বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকারা। গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজেদের দলকে নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। তিন মহাতারকার এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি পারবেন একইভাবে আলো ছড়াতে?

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে দুই গোলই করেন মেসি। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে তার পরিচিত নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, আর দ্বিতীয়টিতে দেখা যায় অভিজ্ঞতার সঙ্গে অসাধারণ পজিশনিং। এ জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেছেন ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই কিংবদন্তি।

ফ্রান্সের হয়ে সমান উজ্জ্বল ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক। দীর্ঘ আবহাওয়া-বিঘ্নিত ম্যাচে ফ্রান্সকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। প্রথম গোলটি আসে দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে, আর দ্বিতীয় গোলটিতে দেখা যায় তার দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতা। বিশ্বকাপের মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে গোল করে যাওয়া এমবাপ্পে আবারো প্রমাণ করলেন, বড় টুর্নামেন্টে তিনি কতটা ভয়ংকর।

অন্যদিকে নরওয়ের হয়ে জ্বলে উঠেছেন আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে দুই গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির এ স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। শক্তিশালী আফ্রিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার গোল দুটিই ছিল নরওয়ের জয়ের ভিত্তি।

তিন তারকার এই গোল উৎসবের দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আরেক নাম—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।

তবে রোনালদোকে নিয়ে সন্দেহ করার সুযোগ খুব কমই আছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা বহুবার প্রমাণ করেছেন, সমালোচনা যত বাড়ে, তিনি তত বেশি জবাব দেন মাঠে। আজ রাত ১১ টায় উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে নামবে পর্তুগাল।

এ ম্যাচে তার সামনে সুযোগ থাকছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসার। বিশেষ করে যখন মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড ইতোমধ্যে নিজেদের ছাপ রেখে দিয়েছেন, তখন রোনালদোর ওপর চাপও বেড়েছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেকবারই দেখা গেছে, প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হয়ে পরের ম্যাচে নায়ক হয়ে উঠেছেন বড় তারকারা। তাই রোনালদোর ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বরং ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, বিশ্বমঞ্চে আরেকটি স্মরণীয় রাত উপহার দিতে পারেন কি না পর্তুগিজ মহাতারকা।

মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড যখন জোড়া গোলের উল্লাসে ভাসছেন, তখন বিশ্বকাপের পরবর্তী বড় প্রশ্নটি একটাই—রোনালদো কি এবার নিজের উত্তরটা মাঠেই দেবেন?