চলে গেলেন অস্কারজয়ী নির্মাতা উইলিয়াম ফ্রিডকিন। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে মারা যান তিনি। তার স্ত্রী শেরি ল্যানসিং এ খবর প্রকাশ করেন। ৮৭ বছর বয়সে মারা গেলেন তিনি। মৃত্যুর আগে ২০টির মতো ফিচার ফিল্ম নির্মাণ করেছেন। সত্তরের দশকে ফ্রিডকিন তার ‘‌দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’ ও ‘‌দি এক্সরসিস্ট’ দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন। ক্যারিয়ারে যে সিনেমাগুলো তিনি নির্মাণ করেছেন, সেখানে ছিল ফ্রিডকিনের স্বকীয়তা। সে কারণেই সিনেমার মাধ্যমে সংস্কৃতিতেও প্রভাব ফেলেছিলেন তিনি বা বলা যায় তার সিনেমা প্রভাব ফেলেছিল সংস্কৃতিতে।

হলিউডের জন্য সত্তরের দশক ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বেশকিছু নতুন ধারার সিনেমা নির্মাণ হয় সে সময়। নির্মাতাদের মধ্যে সামনের কাতারেই আছেন ফ্রিডকিন। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় তার নির্মিত ‘‌দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’। পাপাই ডয়েল নামের এক বর্ণবাদী পুলিশ চরিত্রকে প্রধান করে এ সিনেমা নির্মাণ করেন তিনি। সিনেমাটি প্রথমবার দেখলে একটি থ্রিলার বলে মনে হবে। দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার দেখলে বোঝা যাবে ফ্রিডকিন এখানে আমেরিকার সমাজ বাস্তবতার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় দেখিয়েছেন। বেশ কয়েকটি সিকুয়েন্স ছিল এ সিনেমায়, যা ক্ল্যাসিক হিসেবে বিবেচিত। একটি ধাওয়া ও একটি মৃত্যুর দৃশ্য এমনভাবে তোলা হয়েছে যে দর্শক নিজেকে সেখানে অনুভব করবে। এ দৃশ্য ও দৃশ্যধারণ পরবর্তী সময়ের নির্মাতাদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল।

‘‌দি এক্সরসিস্ট’ দিয়ে ফ্রিডকিন নতুন আরেকটি অধ্যায় তৈরি করেছিলেন। এখন পর্যন্ত এ সিনেমা হরর জনরায় জনপ্রিয়তম ও শিক্ষণীয় হিসেবে ধরা হয়। সিনেমাটিতে ফ্রিডকিন যেভাবে ভয়কে তুলে এনেছেন, তা অনেকটাই ফ্রিডকিনের নিজস্ব। বলা হয় এর মতো ভীতিকর সিনেমা কখনো তৈরি হয়নি। এরপর অনেকেই তার এক্সরসিস্টের মতো সিনেমা নির্মাণ করার কথা চিন্তা করেছেন, সব ক্ষেত্রে সফল হননি।

ফ্রিডকিন সত্তরের দশকে যে কাজ করেছেন, তা এরপর করতে পারেননি। কিন্তু তিনি বেশকিছু ধারা তৈরি করেছিলেন। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ’দ্য বয়জ ইন দ্য ব্যান্ড’ সিনেমায় ফ্রিডকিনের প্রভাব পাওয়া যায়। আশির দশকে তার সিনেমা খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও ১৯৮৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘‌টু লিভ অ্যান্ড ডাই ইন এলএ’ তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছিল। সংস্কৃতিতে ফ্রিডকিনের প্রভাবের ক্ষেত্রে বলা হয় নিউইয়র্ককে একসময় ফ্রিডকিনের ফ্রেঞ্চ কানেকশনের মধ্য দিয়ে দেখত দর্শক।

ফ্রিডকিনের প্রাসঙ্গিকতা বোঝা যায়, কেননা তিনি পঞ্চম সিনেমা নির্মাণের পর (দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন) অস্কারে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছিলেন।