ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে আবারো দেখিয়ে দিলেন কেন তাকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলস্কোরার বলা হয়। ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে মোট ১৬ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এর ফলে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে উঠে এসেছেন ফরাসি অধিনায়ক। খবর এপি।

বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, ‘যদি আমি লিও যা করছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই, তাহলে আমাকে আরো বেশি কিছু করতে হবে।’

তার এ মন্তব্য ছিল আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে উদ্দেশ করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করে মেসি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। খেলার ১৪তম মিনিটে তিনি প্রথম গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। বিরতির সময় আবহাওয়া-সংক্রান্ত দীর্ঘ বিলম্বের পর ৫৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ইরাকের ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিনের ভুল পাস থেকে বল কুড়িয়ে নিয়ে উসমান ডেম্বেলের সহায়তায় সহজেই জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।

হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন এমবাপ্পে, তবে শেষদিকে একক আক্রমণে গোল করতে ব্যর্থ হন। পরে ৯০ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেয়া হয়।

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ে দেশঁ বলেন, ‘গোল করতেই সে এখানে এসেছে এবং সেটাই করে যাচ্ছে। তার বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ প্রভাব রয়েছে।’

২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং ২০২২ সালে ফাইনালে তোলার নায়ক এমবাপ্পে এবারও শিরোপা জয়ের মিশনে আছেন। বর্তমানে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৫৯, যা ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে বিশ্বকাপে তিনি ২০১৮ সালে ৪ গোল, ২০২২ সালে ৮ গোল এবং চলতি আসরে এরই মধ্যে ৪ গোল করেছেন।

এদিকে উসমান ডেম্বেলও দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল করে ফ্রান্সের দাপুটে জয় নিশ্চিত করেন। নকআউট পর্বে ওঠা ফরাসিরা এখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।