বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার ঝড় উঠেছে পর্তুগাল শিবিরে। বিশেষ করে ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রোনালদোকে কি এখনো শুরুর একাদশে রাখা উচিত? তবে এসব আলোচনা ও চাপের মধ্যেও দলের ভেতরে রোনালদোর প্রতি আস্থা অটুট রয়েছে। আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও শুরু থেকেই মাঠে নামছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একই সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যান লিওনেল মেসি। ফলে দুই কিংবদন্তির তুলনাও নতুন করে সামনে আসে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, রোনালদোর জায়গায় গনসালো রামোসকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

তবে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন না। দলীয় সূত্রগুলোও বলছে, রোনালদোকে বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং প্রথম ম্যাচের পর যে সমালোচনা শুরু হয়েছে, তা দলের খেলোয়াড়দের আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে।

দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াস, উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও এবং কোচ মার্তিনেজ সবাই সংকটের আলোচনা খারিজ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, একটি ম্যাচের ফল দেখে পুরো দলের সক্ষমতা বিচার করা ঠিক নয়।

পর্তুগালের শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক 'রেকর্ড' রোনালদোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্পাদকীয়তে সমালোচকদের কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক চেলসি ও টটেনহ্যাম কোচ, বর্তমানে পোর্তোর সভাপতি আন্দ্রে ভিয়াস-বোয়াস সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভিয়াস-বোয়াস বলেন, আমাদের স্বপ্ন এখনো সীমাহীন। এটি পর্তুগালের একটি সোনালি প্রজন্ম। আমরা চাই বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভা, যে দেশকে এত কিছু দিয়েছে, সে যেন বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়েই বিদায় নিতে পারে; ঠিক যেমনটি কাতারে করেছিলেন মেসি।

তবে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছেন রোনালদোর বোন কাতিয়া আভেইরো। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইয়ের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে পুরো দলের পারফরম্যান্স নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি একটি পোস্টে প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন, যেখানে ব্রুনো ফার্নান্দেজের জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের সমালোচনা করা হয়েছিল।

এসব কারণে গুঞ্জন ছড়ায়, পর্তুগাল দলে ভেতরে ভেতরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। যদিও খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেছেন। রুবেন দিয়াস স্পষ্ট করে বলেছেন, দল সমালোচনার সঙ্গে অভ্যস্ত এবং বাইরের কথাবার্তা তাদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না।

ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওও রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, বয়স বাড়লেও তিনি এখনো দলের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করে যাচ্ছেন। গোল করার ক্ষমতাও হারাননি।

আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে তাই নজর থাকবে রোনালদোর দিকে। সমালোচনার জবাব তিনি মাঠেই দিতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে পর্তুগাল এখনো বিশ্বাস করে, তাদের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম রোনালদো।