২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত নতুন বিষয়গুলোর একটি হাইড্রেশন বিরতি। প্রচণ্ড গরম ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ফিফা প্রায় সব ম্যাচেই এ বিরতি চালু রেখেছে। তবে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল এর বড় ভক্ত নন। বরং তার মতে, এ বিরতি ফুটবল ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ ও চরিত্র বদলে দিচ্ছে।
ঘানার বিপক্ষে আজকের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ৫২ বছর বয়সী ই জার্মান কোচ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বোস্টনে, যেখানে বৃষ্টি ও তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবুও নিয়ম অনুযায়ী হাইড্রেশন বিরতি থাকবে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ডালাসে খেলার সময়ও এই বিরতি নিয়ে দর্শকদের বিরক্তি দেখা গিয়েছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ছাদযুক্ত স্টেডিয়ামে খেলা হলেও খেলা থামিয়ে বিরতি দেওয়ায় অনেক সমর্থক দুয়োধ্বনি করেছিলেন।
টুখেলের মতে, তিনি শুরুতে যতটা ভেবেছিলেন, বিরতিগুলো তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলছে ম্যাচে। তিনি বলেন, এটি ম্যাচের ধারাবাহিকতা আমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বদলে দিচ্ছে। আগে খুব গরম আবহাওয়ায় হাইড্রেশন বিরতি দেখেছি, যখন সেটি সত্যিই প্রয়োজন ছিল। তখন বিরতিগুলোও ছিল অনেক ছোট।
তিনি আরো বলেন, এখন ন্যায্যতার স্বার্থে সব ম্যাচেই সব দলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য করা হয়েছে। কিন্তু এতে ম্যাচ যেন চারটি আলাদা অংশে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। আমি যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি বদলে যাচ্ছে ম্যাচের বৈশিষ্ট্য।
ফিফা অবশ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মেও পরিবর্তন আনছে। ফ্রান্স ও ইরাকের ম্যাচে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দুই ঘণ্টার বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকায় দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন বিরতি বাতিল করা হয়েছিল।
মজার বিষয় হলো, কোচ হিসেবে টুখেল এ বিরতি থেকে কিছু সুবিধাও দেখছেন। বিরতির সময় খেলোয়াড়দের একত্র করে কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। তবে ফুটবলের সৌন্দর্যের দিক থেকে বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।
টুখেল বলেন, একজন কোচ হিসেবে অবশ্যই এটি আমার ভালো লাগে। কারণ এতে দলকে একসঙ্গে পাওয়ার এবং প্রভাব রাখার সুযোগ থাকে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমি ফুটবলকে বেশি উপভোগ করি যখন খেলা একটানা চলে।
তার মতে, ফুটবলের অন্যতম সৌন্দর্য হলো ম্যাচের ভেতরে গড়ে ওঠা গতি ও আবেগের প্রবাহ। হাইড্রেশন বিরতি সেই প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইংল্যান্ড কোচের ভাষায়, ম্যাচে ছন্দ তৈরি করাই কঠিন, আর বিরতি থাকলে সেই ছন্দ ধরে রাখা আরো কঠিন হয়ে যায়। বিরতি না থাকলে মাঠে খেলোয়াড় ও দলের মধ্যে যে লড়াই চলে, সেটি দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। সেটিই আসলে ফুটবলকে সুন্দর করে তোলে।














