বৃষ্টি, আজ কেন হবে লাশ?

 

 কে তুমি কোমল জল, বলো: বরফের কলা

বৃষ্টি যেন বিঁধে আছে মিকাইল, গাঙুরের ফলা

না উত্তুরে, বহুদূরে এখন কেবল গাইবে বাতাস

লাল হয়ে ইতিহাসে ভেসে যাবে মানুষের লাশ!

 

আজ ঝড়ে বর্ণ মুছে যায়, কে তুমি সুসুপ্ত চোরাটান

খোলা মুনাফার মত ঝরে ঝরে যাও, কি একাকী প্রাণ!

না হয় চিনবো পরে, ওহে ক্লায়োকেশি ওহে বজ্রপাত

এমন সন্দিগ্ধ চোখে খেলে কোন বাণিজ্য সম্পাত?

 

যত দূরে যাও, উড়ে উড়ে ছিন্ন ছিন্ন গোপন কণায়

প্রাণ আর ভূমি ছাড়া তুমি রোজ গড়াবে কোথায়?

কেন তুমি লণ্ডভণ্ড? আলোর স্ফটিক নাকি মিকাইল

একবার বলো তুমি: বস্তুর ভেতর আলেখ্য নিখিল!

 

বৃষ্টি যদি লাল হয়, তবে উল্টে যায় দিন আর ফাঁদ   

কালো ছাতাটিকে দেখলেই মনে হয় দুনিয়ার ছাদ

পাতালে যাবার আগে, তুমি গাইলে কি গোপন গান

লাফায় শূন্য কি মহাশূন্যে তোমার বিমূর্ত সম্বিধান?

 

 

 রক্ত শুকাবার আগে

 ইতিহাস হতে উড়ে যায় কালো কাকাতুয়া

দেখি রাজহাঁস, শেয়াল, কুকুর আর কিছু

মানুষের মতন উদ্ভ্রান্ত ডাহুকের অট্টহাসি

রাশি প্রেম ভাসতে ভাসতে ডুবছে গঙ্গায়

 

রসুনখেতের পাশে কোয়া দেখি আর শুনি

আমাদের গ্রাম নাই, নাম নাই, প্রাণ নাই

আমরা কোথায় আছি যেন সব মরা ডালে

আধমরা পাখিদের চুম্বন করেছি বেহুদাই

 

কারা যে ঘুঘুর খোপে বসে প্রতিবেশিনীর

চোখে চোখ হাতে হাত গোটানো খোঁপার

বাঁধ খুলে বলেছিল: ফুল তো ঠাঁই হয়

যেভাবে পালকে লেখা বাইরের ইতিহাস

 

রক্ত শুকাবার আগে লিখে রাখো কচিঘাস

রজঃস্র্রাব বন্ধ হলেই কেবল জননী হয় না!

 

 

যেন আউলিয়া বনে গেছো

 মরবার আগে পাখিদের ভাষা শিখে নাও

কিভাবে ফলের বীজ সহজে মাটিতে রাখে

যেন একটা অঙ্কুর স্বভাবে আকাশমুখী হয়।

 

মরবার আগে অন্তত সাঁতার শিখে নাও

যদি না আইলা আসে, ভাসতে ভাসতে যদি

সীমানা ভেদের হাত অনায়াসে বেহাত না হয়।

 

মরবার আগে কথা দাও তুমি যে মরোনি

যেন চোখ ফসকে যাওয়া একটা বর্ণালি রঙ

ছিটিয়ে দিয়েছো লালেন্দু বালার সপ্তম আকাশে

 

মরবার আগে মরে গেলে লোকে বলবে: ফতুর

এমন কি দেউলিয়া নিয়া আউলিয়া বনে গেছো

তবে রোজ মরতে মরতে জাগবে না মনোভূম। 

 

 বেদনার কোনো আম্মা-আব্বা নাই

 মলিন মুখের চেয়ে নিরাপদ ভাষা কিছু নাই

জানি, মানুষ হাসলে কেবল দাঁতের ফাঁকে দুঃখ থাকে।

কান লাল হলে মানুষের চোখ ছোট হয়ে আসে

না হলে জিহ্বার কটাক্ষ কেন রেখাপাত করে?

 

কপালে যে ভাঁজ পড়লে শুধু মানুষ কাঁদে না

দূর হতে সবাই জেনেছে সেটা ময়লা সময়ে।

দু’ঠোঁট বলেছে বেদনার কোনো আম্মা-আব্বা নাই

কত কথা নিয়ে হাসতে হাসতে পানি বাতাসে মেলায়।