[১৯৬২, ১৯৬৬ এবং ২০০৯-এর তিনটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ]

রেডিও সাক্ষাৎকার

নিউইয়র্ক রেডিও স্টেশনের ‘ফোকসিঙ্গার্স চয়েস’ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের নিয়মিত উপস্থাপক সংগীতশিল্পী সিনথিয়া গুডিং; তিনি সাক্ষাৎকারও নিয়ে থাকেন। ১১ মার্চ ১৯৬২ এফএম রেডিওতে প্রচারিত বব ডিলানের এক ঘণ্টার অনুষ্ঠান। সিনথিয়া এবং বব ডিলান হালকা চালে কথা বলেছেন, বব ডিলান কথার ফাঁকে ফাঁকে ১১টি গানও গেয়েছেন (কিংবা গানের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলেছেন)। বব ডিলান সিনথিয়ার সঙ্গেও একই অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। বব ডিলানের হাতে গিটার, মুখের কাছে হারমোনিকা, কণ্ঠে গান।

সিনথিয়া: ... বব ডিলান, বেশতো, আপনার বয়স তো এখন কুড়ি বছর, তাই না?
বব ডিলান: হ্যাঁ, আমি অবশ্যই কুড়ি।

সিনথিয়া: সত্যিই?
বব ডিলান: হ্যাঁ, আমি এখন কুড়ি।

সিনথিয়া: তিন বছর আগে আমি যখন প্রথম আপনার গান শুনি মিনিয়াপোলিসে তখন আপনি রক’এন রোল গায়ক হতে চেয়েছেন?
বব ডিলান: সে সময় আমি আসলে তেমন কিছুই করছিলাম না।

সিনথিয়া: না, আপনি পড়াশোনা করছিলেন।
বব ডিলান: আসলে আমি কাজ করছিলাম তবে এমন ভান করতাম যেন আমি স্কুলে যাচ্ছি। আমি সাউথ ড্যাকোটা থেকে ওখানে গিয়েছিলাম।

(বব ডিলান গ্যাসলাইট ও হোয়া-তে গান গাইতেন, হারমোনিকা বাজাতেন)

সিনথিয়া: আপনি ওখানে গান গাইতেন আমি তো জানতাম না।
বব ডিলান: হ্যাঁ, বিকেলবেলা গাইতাম। আর যারা গাইত তাদের জন্য হারমোনিকা বাজাতাম। দুপুর দুটো থেকে রাত সাড়ে আটটা। আমাকে দিত এক ডলার আর একটা চিজ বার্গার।

সিনথিয়া: পুরু বার্গার না চিকন?
বব ডিলান: সে দিনগুলোতে দরদাম করতে পারতাম না।

সিনথিয়া: আপনি যখন থেকে গান গাইছেন তখন থেকে গান লিখেও চলেছেন?
বব ডিলান এর উত্তরে হ্যাঁ ও না দুটোই বললেন। প্রথম দিকেরগুলো ছিল মূলত অনুকরণ। কার্নিভালে দেখা এক নারীকে নিয়ে গান লেখার কথা বললেন। রেডিওতে সেদিন তাঁর গাওয়া দশম গানটি ছিল ‘বেবি প্লিজ ডোন্ট গো,’ তার পর গাইলেন ‘হার্ড টাইমস ইন নিউইয়র্ক’।

শেষ গানটির পর সিনথিয়া বললেন: খুব চমৎকার গান। আপনারা এতক্ষণ বব ডিলানের নিজের এবং তাঁর কণ্ঠে অন্যের কাছ থেকে লেখা কিছু গান শুনলেন। সকালে আমাদের জন্য আপনাকে এতটা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি যখন বিখ্যাত হবেন তখনো কি ওই হ্যাটটা পরবেন?
বব ডিলান: না, আমি কখনো বিখ্যাত আর বিত্তশালী হতে পারব না।

সিনথিয়া: আপনি মাথা থেকে এই হ্যাট নামাবেনও না?
বব ডিলান: না।

এই সাক্ষাৎকারের পর বব ডিলানকে নিয়ে একটি কার্টুন ছাপা হয়— যার ক্যাপশন ‘আমি কখনো বিখ্যাত হব না।’

 প্লেবয় সাক্ষাৎকার

প্রশ্ন: কবিদের ব্যাপারে কী বলবেন? আপনি একবার স্মোকি রবিনসন সম্পর্কে কিছু বলছিলেন...
বব ডিলান: আমি আসলে স্মোাকি রবিনসন বোঝাতে চাইনি। আমি বলতে চেয়েছি আর্তুর র‌্যাবো। কেমন করে যে স্মোকি রবিনসন আর্তুর র‌্যাবোর সঙ্গে ওলটপালট হয়ে গেল (হেসে উঠলেন), তবে আমি তাই বলেছি।

প্রশ্ন: অ্যালেন গিন্সবার্গের সঙ্গে বেশ দেখা হয়?
বব ডিলান: মোটেও না, একেবারেই না।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন আপনার গীতিকার হয়ে ওঠাতে তাঁর প্রভাব রয়েছে?
বব ডিলান: আমি মনে করি একটি নির্দিষ্ট সময় তিনি আমাকে প্রভাবিত করেছেন। তা হচ্ছে, ‘ডেজোলেশন রো’ পর্ব, নিউইয়র্ক ধাঁচের সময়ের যখন সব গানই নগর গীতি বা সিটি সংস। তাঁর কবিতা শহুরে কবিতা, শহরে শোনায়।

প্রশ্ন: কোনো কোনো সমালোচকের মতে জ্যাজ তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেদন হারিয়ে ফেলেছে, আপনি কি একমত পোষণ করেন?
বব ডিলান: আমার মনে হয় না কখনো তরুণ প্রজন্মের কাছে জ্যাজের আবেদন ছিল। আসলে কোনটা যে তরুণ প্রজন্ম আমি তাও জানি না। আমি মনে করি না তাদের জ্যাজ ক্লাবে প্রকৃত প্রবেশাধিকার আছে। জ্যাজ অনুসরণ করা খুবই কঠিন। জ্যাজ ভালোবাসলে একে অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু আমার লক্ষ্য কোনো কিছুকে অনুসরণ না করা। তরুণ প্রজন্মের লক্ষ্য কী তা আমার জানা নেই। তবে আমি মনে করি তাদের উচিত মা-বাবাকে অনুসরণ করা। (দীর্ঘ জবাবে বব ডিলান বলেছেন), জ্যাজের দোহাই দিয়ে ফ্যাশনে গা না ভাসিয়ে তাদের উচিত বাস্তবধর্মী কাজ করা, তাহলে মা  বলতে পারবে আমাদের ডোনাল্ড এই তরুণ প্রজন্মের একজন।

প্রশ্ন: আপনি এক সময় বলেছেন, যতটা কম সম্ভব পারফর্ম করবেন। অধিকাংশ সময়টুকু নিজের জন্য রখতে চান। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে আপনি আরো বেশি কনসার্ট করছেন, প্রতি বছর রেকর্ড বিক্রিও বেড়ে চলেছে, কেন? এসব কি টাকার জন্য?

বব ডিলান: আগে যে অবস্থা ছিল এখন সবকিছু বদলে গেছে। গত বসন্তে আমি ভেবেছি গান ছেড়ে দেব। যখন আমি গাইলাম ‘এভরিবডি লাভস ইউ ফর ইউর ব্ল্যাক আই’ তখন যেভাবে পরিস্থিতি প্রতিকূলে যাচ্ছিল— আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। ... আমি এমন কিছু গান গাইলাম যা আমি মোটেও গাইতে চাইনি। এমন কিছু শব্দ ছিল যা আমি উচ্চারণ করতে চাইনি— ‘গড’ ‘মাদার’ ‘প্রেসিডেন্ট’ ‘সুইসাইড’— এ ধরনের শব্দ নয়, সহজ শব্দ ‘ইফ’ ‘হোপ’ ‘ইউ’। কিন্তু যখন ‘রোলিং স্টোন’ গাইলাম, সব বদলে গেল। এরপর আমি বই কিংবা কবিতা লেখা কিংবা অন্য কোনোকিছু নিয়ে কারো কথায় কান দিইনি। (তিনি টাকা-পয়সার ব্যাপারটি এড়িয়ে গেছেন।)

প্রশ্ন: সম্প্রতি আপনাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘গান পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারে না।’ তার মানে আমরা ধরে নিতে পারি শিল্পী পিট সিগারের সঙ্গে আপনি একমত নন যে, গান মানুষকে বদলাতে পারে, আন্তর্জাতিক সমঝোতা সৃষ্টি করতে পারে।
বব ডিলান: আন্তর্জাতিক সমঝোতার ব্যাপারটি ঠিক আছে। ... কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না কোনো না কোনোভাবে গান মানুষকে বদলাতে পারে।...

প্রশ্ন: সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার বাধ্যতামূলক আদেশ ড্রাফট কার্ড পুড়িয়ে যারা ভিয়েতনামে আমেরিকার সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করে কারারুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করেছে, তাদের ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন? যুদ্ধ ও গোলাবারুদের পেছনে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের প্রতিবাদ জানাতে আয়কর না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনার বন্ধু জোন বায়েজ। আপনি কি মনে করেন এ কেবল সময় নষ্ট করা?
বব ডিলান: ড্রাফট পুড়ে ফেললে তো আর যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না। এতে কারো জীবন রক্ষা পাওয়ারও কথা নয়। কেউ যদি সততার সঙ্গে ড্রাফট কার্ড পোড়ে তাহলে বেশ, কিন্তু নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার জন্য কেউ যদি ড্রাফট কার্ড পোড়ে তাহলে এটা শঠতা। আর আমি সত্যিই জোন বায়েজের ইনকাম ট্যাক্স সমস্যার কথা জানি না। জোন বায়েজ সম্পর্কে আমি একটি মাত্র কথা বলতে পারি, তিনি বেলে স্টার নন (বেলে স্টার উনিশ শতকের আইন অমান্যকারীদের অন্যতম)।

প্রশ্ন: আপনি প্রথম বছরেই কলেজ ছেড়ে দিয়েছেন। মনে হয় স্কুলের পড়াশোনা সম্পর্কে আপনার হীন ধারণা— তা পাঠ্যবিষয় যা-ই হোক।
বব ডিলান: এ নিয়ে আমি আসলে ভাবিনি।

প্রশ্ন: বেশ, আপনি যে কলেজের পড়া শেষ করতে পারেননি এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি?
বব ডিলান: থাকলে সেটা খুব হাস্যকর হতো। কলেজ হচ্ছে বৃদ্ধনিবাসের মতো। তবে তফাত বৃদ্ধনিবাসের চেয়ে কলেজে বেশি লোক মারা যায়। ... স্কুল শিক্ষার্থীদের বিদ্রোহী ও উকিল হতে শেখায়। আমি স্কুল বন্ধ করতে চাই না, এটা খুব ছেলেমি হবে। আসলে স্কুলে শিখবার তেমন কিছু নেই। কলেজ আমেরিকার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠান। সবাই সম্মান করে। এখানে যারা পড়ে তারা খুব ধনী ও প্রভাবশালী। সবাই জানে বেঁচে থাকার জন্য তাদের কিছু করতে হয় না।

(বব ডিলান মনে করেন না কলেজশিক্ষা জীবনকে সমৃদ্ধ করে— অন্তত তাঁর জীবনকে নয়।)

হাফিংটন পোস্ট সাক্ষাৎকার

প্রশ্ন: আপনি কি প্রচুর গান শোনেন?
বব ডিলান: হ্যাঁ, কখনো কখনো।

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় গীতিকার কারা?
বব ডিলান: বাফেট (জিমি), লাইটফুট (গর্ডন), ওয়ারেন জেভন, র‌্যান্ডি (নিউম্যান), জন প্রাইন, গাই ক্লার্ক— এ ধরনের গীতিকার।

প্রশ্ন: (জিমি) বাফেটের কোন গান আপনার পছন্দের?
বব ডিলান: ‘ডেথ অব অ্যান আনপপুলার পোয়েট’, আরও একটি ‘হি ওয়েট টু প্যারিস’।

প্রশ্ন: গর্ডন লাইটফুটের কোন গান?
বব ডিলান: ‘শ্যাডোজ’, ‘সালডাউন’, ‘ইফ ইউ কুড রিড মাই মাইন্ড’— আমার পছন্দ নয় লাইটফুটের এমন কোনো গানের কথা মনে করতে পারছি না।

প্রশ্ন: আপনার প্রজন্মের অনেকেরই স্মৃতিকাতরতা নস্টালজিয়া নিয়ে কারবার। তারা একই গান একইভাবে ৩০ বছর ধরে গাইছেন। আপনার বেলায় তা ঘটছে না কেন?

বব ডিলান: আমি চেষ্টা করলেও পারব না। আপনি যাদের কথা বলছেন তাদের সবারই দেখাবার মতো হিট গান রয়েছে। তাদের শুরুটা ছিল প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা দিয়ে আর এখন তারাই পৃথিবীর অধিকর্তার দায়িত্বে। উদযাপনের গান, উদযাপিত হওয়ার মতো গান, গ্র্যান্ড ডিনার পার্টির গান। মূলধারার গান সংস্কৃতিতে সর্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করে। আমার গান তাদের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আমারগুলো আরো মরিয়া হয়ে ওঠা গান। ড্যালট্রি, টাউনসহেন্ড, ম্যাককার্টনে, বিচ বয়েস, এলটন জন, বিলি জোয়েল— তারা বিশুদ্ধ নিখুঁত রেকর্ড করেছেন— তাদের তাই নিখুঁতই গাইতে হয়— যেভাবে মানুষ মনে রেখেছে। আমার রেকর্ড কখনো নিখুঁত হয়নি। কাজেই এর ডুপ্লিকেট তৈরি করে লাভ নেই। যাই হোক, আমি তো মূলধারার শিল্পী নই।

প্রশ্ন: তাহলে আপনি কোন ধরনের শিল্পী?
বব ডিলান: আমি নিশ্চিত নই। হতে পারে বায়রনীয় ধারার (বায়রনেস্ক)। দেখুন, আমি যখন গান গাইতে শুরু করি তখন মূলধারার সংস্কৃতি মানে ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা, পেরি কোমো, অ্যান্ডি উইলিয়ামস, সাউন্ড অব নিউজিন (রবার্ট ওয়াইজের গাননির্ভর সিনেমা, ঢাকায় প্রদর্শিত হয়েছে সত্তরের দশকে, রবার্ট ওয়াইজও ঢাকায় এসেছিলেন)। সেখানে আমার গান জুতসই হয়নি। এখনো ঠিকভাবে খাপ খায় না। আমার কিছু গান এ বাধা ডিঙিয়ে গেছে, কিন্তু সেগুলো গেয়েছেন অন্য শিল্পীরা।

প্রশ্ন: আপনি কি নিজেকে এই ধারায় স্থাপন করতে চেষ্টা করেছেন?
বব ডিলান: সত্যি বলতে করিনি। আমি এসেছি সংগীতের লোকধারা থেকে। এর আদি নান্দনিক সৌন্দর্য ও দেশীয় রূপ উপভোগের অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। লোকগানের চলত্শক্তি ও গতিময়তা এখানেই। আমি চাইলেও ব্রিল বিলভিংয়ের জন্য লোকগান লিখতে পারব না। গপগানের জন্য যা চলে এসেছে তা আমি তখনো করতে পারিনি, এখনো পারি না।

প্রশ্ন: তার মানে কি এই যে, আপনি ‘আউটসাইডার আর্ট’ সৃষ্টি করে চলেছেন? আপনি কি নিজেকে ‘কাল্ট ফিগার’ মনে করেন?
বব ডিলান: যখন কাল্ট ফিগার বলবেন এর একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও মানে থেকে যায়। এটাকে গোত্রীয় ধরনের এবং দলাদলির ক্ষেত্র বলে মনে করা হয়। মানুষের আবেগের বিভিন্ন ধরনের স্তর রয়েছে— বিশেষ করে যখন কেউ তরুণ। পেছন ফিরে মনে হয় আমার অধিকাংশ প্রভাব ক্ষ্যাপাটে ধরনের। গণমাধ্যম আমার কাছে তেমন পৌঁছাতে পারেনি— আমি পাশ দিয়ে যাওয়া ‘ট্র্যাভেলিং পারফরমার’ রয়ে যাই। আমাকে অনেকভাবে দেখা হয়— সাইড শো পারফরমার, ব্লু গ্রাস সিঙ্গার, ব্ল্যাক কাউবয়, মিস ইউরোপ, কোয়াসিমোদো, দাড়িওয়ালা নারী, অর্ধেক নর অর্ধেক নারী, এটলাস  দ্য ডোয়ার্ক, দ্য ফায়ার ইটার্স, টিচার্স অ্যান্ড গ্রিচাস, বিকৃত ও বঙ্কিম— কতকিছু। মনে হয়— এই তো গতকাল। আমি তাদের অনেকের সঙ্গে মিশেছি। আমি তাদের কাছে আত্মমর্যাদার বিষয়টি শিখেছি। স্বাধীন হওয়াও। মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার এসব বিষয়ও। কেমন করে নিজের ভেতর আবদ্ধ থাকা! প্রায় সবাই চড়ে বসেছে, ঘূর্ণিপাকের দিকে ঝুঁকেছে, রোলার কোস্টারে আসন নিয়েছে। আমার কাছে এসব দুঃস্বপ্নের মতো। এসব মাথা ঘুরিয়ে দেয়। এসব কৃত্রিম জীবনের ওপর বড় হাতলওয়ালা ভারী হাতুড়ি। আমার কাছে এসবের মানে নেই। এগুলো সত্য মনে হয়নি। বড় রাস্তায় নেমে যা কিছু পেয়েছি তাতেই বাস্তবতার শক্তি— আমাকে অন্তত এভাবেই তা স্পর্শ করেছে। আমি যখন বাড়ি ফিরে আসি সেই অনুভূতিটি অপরিবর্তিত থেকে যায়।

প্রশ্ন: কিন্তু আপনার তো ১০ কোটিরও বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে!
বব ডিলান: হ্যাঁ, এটা তো আমার কাছেও রহস্যজনক মনে হয়।

            (সাক্ষাৎকারটি ২০০৯ সালের)