নানা ধরনের কথা চলছে লোকেশ কনগরাজের ‘‌লিও’ নিয়ে। কথা মূলত হচ্ছিল অনেক আগে থেকেই। বিক্রমের ক্লাইম্যাক্সে রোলেক্স চরিত্রটি আসা, এর পোস্ট ক্রেডিট সিনে কাইথির আভাস থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, লোকেশ একটি সিনেমাটিক ইউনিভার্স তৈরি করছেন। কিন্তু সেটি কীভাবে হবে এ নিয়ে সন্দেহ ছিল। বিজয় অভিনীত লিও যে এ ইউনিভার্সের অংশ তা বলেছেন অনেকেই। চারদিন আগে সিনেমার ট্রেলার এসেছে এবং সেখান থেকে তৈরি হয়েছিল সন্দেহ। কেননা বিজয়, অর্জুন সারজা ও সঞ্জয় দত্ত অভিনীত সিনেমার ট্রেলারে কাইথি বা বিক্রমের সঙ্গে লিওর কোনো সংযোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এরপর তৈরি হয়েছে নানা ফ্যান-থিওরি। কিন্তু এখনো ধারণা করা হচ্ছে সিনেমাটির সঙ্গে ‘‌কাইথি’ ও ‘‌বিক্রম’-এর যোগসূত্র আছে, কেননা এ দুই সিনেমার প্রযোজকদের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়েছেন লোকেশ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, লোকেশ তার আগের দুই সিনেমার প্রযোজকদের সঙ্গে দেখা করে একটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়েছেন। এর আগে বিক্রম নির্মাণের সময় কাইথির প্রযোজক এসআর প্রভুর কাছ থেকে একই সনদ নিয়েছিল বিক্রমের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজ কমল ফিল্মস। এবার লিও প্রযোজনা করছে সেভেন স্ক্রিন স্টুডিওজ। এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও লোকেশ কিছুদিন আগে এসআর প্রভু ও রাজ কমল ফিল্মসের কাছ থেকে লিওর ব্যাপারে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিয়েছে। এ সনদ অনুসারে লিওতে ব্যবহৃত চরিত্রের রেফারেন্স সিনেমা দুটোর কোনোটির সঙ্গে মিললে তারা আপত্তি করবেন না। অর্থাৎ মিল থাকছে।

লিওর ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর দেখা যায় সেখানে বিজয়ই সর্বেসর্বা। অর্জুন সারজা ও সঞ্জয় দত্ত পার্শ্ব চরিত্র। কিন্তু সেখানে বিক্রমের কমল হাসান, ফাহাদ ফাসিল, বিজয় সেতুপতি বা কাইথির কার্থির কোনো খবর নেই। এছাড়া সিনেমায় যে গল্পটির আভাস পাওয়া গেল তাতেও তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু লোকেশ ও বিজয়ের ভক্তরা নানা তত্ত্ব দিচ্ছেন। তার কোনো কোনোটি অনুসারে বিজয় ও বিক্রমের মতো ফ্যামিলি ম্যান এবং তার পুরনো শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করবেন আর এর মধ্যেই কোনো একটি সূত্রে সিনেমাটি যুক্ত হবে বিক্রম ও কাইথির সঙ্গে। 

ভক্তরা আরো নানা কথা বলছেন। যেমন এ সিনেমায় আছে লিও দাস, অ্যান্টনি দাস, হ্যারল্ড দাস। কাইথিতে সন্ত্রাসী দলের একজন ছিল অম্বু দাস। কারো কারো মতে, এ অম্বু দাসের সঙ্গে যুক্ত হ্যারল্ড বা অ্যান্টনি। এছাড়া মিল আছে সিনেমাটোগ্রাফিতেও। বিক্রমের একটি দৃশ্যে নাতিকে কোলে নিয়ে কমল হাসানকে বসে থাকতে দেখা যায় রকিং চেয়ারে। লিওয়ে বিজয়কে নিয়ে একই দৃশ্য রেখেছেন লোকেশ। নির্মাতারা নানা সময় নিজেদের সিগনেচার ব্যবহার করেন। এটি তাও হতে পারে আবার না-ও হতে পারে।

তবে ইউনিভার্সের পরিধি যে লোকেশ বাড়াচ্ছেন তা নতুন কিছু না। বিশেষত বিক্রম তিনি যেভাবে শেষ করেছেন, তা-ই দর্শকের আশা বাড়িয়ে দিয়েছে। সিনেমার শেষ দৃশ্যে অম্বুর বস হিসেবে রোলেক্স চরিত্রে সুরিয়াকে নিয়ে আসার মাধ্যমে বিক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয় কাইথি। এর মাধ্যমে আরো বোঝা যায় রোলেক্সই এ ফিকশনের পুরো কাঠামোর সবচেয়ে বড় খলনায়ক। স্বাভাবিকভাবেই লোকেশের এ গল্পের পরিধি আরো বড় করে তিনি আনবেন বলে ধারণা করছিলেন সবাই। লোকেশ নিজেও সে রকমই বলেছেন।

সম্প্রতি রোলেক্সের চরিত্রটি নিয়ে একটি স্পিন অফ নির্মাণের ঘোষণা করেছেন লোকেশ। পুরো গল্পটি আবর্তিত রোলেক্সের উত্থান নিয়ে। কিন্তু সে সিনেমা নির্মাণ হতে অনেকটাই সময় লাগবে। কেননা তার আগে নির্মাণ করবেন ‘‌থালাইভার ১৭১’ (রজনীকান্তের ১৭১তম সিনেমা), কাইথি টু ও বিক্রম টু। এর মধ্যে থালাইভার নিয়ে কোনো তথ্য এখনো জানা জায়নি, তবে কাইথি ও বিক্রমের সিকুয়াল যে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্য দিয়েই নিজের সিনেমাটিক ইউনিভার্স বাড়াবেন লোকেশ। তাতে লিও এ ইউনিভার্সে যুক্ত হবে কিনা, জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো নয়দিন। সিনেমাটি ১৯ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে।