মারা গেলেন দীর্ঘ সময় চলা মিউজিক্যালের নির্মাতা টম জোনস। শুক্রবার কানেকটিকাটের শ্যারনে নিজ বাড়িতে মারা যান টম। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। টমের ছেলে মাইকেল তার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পাশাপাশি জানান মৃত্যুর কারণ ছিল ক্যান্সার।

জোনসের ‘‌দ্য ফ্যান্টাস্টিকস’ এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা মিউজিক্যাল। ষাটের দশকে হার্ভি স্মিটের সঙ্গে এটি লিখেছিলেন তিনি। মিউজিক্যালটি মূলত একটি অ্যালিগরি। ১৯৬০ সালে গ্রিনউইচ ভিলেজে এটির মঞ্চায়ন শুরু হয়। এরপর অফ-ব্রডওয়েতে মঞ্চায়ন হয়েছে নাটকটি। অফ-ব্রডওয়ে থিয়েটার মূলত ব্রডওয়ের তুলনায় ছোট। এতে ১০০-৪৯৯ দর্শক বসার মতো ব্যবস্থা থাকে। দ্য ফ্যান্টাস্টিকস এ রকম নানা অফ-ব্রডওয়েতে চলেছে টানা ৪২ বছর। যেকোনো নাটকের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এ অর্জনের অন্যতম ভাগিদার টম জোনস। মিউজিক্যালটির ওপেনিং সং ‌ট্রাই টু রিমেম্বারের অনেক বেশি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় হয়।

দ্য ফ্যান্টাস্টিকস মূলত স্মিট ও জোনসের যৌথ প্রয়াসে লেখা। তবে এতে অংশগ্রহণ বেশি ছিল জোনসেরই। মূল গল্পটা জোনস ও স্মিটের। ১৯৬০ সালে ড্রামাটি তারা শেষ করেন। গল্পটি এডমন্ড রোস্ট্যান্ডের ১৮৯৪ সালের নাটক ‘‌দ্য রোমান্সারস’ থেকে কিছুটা অনুপ্রাণিত। গল্পটা বেশ মজার। এখানে প্রতিবেশী দুই ব্যক্তি কৌশলে তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে রোমান্স তৈরি করেন। ষাটের দশকের জন্য এ গল্প বেশ ভালো ছিল। দর্শক পছন্দ করত এ ধরনের গল্প। তবে মিউজিক্যালের প্রাণ মূলত এর গান। ‌দ্য ফ্যান্টাস্টিকসের গানগুলো লিখেছিলেন টম জোনস। ট্রাই টু রিমেম্বার বাদেও এ নাটকের ‘‌মাচ মোর’ ও ‘‌আই ক্যান সি ইট’ জনপ্রিয়তা পায়।

টস জোনসের ফ্যান্টাস্টিকস মূলত থিয়েটারের জন্য লেখা। সে কারণেই এটি অফ-ব্রডওয়েতে ভালো করেছিল। ১৭ হাজারের বেশিবার নাটকটি মঞ্চে এসেছে। বলা হয়, অফ-ব্রডওয়েকে নতুন করে জীবন দিয়েছিল জোনস-স্মিটের এ নাটক। ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় নাটকটি মঞ্চায়ন হয়েছে। কখনো পরিচালক বদল হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে নাটকটি মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে নির্দেশক হিসেবেই আবির্ভূত হন টম। তিনি এতে অভিনয়ও করেছেন একজন বৃদ্ধ অভিনেতার চরিত্রে।

তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে নাটক থেকে সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে সিনেমাটি নির্মাণ করেন মাইকেল রিচি। তবে নাটকের মতো সিনেমাটির ভাগ্য প্রসন্ন ছিল না। নির্মাণ ও নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতা সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে দেয়। ২০০০ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি কিন্তু সফল হয়নি। নাটকের মতো সিনেমাটি গ্রহণ করেনি দর্শক।

থিয়েটারে টম জোনস বেশকিছু অবদান রেখেছেন। অফ-ব্রডওয়ে নতুন করে চলা শিখেছিল তার দ্য ফ্যান্টাস্টিকসের মধ্য দিয়ে। এর বাইরেও কয়েকটি নাটক তিনি লিখেছিলেন এবং সেই সবেরও সফল মঞ্চায়ন হয়েছে। ১৯৬৩ সালের ‘‌হান্ড্রেড অ্যান্ড টেন ইন দ্য শেড’ লিখেছিলেন তিনি। এর মূল গল্প রিচার্ড ন্যাশের ‘‌দ্য রেইনমেকার’ থেকে নেয়া। পঞ্চাশের দশকের এ নাটককেও টম জোনস মিউজিক্যালে পরিণত করেন। দ্য ফ্যান্টাস্টিকসের সাফল্যের পরই নতুন একটি নাটকের কথা ভাবা হয়। তবে এটি ছিল ব্রডওয়ের জন্যই। ১৯৬৩ সাল থেকে নাটকটি মঞ্চায়ন হয়। ক্যারিয়ারে টম জোনস তার বেশির ভাগ কাজই স্মিটের সঙ্গে করেছেন। ১৯৬৬ সালের ‘‌আই ডু! আই ডু!’, ১৯৬৯ সালের ‘সেলিব্রেশন’, ১৯৭৩ সালের ‘‌ফিলেমো’ থেকে ২০০১ সালের ‘‌রোডসাইড’—সবসময় সঙ্গে ছিলেন স্মিট। হার্ভি স্মিট মারা যান ২০১৮ সালে। টম জোনসের মৃত্যুর মাধ্যমে এ বছর শেষ হলো থিয়েটারের আরেক অধ্যায়।