ধ্বংসের পর কী? আবার নতুন করে গড়া হয়—তা শহর হোক বা পৃথিবী। কিন্তু তারপর, আবার কেউ আসে ধ্বংস করতে। এটাই নিয়ম। এ দুই ধ্বংসের মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকে সাময়িক স্থিতাবস্থা। মানুষ তখন অবসর যাপন করে, ভালোবাসে, সংসার গুছিয়ে নেয়, শখ পূরণে ব্যস্ত থাকে। এসবের মধ্যে আরেকটা ধ্বংস কোথায় বসে পরিকল্পনা করে, তা জানা হয় না কারো। হয়তো নতুন সে আক্রমণ বা ধ্বংসের পেছনে থাকে অতীতের কোনো ঘটনা। স্কট ল্যাংয়ের ক্ষেত্রেও ঘটনাটি তেমন। অ্যাভেঞ্জার্স টাইম ট্রাভেল করে দুনিয়া বাঁচিয়ে দেয়ার পর ল্যাং বই লিখল। একজন ভালো বাবা হওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তার সঙ্গীরা অতীতে কোথায় একটা ধ্বংসের বীজ রেখে এসেছিল, তা সে জানত না। জানার কথাও না, কারণ সেটা অন্য দুনিয়া।
কোয়ান্টাম দুনিয়া নিয়ে এখন নানা রকম কথা হয়। বিষয়টি অনেকেরই জানা। মার্ভেল বহুদিন হলো মাল্টিভার্সের গল্প বলছে। অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াসপ: কোয়ান্টাম্যানিয়া দিয়ে তারা বলল কোয়ান্টাম বাস্তবতার কথা। সে দুনিয়া আমাদের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সেখানে যাওয়া যায়। গেলে ফেরত আসা কঠিন। সিনেমায় এ দুনিয়ার খবর স্কটের জানা নেই। জানে জ্যানেট। কিন্তু সেখানে এমন কোনো ঘটনা আছে, যা সে কাউকে বলেনি। মূলত জ্যানেট নিজে কোয়ান্টাম দুনিয়ায় গিয়ে আটকে ছিল ৩০ বছর। সেখানে এমন কিছু ঘটেছিল, যার কারণে এ দুনিয়ার খবর সে দিতে চায়নি কাউকে। কিন্তু না চাইলেও তো সেভাবে হয় না। ক্যাসির কারণে তাদের যেতে হয় কোয়ান্টাম দুনিয়ায়।
অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াসপ: কোয়ান্টাম্যানিয়ার মূল গল্পটা এখান থেকেই শুরু। সিনেমাটি মূল গল্পে ঢুকতে সময় নিয়েছে খুব কম। স্কট ল্যাংয়ের মনোলগ থেকে শুরু হওয়া সিনেমায় মিনিট দশেকের মধ্যেই কোয়ান্টাম দুনিয়ার কথা শুরু আর তার পরই কোয়ান্টাম দুনিয়ায় ঢুকে পড়ে পিম, জ্যানেট, হোপ, ক্যাসি ও স্কট। দুটো ভাগে দুই জায়গায় যায় তারা। এক ভাগে স্কট ও ক্যাসি। অন্য ভাগে হোপ, জ্যানেট ও পিম। সেখানে ঢোকার পর থেকেই আমরা দেখি জ্যানেট অতিসতর্ক আর স্কট ও ক্যাসি গিয়ে পড়ে ওই দুনিয়ার কোনো একটি জনপদে। জ্যানেটের সতর্কতা থেকেই বোঝা যায়, সে কাউকে ভয় করছে। তারপর স্কট জানতে পারে জ্যানেটকে ধরার জন্য তাকে খুঁজছে কেউ। সেখান থেকেই আনে ক্যাংয়ের গল্প।
মার্ভেল এ সিনেমার মধ্য দিয়ে মাল্টিভার্সে ক্যাংকে পরিচয় করিয়ে দিল। ক্যাং দুর্দান্ত শক্তিশালী এক ব্যক্তি। ধ্বংস করাই তার কাজ। মাল্টিভার্সের নানা ইউনিভার্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল সে। তাকে কোয়ান্টাম দুনিয়ায় আটকে ফেলে জ্যানেট। সিনেমায় আমরা ক্যাংয়ের এ গল্প জানতে পারি কয়েক মিনিটের স্মৃতিচারণে। জ্যানেট তাকে বন্দি করলেও সময় ক্যাংয়ের হাতে। আর তার আছে অসীম ক্ষমতা। সে কারণে বন্দি অবস্থায়ই তৈরি করেছে নিজের সাম্রাজ্য। সেখান থেকে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। জ্যানেটকে নিজের দুনিয়ায় পেয়ে তার সুবিধাই হলো। ক্যাসিকে হাতে পেয়ে সে ল্যাংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে তার শিপের শক্তিকেন্দ্র ঠিক করে দিতে।
সিনেমাটি মার্ভেলের সাম্প্রতিক সিনেমার মধ্যে সেরা ওপেনিং পেয়েছে। এর মধ্যে এ নিয়ে আবার ভক্তদের আছে নানা অভিযোগ। সিনেমা দেখতে গিয়ে যে জিনিস চোখে পড়ে, তা হলো অ্যান্ট ম্যানের অন্যান্য সিনেমার তুলনায় এ সিনেমায় কমেডি ছিল খুবই কম। কোয়ান্টাম্যানিয়া অনেক বেশি সিরিয়াস। সেটা হয়ে আসলে উপায় ছিল না, কারণ ২ ঘণ্টার মধ্যে সামনের আরো অনেক সিনেমার গল্প প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হয়েছে। কিন্তু তাতে সিনেমা হিসেবে অ্যান্ট ম্যানের গুণ কমেনি। সিনেমা হিসেবে তার নানা গুণ রয়েছে। কোয়ান্টাম দুনিয়া খুব সুন্দর করেই তৈরি হয়েছে। সেখানে ভিএফএক্সও ভালো। তবে এ দুনিয়া পুরোপুরি আলাদা বলে দর্শকের অপরিচিত লাগার কারণে ভিএফএক্স নিয়ে অভিযোগ হতেই পারে।
অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। সবাই দারুণ, কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় জোনাথন মেজর্সের কথা। এ সিনেমার মধ্য দিয়ে তার মার্ভেলযাত্রা হলো। যাত্রা দীর্ঘ হবে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। বলার মতো বিষয় দুর্দান্ত এক খলনায়কের পাশাপাশি পাওয়া গেল এক দুর্দান্ত অভিনেতাকে। ক্যাং চরিত্রে তার ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পনা ও নির্লিপ্তভাবে ধ্বংস করার বিষয়গুলো দেখার মতো। ক্যাংয়ের একটা নেপথ্য গল্প আছে এবং জোনাথনের চোখেমুখে ধ্বংসের পাশাপাশি এক বিষাদ দেখা যায়। সে খবর হয়তো পরে পাওয়া যাবে। আপাতত কোয়ান্টাম্যানিয়ায় জোনাথন মেজর্সের কারণে হয়ে উঠল ক্যাংয়ের গল্প।










