আবুল মনসুর আহমদ বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের অকুতোভয় এক যোদ্ধার নাম। উপমহাদেশে অনেকবার উচ্চারিত হয়েছে এ নামটি। তার স্বাতন্ত্র্য আমাদের কাছে এসেছে নানাভাবে। কখনো রাজনীতির মঞ্চে, কখনো সংবাদপত্রে, কখনো সাহিত্যে-স্যাটায়ারিস্ট ও প্রবন্ধের চিন্তানায়ক হিসেবে। আইনজীবী হিসেবেও নামটি সুপ্রিয়। জীবনের শুরুতে বাঙালি মুসলমানের চেতনায় উন্মেষ যুগকে দেখেছেন, যৌবনে উপমহাদেশের স্মরণীয় আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থেকেছেন, পরিণত জীবনে সংবাদপত্রের সঙ্গে থেকে নানা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বোপরি একজন জীবনশিল্পীর চোখে চারপাশ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।

তার জীবনকাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সে সময়ে অনেক শিক্ষিত মুসলমানের মতোই তিনি ছিলেন বাংলার আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যময় পটভূমির সন্তান। স্বভাবতই দুই স্রোতে অবগাহন তার জন্য ভবিতব্যই হয়ে ওঠে। মেধার বিকাশ ঘটান প্রধানত সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও রাজনীতির ত্রিধারায়। তবে সাহিত্য ছিল তার রক্তে। হয়তো তাই এর প্রকাশ পায় কৈশোর-তারুণ্যে।

আর কালের বিচারে সম্ভবত অন্য সব পরিচয় ডিঙিয়ে একমাত্র সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদই যেন সর্বোপরি অধিষ্ঠিত নাম, আজকের যেমন তেমনি অনাগত কালের জন্যও। মননশীলতার বিচারে আবুল মনসুর আহমদ নামের যে বটবৃক্ষ— সময়ের মধ্য থেকে সব সহজযোগ নাগালে থাকা সত্ত্বেও সময়ের অনাচারের বিরুদ্ধে, অবিচল বটের মতো স্থির ছিলেন। সম্প্রদায়ের প্রতি প্রত্যক্ষ ও উচ্চকিত হূদ্যতা থাকা সত্ত্বেও অসাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের বক্তব্যটি উল্লেখযোগ্য: পরশুরাম হিন্দু দেবদেবী নিয়ে অনেক কিছু বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায় তা সহ্য করেছে। আবুল মনসুর আহমদের দুঃসাহস সেদিন সমাজ সহ্য করেছিল। আজ কোনো সম্পাদক এমন গল্প ছাপতে সাহস করবে কিনা এবং সমাজ তা সহ্য করবে কিনা, সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে। আবুল মনসুরের আক্রমণের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি, ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়। তার বিদ্রোহ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।’

অন্যদিকে রাজনৈতিক হিসেবে দেখলে নন্দিত এ লেখক নেতাজি সুভাষ বসুর অনুরক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে আবুল মনসুর কংগ্রেস আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। মূলত তিনি কৃষক-প্রজা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খাঁর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ছয়দিন ওই দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুপস্থিতিতে অল্প কিছু দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর স্থলাভিষিক্তও ছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ্য দল থেকে শুরু করে সুভাষ বসুর আকর্ষণে কংগ্রেস, পাকিস্তান আন্দোলন, কৃষক প্রজা পার্টি, মুসলিম লীগ এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগ গঠনে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও হাস্যরসাত্মক লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। সাহিত্যের সেই দিকটা তিনি বেছে নিয়েছিলেন, যেটা ছিল সবচেয়ে কঠিন— ব্যঙ্গ সাহিত্য। সাহিত্যের অন্যান্য আঙিনায়ও স্বচ্ছন্দে পদচারণা করেছেন তিনি। যে অঙ্গনেই তিনি কাজ করেছেন, সেখানেই শীর্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ব্যঙ্গ সাহিত্যে বলতে গেলে উভয় বঙ্গে তিনি ছিলেন উল্লেখযোগ্য। তার প্রতিটি স্যাটায়ারই কালোত্তীর্ণ। সমাজপতি, ধর্মগুরু, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী— যেখানেই তিনি দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছেন, সেখানেই লেখনীর মাধ্যমে কশাঘাত করেছেন। তার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের রসাঘাত কশাঘাতে পরিণত হয়ে সমাজকে পরিশোধিত করত। এ আঘাত ক্ষয়িষ্ণু সমাজের অবক্ষয়িত মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠানকেই আক্রমণ করেনি, যারা এসব প্রসঙ্গ নিয়ে মিথ্যার জাল বুনে বেসাতি করতেন, তাদেরকেও নাস্তানাবুদ করেছে। এসব রচনার পাঠকদের মনে হবে চরিত্রগুলো সবই চেনা, এদের কার্যকলাপও জানা।

অনায়াসেই বলা যায়, আবুল মনসুর আহমদ সমকাল, সমাজ, জনগণ ও রাজনীতিসচেতন গল্পকার। সমাজের অতিনিকটে কথকের বসবাস। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় হেঁটে চলায় নানা অনুঘটনা ভিড় করেছে তার অভিজ্ঞতার ডালিতে। আর খোলা চোখে দেখা ঘটনাপুঞ্জ ও চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে তার সাহিত্যকর্মে। এক্ষেত্রে ‘আয়না’ গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য। ‘আয়নার ফ্রেম’ নামক ভূমিকায় নজরুল ইসলাম স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন, ‘এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায়। কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে সমস্ত মানুষ হরেক রকমের মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ মূর্তি মন্দিরে, মসজিদে, বক্তৃতার মঞ্চে, পলিটিকসের আখড়ায়, সাহিত্য সমাজে বহুবার দেখেছি বলে মনে হচ্ছে।’

খ.

আবুল মনসুর আহমদ ১৯৪৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রেনেসাঁ সম্মেলনে কলকাতায় সভাপতির ভাষণ ছাড়াও অনেক লেখায় আঞ্চলিক বুলিকে সাহিত্যের ভাষা করতে চেয়েছেন। এটা তার আঞ্চলিক প্রীতির নমুনা হতে পারে, কিন্তু আঞ্চলিক বুলিই ভাষাশৈলীর অন্যতম উপাদান, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। আংশিক হলেও সত্য তার ভাবনা দূরবর্তী দিগন্তে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে। অর্থাৎ গতানুগতিক দেয়াল টপকে বাইরে যেতে চেয়েছেন বরাবরই। আবুল মনসুর মাতৃভাষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও গতানুগতিক চিন্তা থেকে কিশোর বয়সেই স্কুলে বাংলায় মিলাদ পড়ানোর নিয়ম চালু করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে ড. রফিকুল ইসলামের একটি বক্তব্য উল্লেখ করা যেতে পারে, ‘একুশে ফেব্রুয়ারিকে আবুল মনসুর আহমদ একুশ দফাতে পরিণত করেছিলেন। তাঁর সৃষ্টিশীল প্রয়াস স্বাধীনতা আন্দোলনের দানা বেঁধে ওঠার পেছনে অবদান রেখেছে। আমরা জাতীয়তাবাদের একটা মহান চেতনা তাঁহার কাছ থেকে পেয়েছি। সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক হিসেবে মরহুমের লেখনীকে আমাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে পেতে হবে।’

‘আয়না’, ‘হুযুর কেবলা’, ‘নায়েবে নবী’র মতো রম্য গল্পের জন্যই লেখক হিসেবে তিনি অনেকের কাছে নমস্য। বর্তমান সময়ে মৌলবাদের থাবায় যখন আতঙ্কিত মুক্তচিন্তার মানুষ, তখন থেকে বহু বছর আগে তিনি এ ধরনের গল্প লিখে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। আজকের দিনে ধর্মের ব্যাপার নিয়ে এভাবে কল্পনা করাও অসম্ভব। কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বহু আগেই তথাকথিত আলেমদের দ্বারা কাফের আখ্যায় চিহ্নিত হয়েছেন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, ‘আবুল মনসুর আহমদ বাংলাদেশের স্যাটায়ার রচনার ক্ষেত্রে তিনি যে পূর্ব বাংলার পরশুরাম, এ সম্পর্কে বোধ করি কেউ দ্বিমত হবেন না।’&dquote;&dquote;

স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রবক্তা হিসেবে দেখলে দেখা যায়, রক্ষণশীল মুসলমান সমাজ চিত্রশিল্পের বিরোধিতা করলেও সে সময়ে অনেক প্রগতিপন্থী বুদ্ধিজীবী দৃঢ়ভাবে এ শিল্প মাধ্যমের সমর্থন জানান। কাজী নজরুল ইসলাম গোঁড়া রক্ষণশীল সমাজপতিদের উদ্দেশে লেখেন,

‘আজ বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে একজনও চিত্রশিল্পী নাই, ভাস্কর নাই, সঙ্গীতজ্ঞ নাই, বৈজ্ঞানিক নাই, ইহা অপেক্ষা লজ্জার আর কি আছে? এই সবে যাহারা জগৎ প্রেরণা লইয়া আসিয়াছিল, আমাদের গোঁড়া সমাজ তাহাদের টুঁটি চাপিয়া মারিয়া ফেলিয়াছে ও ফেলিতেছে। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের সমস্ত শক্তি লইয়া যুঝিতে হইবে।’

কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল চিত্রশিল্পের পক্ষে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন। তার ‘চৌচির’ (১৯৩৪) উপন্যাসের নায়ক তসলীমের যে ভাবনা, সেখানে চিত্রশিল্পের প্রতি সমর্থন আছে। এ বিষয়ে আবুল মনসুর আহমদের বক্তব্য, ‘মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও ভাবধারা প্রকাশে চিত্রশিল্প এমন উত্তম বাহন, তাহা কি মানুষের ধর্ম ইসলাম হারাম করিতে পারে? মানুষের ভাবধারার ইতিহাসে মানব-চিত্তের অভিযানের এ অখণ্ড বিকাশ, ইহার চর্চা ইসলাম নিষেধ করিতে পারে, এই কথা সে বিশ্বাস করিতে পারিতেছিল না। তাহার যেন কেন মনে হইতেছিল, এ আমাদের ইসলামকে বুঝিবার ও বুঝাইবার ভুল।’

এককথায় শুদ্ধ চিন্তার আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিকতা করেছেন, রাজনীতি করেছেন, ওকালতি করেছেন এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো এমন একজন মানুষ আবার সাহিত্যচর্চাও করেছেন। এজন্য তাকে ভালোভাবে বুঝতে হলে আলাদা আলাদাভাবে অন্তত তিনটি জীবনী লেখা দরকার বলে অনেকে মনে করছেন। যার একটি হবে সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে, একটি সাহিত্যিক হিসেবে এবং অন্যটি রাজনীতিবিদ হিসেবে। পত্রিকার সম্পাদকীয় লেখা সম্পর্কে একটা মজার কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলে গেছেন। আমাদের এখনকার সম্পাদকদের এ কথাগুলো কাজে লাগতে পারে। তার মতে, ‘‘সম্পাদকীয় লিখিতে হইলে সম্পাদকদিগকে সব বিষয়ে ‘পণ্ডিত’ হইতে হয়। এঁরা সব ব্যাপারে সকলের স্বনিয়োজিত উপদেষ্টা। এঁরা জিন্নাহ সাহেবকে রাজনীতি সম্বন্ধে, গান্ধীজীকে অহিংসা সম্বন্ধে, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রকে রসায়ন সম্বন্ধে, ডা. আনসারীকে চিকিৎসা সম্বন্ধে, হক সাহেবকে (এ কে ফজলুল হক) ওজারতি সম্বন্ধে, শহীদ সাহেবকে (হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী) দলীয় রাজনীতি সম্বন্ধে, মাওলানা আযাদকে ধর্ম সম্বন্ধে, এমনকি জেনারেল দ্য গলকে যুদ্ধ-নীতি ও স্টালিনকে কমিউনিজম সম্বন্ধে উপদেশ দিয়া থাকেন। সেই উপদেশ না মানিলে কষিয়া গালও তাঁদের দিয়া থাকেন। উপদেশ দেওয়া এঁদের কর্তব্য ও ডিউটি। ওই জন্যই তাঁরা সম্পাদক। ওই জন্যই ওঁদেরে বেতন দেওয়া হয়।’’

গ.

দুঃসময়ে মানুষ চেনা যায় বটে, কিন্তু নিজের মাথাটা ঠিক রাখা দায় হয়ে ওঠে। তার পরও কেউ যদি হয় একজন ছাপোষা মানুষ, গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো সাহিত্যের ভূত কাঁধে সওয়ার হয়, তাকে যুদ্ধটা করতে হয় নিজের সঙ্গেই। বিশ শতকের সবার জন্যই এ কথা সত্য। দুটি কাঠি এগিয়ে আবুল মনসুর আহমদ একজন ভিশনারি বুদ্ধিজীবী হিসেবে জাতিকে যেমন পথ দেখিয়েছেন, তেমনি আবার প্রকৃত রাজনীতিবিদ হিসেবে একুশ দফা, যুক্তফ্রন্ট সংগঠন, ছয় দফার প্রচারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার বন্ধু আতাউর রহমানের মতে, পূর্ব পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক হরিঠাকুর হয়েছিলেন আমৃত্যু।

আবুল মনসুর আহমদের জীবন থেকে দেখি, দেশপ্রেম বুকে নিয়ে সারা জীবন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন। তার দেখা সমাজের প্রতিটি অসঙ্গতি নিয়েই কলম ধরেছেন। সময়ের বুকে পা রেখে কুয়াশা ভেদ করে দেখেছেন আলো। সর্বত্র বিচরণে দিনে দিনে তার কলম হয়ে উঠেছে দুর্ধর্ষ। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রেরণা জুগিয়ে সবার মাঝে দিয়েছে শুদ্ধ চিন্তার খোরাক।

সৃষ্টিশীলদের কলম বা তুলিতে সবসময় সময়ের করুণ চিত্র ফুটে ওঠে। শিল্পী জয়নুল আবেদিন তার অমর স্কেচে এঁকেছেন দুর্ভিক্ষের চিত্র, কবি ফররুখ আহমদ তার বিখ্যাত ‘লাশ’ কবিতায়, আবুল মনসুর আহমদ ব্যঙ্গ গল্পে। তার প্রায় লেখায় দুর্ভিক্ষের চিত্রের সঙ্গে দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ীদের চিত্র, মৃত মানবতা ও চেতনার চিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন। তিনি কথা বলেছেন স্বদেশ চেতনায় সাহসী কণ্ঠে। তাই আবুল মনসুর আহমদ বাংলা সাহিত্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তার লেখায় সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক আবহকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে যে নবচেতনায় উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, তা থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি চারপাশ। এমন গুণী মানুষের লেখা ও জীবনচিন্তা আধুনিক সমাজে আজো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।