছটা না কাটেন, তাহলে যত মধু চাই আমরা আপনাকে দেব।

কাঠবিড়ালি বলল, আমি যত বাদাম পাব, তার অর্ধেক অবশ্যই আপনাকে দেব।

গানের পাখিরা বলল, আমরা গান গেয়ে আপনাকে ঘুম পাড়াব, গান গেয়ে আপনাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলব।

শেষ পর্যন্ত কৃষক বুঝতে পারল, তার কাজটা আসলে ঠিক হচ্ছে না। সে কুড়াল নামিয়ে রাখল। কৃষক বুঝতে পারল, তার যেমন বাড়িঘর আছে, এ গাছটাও তো কতগুলো সুন্দর প্রাণীর বাড়িঘর। এ প্রাণীগুলো যদি না থাকে, তাহলে তার ছোট্ট সন্তানটি এ আনন্দ কোথায় পাবে? সন্তানের জন্য কৃষক আনন্দের শৈশব চাইল।

বুঝতে পারল, তাহলে গাছটির প্রয়োজনীয়তা ফুরোয়নি। আপেল হয় না তাতে কী। কৃষকের ভেতরে জেগে ওঠা ছোট্ট বালকটি তাকে বদলে দিল। কৃষক প্রতিজ্ঞা করল, আর কখনো গাছ কাটার কথা বলবে না। ছোট্ট প্রাণীগুলো তাকে ধন্যবাদ দিল। তারা বিশেষ করে মৌমাছিকে ধন্যবাদ জানাল। কারণ মৌমাছিই কৃষককে তার শৈশবে নিয়ে গেছে। শৈশব জাগিয়ে দিয়েছে তার ভেতরের ভালো মানুষটিকে। তারপর সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে, কৃষকও ভাবে আর একটু হলেই সর্বনাশ হয়ে যেত।