বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির রেকর্ড ভাঙা গোল নতুন ইতিহাস গড়েছে, তবে সেই গোল নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে মেসি যে গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে উঠে যান, সেটি আদৌ বৈধ ছিল কি না—সেই প্রশ্ন তুলেছেন ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি পিটার শ্মেইকেল।

ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩১তম মিনিটে গোলটি করেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতরে নিচু ক্রস পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এবং জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন।

কিন্তু গোলের আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপত্তি তুলেছেন শ্মেইকেল। তার দাবি, গোলের সূচনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভার শ্লাগারকে পেছন থেকে ফাউল করেছিলেন। সেই ফাউল না ধরেই খেলা চলতে দেয়া হয় এবং পরে সেখান থেকেই গোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফক্স স্পোর্টসে বিরতির সময় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শ্মেইকেল বলেন, আমি মনে করি না গোলটি দেয়া উচিত ছিল। পেনাল্টির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার আগে শ্লাগারকে পেছন থেকে লাথি মারা হয়েছিল। এটা পরিষ্কার ফ্রি-কিক ছিল। ম্যাক অ্যালিস্টার প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়েছেন। ভিএআরের উচিত ছিল ঘটনাটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেয়া।

তিনি আরও বলেন, রেফারির এটি স্পষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এজন্য আমি কিছুটা হতাশ।

ম্যাচটির দায়িত্বে ছিলেন সোমালিয়ার রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। তবে তিনি কিংবা ভিএআর কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি। ফলে গোলটি বহাল থাকে।

শুধু শ্মেইকেলই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক সমর্থক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আর্জেন্টিনা সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত পাচ্ছে। একজন সমর্থক লিখেছেন, ‘অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়ের ওপর হওয়া ফাউলের ভিডিওই দেখা যাচ্ছে না। ভিএআরও কিছু করল না।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘গোলের আগে পরিষ্কার ফাউল হয়েছিল। তারপরও খেলা চলেছে।’

তবে বিতর্ক কিংবা সমালোচনা কোনোটিই ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি। গোলটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসিকে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। পরে যোগ করা সময়ে আরো একটি গোল করে নিজের রেকর্ড আরো সমৃদ্ধ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।