বলিউডের জন্য গত বছরটা ছিল অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। বেশকিছু সিনেমা এ বক্স অফিসকে দিয়েছে দারুণ ব্যবসা। ভারতের বক্স অফিসের আয় গত বছর ছিল সর্বোচ্চ। ওরম্যাক্সের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৩ সালে ভারতের বক্স অফিস মোট আয় করেছে ১২ হাজার ২২৬ কোটি রুপি। কভিড-১৯ মহামারীর পর তো দূর, আগেও বক্স অফিস এত আয় করেনি। ২০১৯ সালে ভারতের বক্স অফিসে সর্বোচ্চ আয় হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৪৮ কোটি রুপি।

ভারতের ২০২৩ সালের বক্স অফিস রিপোর্ট বা আয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় আগ্রহ জাগায়। গত দুই বছর, এমনকি এর আগেও দক্ষিণ ভারতের সিনেমা মোট আয়ে বড় একটি অবদান রাখত। কিন্তু গত বছর হিন্দি সিনেমাই বেশি অবদান রেখেছে। ১২ হাজার কোটি রুপির মধ্যে হিন্দি সিনেমা থেকে এসেছে ৫ হাজার ৩৮০ কোটি রুপি। এর আগে হিন্দি সিনেমার মোট আয় কখনো ৫ হাজার কোটি ছাড়ায়নি। অতিমারীর আগে হিন্দি সিনেমার অংশগ্রহণ ছিল ৪৪ শতাংশ। এ বছর ভারতের বক্স অফিসে হলিউড ও কন্নড় সিনেমার অবদান কমেছে।

মূলত বলিউডে ভালো সিনেমা পাওয়ার কারণে দর্শক হলিউডবিমুখ হয়েছে। আর ‘‌কেজিএফ’ বা ‘‌কানতারা’ দিয়ে কন্নড় সিনেমা যে জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিল সে ধারাবাহিকতা রাখার মতো সিনেমা ২০২৩ সালে না আসায় কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা থেকে আয় হয়েছে কম। এছাড়া ১০টি সিনেমাই মোট আয়ে বড় অংশ রেখেছে।

ওরম্যাক্সের প্রতিবেদন বলছে, যদিও ২০২৩ সালে এক হাজারের বেশি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, সেরা ১০ সিনেমাই বক্স অফিসের মোট আয়ের ৪০ শতাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে শাহরুখ খানের ‘‌জওয়ান’ থেকেই এসেছে ৭৩৪ কোটি রুপি।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। গত বছর বলিউডের যে সিনেমাগুলো বক্স অফিসে রাজত্ব করেছে, তার মধ্যে ‘‌পাঠান’ ও ‘‌জওয়ান’ শাহরুখ খান অভিনীত। আয় কম হলেও আলোচনায় ছিল ‘‌ডাঙ্কি’। কম বললেও বক্স অফিসে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি (বৈশ্বিক) আয় করেছে সিনেমাটি। এর মধ্যে তিনটি সিনেমা মিলিয়ে শাহরুখ খানের সিনেমা থেকেই ভারতের বক্স অফিস আয় করেছে ১ হাজার ৬২২ কোটি রুপি। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সর্বোচ্চ আয় করা ভারতের চারটি সিনেমাই বলিউডের—জওয়ান, পাঠান, অ্যানিমেল ও গদর টু। প্রতিটিই আয় করেছে ৬০০ কোটি রুপির বেশি। এর বাইরে দক্ষিণ থেকে ‘‌সালার’, ‘‌লিও’ ও রজনীকান্ত অভিনীত ‘‌জেলার’-এর প্রতিটি আয় করেছে ৪০০ কোটি রুপির বেশি। বলে রাখা প্রয়োজন, এ সিনেমাগুলোর মোট আয় আরো বেশি। এখানে কেবল ভারতের বক্স অফিসের আয়ের কথা বলা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি অনুসারে, ২০২৩ সালে সিনেমা হলে এসেছে ৯৪ কোটি দর্শক। ২০২২ সালের তুলনায় দর্শক বেড়েছে ৬ শতাংশ। কিন্তু অতিমারীর আগের তুলনায় দর্শক কমেছে। কেননা ২০১৯ সালে ১০৩ কোটি দর্শক হলে গিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের মতো করে সিনেমা মুক্তি পেলে ২০২৪ সালে দর্শক ও আয় দুই-ই বাড়বে।