লাতিন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি নিকানর পার্রা। জন্ম ১৯১৪ সালে চিলেতে। ১০৩ বছরের সুদীর্ঘ জীবনের ইতি টানলেন গেল ২৩ জানুয়ারি। বিজ্ঞানের ছাত্র ও গণিতবিদ কবি নিকানর পার্রা লাতিন আমেরিকান কবিতায় ‘Anti Poetry’ নামে এক ব্যতিক্রমী, বিদ্রোহী ধারা সূচনা করেছিলেন। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতবাদের বিশ্বাসী না হয়েও সব ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় শোষণের প্রতিবাদে সর্বদা উচ্চকণ্ঠ নিকানর পার্রা শিল্পের প্রতি তার দুর্মর অঙ্গীকারের কথা কখনো ভোলেননি। শিল্প ও সমাজ চেতনার সুষম মিশ্রণের এক অনন্য, নান্দনিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে নিকানর পার্রার কবিতা
নিকানর পার্রা’র কবিতা
অনুবাদ: আলম খোরশেদ
মুদ্রাস্ফীতি
রুটির দাম বাড়ে তাই রুটির দাম বাড়ে
ভাড়া বাড়ে
ফলে আর সব ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ হয়
কাপড়ের দাম বাড়ে
ওতে কাপড়ের দাম বাড়ে পুনরায়।
বেরোনোর কোনো পথ নেই
আমরা একটা দুষ্ট বৃত্তে আটকা পড়ে গেছি।
অবশ্য খাঁচার ভেতরে খাবার রয়েছে।
বেশি নয়, তবু তো খাবার।
বাইরে কেবল বিশাল স্বাধীনতা।
সোনাঝুরি
বহু বছর আগে
সোনাঝুরি ফুলে ছাওয়া এক রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে
সবজান্তা এক বন্ধুর কাছে জেনেছিলাম
তুমি বিয়ে করেছ সদ্য।
আমি বলেছিলাম আমার তাতে কী।
আমি তোমাকে ভালোবাসিনি কখনই
- এ কথা আমার চেয়ে ভালো জানো তুমি-
তবু প্রতি বছর যখন সোনাঝুরি ফোটে
- তোমার বিশ্বাস হয়? -
সেই একই অনুভূতি আমাকে গ্রাস করে
যেমন করেছিল সেদিন, যখন তারা
সেই হূদয়ভাঙা খবরটি দিয়েছিল আমাকে,
আরেকজনকে বিয়ে করেছ তুমি!
কবিতা বিষয়ক
১.
অর্ধ শতাব্দী ধরে
কবিতা ছিল
বোকার স্বর্গ।
তারপর আমি এসে বানালাম
আমার নিজস্ব নাগরদোলা।
ইচ্ছে হলে তোমরা চড়তে পারো
নাকে মুখে রক্ত নিয়ে নেমে এলে
আমার দোষ দিতে পারবে না।
২.
কবির কাজ
শাদা কাগজের সৌন্দর্য বাড়ানো
আমার মনে হয় না সেটা সম্ভব।
৩.
তরুণ কবি
তোমার যা বলার ইচ্ছা বলবে
বেছে নাও নিজস্ব স্টাইল
পুলের নিচ দিয়ে অনেক রক্ত গড়িয়ে গেছে
এটাই প্রমাণ করতে, আমি বিশ্বাস করি,
যে রাস্তা পেরোনোর পথ একটাই:
কবিতায় তুমি যা খুশি তা করতে পারো।
৪.
শিল্পকলাকে ব্যক্তিগত খাতে দেয়া ঠিক নয়
সেটা পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণশিল্পকে
ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার শামিল
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য
এর চেয়ে ক্ষতিকারক আর কিছু হতে পারে না
সবার আগে আসা উচিত আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য
যেমন ধরুন
কবিতা একটি জাতিকে ধ্বংস
করে দিতে পারে
তাই তাকে সাবধানে ব্যবহার করা উচিত
হোসে সিলভার ‘রাত্রি বিষয়ক’ কবিতার কথা মনে পড়ে
আত্মহত্যার ধুম লাগিয়ে দিয়েছিল যা
অথবা নেরুদার সেই কুড়ি নম্বর কবিতা।
কবিতাকে রাষ্ট্রীয় রেলরোড
অথবা শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের মতো
জনহিতকর হতে হবে,
শিল্পের স্বাধীনতা নিছক কল্পনাবিলাস।






