লিওনেল মেসি আছেন বলেই হয়তো সমস্যাটা এখনো খুব বড় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, আর্জেন্টিনা শিবিরে একটি প্রশ্নও তত জোরালো হচ্ছে মেসি ছাড়া গোল করবে কে?

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে আবারো নায়ক আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দুই গোলই এসেছে তার পা থেকে। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে মেসির কাছ থেকে। দলের অন্য কোনো খেলোয়াড় এখনো গোলের দেখা পাননি।

স্কোরলাইন দেখে বোঝার উপায় নেই, তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ ও উচ্চমাত্রার চাপের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি আক্রমণভাগের অন্যরা। এ কারণেই জয় এলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন লাউতারো মার্তিনেজ। ইন্টার মিলানের অধিনায়ক ম্যাচজুড়ে দৌড়েছেন, লড়েছেন এবং তারই দারুণ একটি রানের ফলে পেনাল্টি আদায় করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোলের সামনে কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। কাতার বিশ্বকাপেও গোলখরায় ভুগেছিলেন তিনি। নতুন বিশ্বকাপেও সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলে তা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরেক ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজও পুরোপুরি স্বস্তি দিতে পারেননি। গোড়ালির চোট থেকে ফিরে মাঠে নামা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই তারকা দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারোর বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ম্যাচের শেষ দিকে একটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন। তখন স্কোর ছিল মাত্র ১-০। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আর্জেন্টিনা অনেক আগেই নিশ্চিন্ত হতে পারত। শেষ পর্যন্ত মেসির দ্বিতীয় গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

নিকোলাস গঞ্জালেজও গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে তার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যেটি অবশ্যই গোলে পরিণত করা উচিৎ ছিল বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অবদান ছিল মূলত সৃজনশীলতা ও ভারসাম্য রক্ষায়। আলমাদার বুদ্ধিদীপ্ত ডামি থেকেই মেসির প্রথম গোলের পথ তৈরি হয়। ম্যাক অ্যালিস্টার মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং রক্ষণকে সুরক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যে গোলের প্রত্যাশা থাকে, তা এখনো পূরণ হচ্ছে না।

আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, তারা এখনো জয় পাচ্ছে এবং মেসি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তবে নকআউট পর্বে অপেক্ষা করছে আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তখন যদি পুরো আক্রমণভাগের দায়িত্ব একাই বহন করতে হয় ৩৯ বছরে পা রাখতে যাওয়া মেসিকে, তাহলে তা আর্জেন্টিনার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

টানা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে স্কালোনির দলকে শুধু মেসির জাদুতেই ভরসা করলে চলবে না। লাউতারো, আলভারেজ, গঞ্জালেজ কিংবা আলমাদাদেরও গোলের খাতা খুলতে হবে। নইলে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিই একসময় তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।