মার্কিন সংস্কৃতিতে বরাবরই সুপারস্টার বা সুপারহিরো-কেন্দ্রিক গল্পের কদর, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের প্রতিভা ও ক্যারিশমা দিয়ে বাকিদের ছাপিয়ে পুরো মঞ্চ দখল করে নেয়। ওই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপেও। টুর্নামেন্টের একদম শুরু থেকেই তারকা খেলোয়াড়রা একের পর এক চমক দেখিয়ে আসছেন।

এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারীর পরিসর বেড়েছে। এর লক্ষ্য হলো ফুটবলের ঝলক আরো বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া। আবার অনেক তারকারই আগে-ভাগেই ঝলক দেখিয়ে দিয়েছেন। যেমন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের পাশাপাশি এরলিং হালান্ড, হ্যারি কেইন ও কিশোর প্রতিভা লামিনে ইয়ামালও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন।

মেসি তো টুর্নামেন্টের শুরুতেই সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ওঠে গেছেন। প্রায় ৩৯ বছর বয়সী এ আর্জেন্টাইন তারকা আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩–০ ব্যবধানে জয়ে হ্যাটট্রিক করেন। এরপর গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও তার ছন্দে খুব একটা প্রভাব পড়েনি।

পরবর্তী ম্যাচেও তিনি জ্বলে ওঠেন, আর্জেন্টিনার ২–০ জয়ে দুই গোল করেন এবং নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে যান। অন্যদিকে এমবাপ্পে দ্রুতই তার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন।

এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩–১ জয়ে দুটি গোল করেন। এরপর গতকাল ইরাকের বিপক্ষে ৩–০ জয়ের ম্যাচেও আরো দুটি গোল করে তিনি সর্বকালের তালিকায় মেসির থেকে দুই গোল পিছিয়ে থাকেন।

একটি কঠিন মৌসুমের পর ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড আবারো হাসিমুখে খেলছেন এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখা যাচ্ছে।

স্পেন দল ইয়ামাল না থাকায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে কিছুটা ভুগলেও, রবিবার তিনি দুই মাস পর প্রথম একাদশে ফেরেন। আটলান্টা স্টেডিয়ামে দর্শকদের মধ্যে তখন স্পষ্ট উত্তেজনা ছিল।

দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে করতালিতে স্বাগত জানায়, যখন ইয়ামাল প্রথম গোলটি করেন এবং স্পেনকে ৪–০ ব্যবধানে সৌদি আরবের বিপক্ষে জয়ের পথে এগিয়ে দেন।

মেসি ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক করেছিলেন, আর ২০ বছর পর একই নম্বর ১৯ জার্সি পরে ইয়ামাল যেন সেই উত্তরাধিকার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

নরওয়ের হালান্ড তার প্রথম বিশ্বকাপে চাপ কাটিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। দুই ম্যাচে তিনি চার গোল করেছেন। ইরাকের বিপক্ষে ৪–১ জয়ে দুটি গোল করার পর সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ জয়ের ম্যাচেও একইভাবে জোড়া গোল করেন।

ফ্রান্স ও নরওয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে শুক্রবার মুখোমুখি হবে—যেখানে হালান্ড ও এমবাপ্পের মধ্যে গোলদৌড় আরো উত্তপ্ত হবে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কেইন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান, যা তাকে গ্যারি লিনেকারের সমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।

মেসি বনাম এমবাপ্পে: পুরোনো দ্বৈরথ, নতুন অধ্যায়

চার বছর আগে বিশ্বকাপে এ দুই তারকাই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেই আসরে এমবাপ্পে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন, মেসির চেয়ে এক গোল বেশি। তবে ফাইনালে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতে নেয়।

এবারও আবার দুই দলের ফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে এ বিশ্বকাপ হয়তো নতুন কোনো নায়কও তুলে আনতে পারে—বিশেষ করে এমন এক দেশে খেলা হচ্ছে, যেখানে দর্শকরা তরুণ প্রতিভার উত্থানকে সহজেই গ্রহণ করে।

রয়টার্স অবলম্বনে