এতে নকআউট পর্বে ওঠার সমীকরণ খানিকটা কঠিন হয়ে উঠেছে পর্তুগিজদের জন্য। নকআউটের পথ মসৃণ করতে আজ জিততে হবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। হারলে শেষ বত্রিশে ওঠা হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরবি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে।

এক পয়েন্ট নিয়ে পর্তুগাল রয়েছে ‘কে’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের তিনে। পর্তুগিজদের টেবিলের শীর্ষে উঠতে হলে আজকের ম্যাচটি জয়ের পর আগামীকাল সকালে মেক্সিকোর গুয়াদালহারায় ডিআর কঙ্গোর কাছে হারতে হবে কলম্বিয়াকে। এ মুহূর্তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কলম্বিয়া। ড্র করা পর্তুগাল ও কঙ্গোর সংগ্রহ সমান এক পয়েন্ট। কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যাওয়া উজবেকিস্তান এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।

আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মধ্য এশিয়ার ভূ-বেষ্টিত দেশ উজবেকিস্তান। কাগজে-কলমে হয়তো রোনালদোর পর্তুগাল আজ অনেক এগিয়ে থাকবে। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল পর্তুগালের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় বড় তারকা, নিখুঁত সব পাস, নিয়ন্ত্রিত ফুটবল আর চাপ সামলে শেষ মুহূর্তে ম্যাচ জিতে নেয়ার সামর্থ্য। তবে বিশ্বকাপ মঞ্চে কখনো কখনো জিতে যায় সাহসিকতা। এই যেমন স্পেন কিংবা উরুগুয়েকে আটকে দেয় কেপ ভার্দে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর বীরত্বই-বা কম কীসের। আজ যদি উজবেকিস্তানও পরাশক্তি পর্তুগালকে হারিয়ে দেয় কিংবা ড্র করে বসে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিশ্বকাপে রচিত হবে উজবেক ইতিহাস।

ইতিহাস গড়ার দায় কেবল উজবেকিস্তানেরই নয়, পর্তুগালেরও। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলটি ২০১৬ সালে ইউরোপসেরার মুকুট পেলেও বিশ্বকাপ এখনো অধরা। সেরা সাফল্য এখনো ১৯৬৬ সালে ইউসেবিওদের পাওয়া তৃতীয় স্থান। এরপর ফিগো, রোনালদো—এমন বহু সুপারস্টার এসেছেন পর্তুগালে। তবে বিশ্বকাপ ধরা দেয়নি। পাঁচবার ব্যালন ডি’অরসহ বহু পুরস্কার আর অসংখ্য রেকর্ড নিজের করে নেয়া সিআর সেভেনের শোকেসে কেবল বিশ্বকাপটাই নেই।

কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বর্ষীয়ান এ ফরোয়ার্ড আক্রমণের ধার হারিয়ে ফেলেছেন—এমন কথা উঠেছে। তবে দুঃসময়ে সতীর্থদের পাশে পাচ্ছেন তিনি। ২৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের দাবি, মাঠে কেউই রোনালদোকে বল দেয়ার জন্য আলাদা কোনো চাপ অনুভব করেন না।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কনসেইসাও বলেন, ‘আমরা তাকে (রোনালদো) বল দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করি না। আমি বল দিই তাকে, যাকে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে এবং ফাঁকা মনে হয়।’

কঙ্গো ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ২৫ বার বল ছুঁয়েছেন রোনলদো, যা পর্তুগালের জার্সিতে কোনো বড় টুর্নামেন্টে পূর্ণ ম্যাচ খেলার ক্ষেত্রে তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম। কনসেইসাওর মতে, রোনালদোকে ঘিরে দলের ভেতরের বাস্তবতা বাইরের আলোচনার মতো নয়। তিনি বলেন, ‘রোনালদো দলের আর দশজনের মতোই একজন সদস্য, যিনি দলকে সাহায্য করতে এসেছেন। দলের জন্য সব খেলোয়াড়কেই প্রয়োজন। ক্রিস্টিয়ানো তার ক্যারিয়ার, ৪১ বছর বয়সেও তার ক্ষুধা, নেতৃত্ব ও গোল করার ক্ষমতার জন্য উদাহরণ। তিনি এখানে অন্য সবার মতোই দলকে সাহায্য করতে এসেছেন।’

উজবেকিস্তানের স্কোয়াডে রোনালদোর মতো বড় তারকা না থাকলেও তাদের শক্তি টিম স্পিরিট। আক্রমণের ভরসা এলদর শোমুরোদভ, রক্ষণে আছেন আবদুকোদির খুসানোভ। পর্তুগালের শক্তি যদি হয় বদল দখল কিংবা আক্রমণ শাণানো, তবে উজবেকদের শক্তি প্রতিরোধের দেয়াল তৈরি করা। নবাগত দলটি অপেক্ষা করবে মোক্ষম একটি মুহূর্তের। পর্তুগালের একটি ভুলের সুযোগ কিংবা একটি কাউন্টার অ্যাটাক কাজে লাগিয়ে অঘটনের জন্ম দিতেও পারে বিশ্বের ৫০ নম্বর র‍্যাংকধারী দলটি।