ছুটে চলেছেন টম ক্রুজ। প্রতিনিয়ত তিনি তৈরি করে চলেছেন নতুন রেকর্ড। ক্রুজের মুকুটে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হলো ১৯৮৬ সালের টপ গান সিনেমার সিকুয়েল টপ গান: ম্যাভেরিক। আশির দশকে টনি স্কট পরিচালিত সিনেমাটি কিংবদন্তির মর্যাদা লাভ করেছে। পিট মিচেল ‘ম্যাভেরিক’
চরিত্রটি এখনো বহু যুবকের আইডল। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ম্যাভেরিককে পর্দায় ফিরিয়ে আনলেন পরিচালক জোসেফ কোসিনস্কি।
সময় বদলে গিয়েছে, বদলেছে নায়কের চরিত্র। টপ গানে ২০ বছর বয়সী পিট এখন পঞ্চাশের শেষপাদে। কিন্তু ম্যাভেরিক হয়েই তিনি ফিরেছেন। টম ক্রুজের অভিব্যক্তি, সংলাপ দর্শককে সেই পুরনো পিট মিচেলকেই মনে করিয়ে দেয়। নেভি টেস্ট পাইলটকে ফিরতে হয়েছে টপ গানে। এবার তার কাজ নতুন পাইলটদের প্রশিক্ষণ। টপ গানে টম ক্রুজকে দর্শক যেভাবে দেখে অভ্যস্ত সেভাবে ফিরছেন কি না তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ ছিল। কিন্তু সিনেমায় চরিত্রের বাঁক বদল হলেও পুরনো আবেশ ফিরে পাওয়া যায়।
কোসিনস্কি মূলত সাইফাই জনরার সিনেমার জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এবারের সিনেমায় একাধিক অ্যাকশন সিকোয়েন্স তিনি এনেছেন। বেশকিছু ‘রক অ্যান্ড রোল’ ফাইটার পাইলট অ্যাকশন দিয়ে সাজানো টপ গান: ম্যাভেরিক। সেখানে টম ক্রুজ তথা ম্যাভেরিক সেই তরুণ যুবার মতোই ক্ষিপ্র। টপ গানে টম ক্রুজ নিজেকে চিতার মতো গতি-ক্ষিপ্রতা নিয়ে হাজির হয়েছেন। আর সেটি স্পষ্ট উপস্থাপনের কৃতিত্ব কোসিনস্কির। ইরেন ক্রুগার, এরিক ওয়ারেন ও ক্রিস্টোফার ম্যাকুয়েরের চিত্রনাট্য ম্যাভেরিককে উপস্থাপন করার পাশাপাশি সিনেমার মূল গল্প ম্যাভেরিককে কেন্দ্র করে সাজিয়েছেন।
গল্পটা খানিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। ২০২২ সালে এসেও ম্যাভেরিক এখনো একজন ক্যাপ্টেন। অথচ তার অ্যাডমিরাল পর্যায়ে পৌঁছনোর কথা। কিন্তু তার ক্রোধী আচরণ ও অন্যান্য কারণে তিনি পদোন্নতিবঞ্চিত। কিন্তু তরুণ তুর্কিদের কাছে ম্যাভেরিক এখনো নায়ক। সময় পেরিয়ে গিয়ে তার প্রতিযোগীও এখন তার বন্ধু। সতীর্থ আইসম্যান এখন অ্যাডমিরাল। চরিত্রটিতে একটি ক্যামিও করেছেন ভ্যাল কেলমার। মিঠেকড়া সম্পর্কের মধ্যে আইসম্যান ও ম্যাভেরিককে দেখে দর্শকরা নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হবেই।
টম গান: ম্যাভেরিক মূলত কয়েক প্রজন্মের আগ্রহের সিনেমা। আশির দশকে যারা টপ গান দেখেছিলেন তারা এখন প্রৌঢ়। পরবর্তী সময়েও এ সিনেমার বহু ভক্ত তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে তরুণ এ প্রজন্ম অ্যাকশন সিনেমার নতুন ধারার সঙ্গে পরিচিত। সিকুয়েল নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রাখতে হয়েছে কোসিনস্কির। এ কাজে পরিচালক পুরোপুরি সার্থক। এর মধ্যে সাইক্লোনের কূটনৈতিক আচরণ ম্যাভেরিকের কাজে প্রভাব ফেলে। সিনেমায় ম্যাভেরিকের পাশাপাশি সাইক্লোন ও রুস্টারের চরিত্র সমান কৌতূহলোদ্দীপক এবং উপভোগ্য। ব্র্যাডলি ব্র্যাডশর (রুস্টার) পরিণতির জন্য দর্শক এখনো ম্যাভেরিককে দোষারোপ করে, কিন্তু ম্যাভেরিকের প্রতি ক্ষোভ রাখা সম্ভব হয় না। ম্যাভেরিকের গল্পের এটিই অন্যতম শক্তিশালী দিক।
অভিনয়ের দিক থেকে বলা যায়, টম ক্রুজের প্রতিই দর্শকের নজর আটকে থাকে। কিন্তু সমানতালে ভালো করেছেন মাইলস টেলার, মনিকা বারবারো, বশির সালাউদ্দিন, জন হ্যাম ও জেনিফার কনেলি। জেনিফার এ ফ্র্যাঞ্চাইজের নতুন সংযোজন। পেনি বেঞ্জামিন চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন বলা যায়। যদিও এ ধরনের সিনেমায় নারী চরিত্রগুলোকে বেশি সুযোগ দেয়া হয় না। এ নিয়ে অনেকের অভিযোগও রয়েছে।
মূলত টপ গানের মতো সিনেমা একটি টিম ওয়ার্ক আর সেখানে যদিও ম্যাভেরিক বা টম ক্রুজ প্রধান ব্যক্তি কিন্তু মিশনে যেমন একজনের কাজে পূর্ণতা আসে না, এ সিনেমাও তেমনি। চিত্রনাট্য, পরিচালনা এমনকি মিউজিকের ক্ষেত্রেও দারুণ কাজ করেছে। কোসিনস্কির সিনেমায় আরেকটি সংযোজন ছিল লেডি গাগার গানটি। ‘হোল্ড মাই হ্যান্ড’
শিরোনামের গানটিতে ব্র্যাডশর মৃত্যুদৃশ্যটি দর্শককে আবেগমথিত করে।
ম্যাভেরিকের ক্যারিশমার পাশাপাশি বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি বক্স অফিসেও ক্যারিশমা দেখিয়ে চলেছে। বছরের অন্যতম বড় ওপেনিং ছিল টপ গান: ম্যাভেরিক। মুক্তির চারদিনে ১৮ কোটি ডলাার আয় করেছে সিনেমাটি। ফাইটার প্লেন যেমন উড়ে চলে তেমনি দ্রুত তার গতি। কিন্তু ম্যাভেরিকের যাত্রার মধ্যে দর্শক তার পুরনো সময়কে ফিরে পায়। মিচেলের বয়স ৫০ পার হলেও দর্শক তাকে সেই ২০ বছরের তরুণ সেনার মতোই মনে করে। ফাইটার প্লেন আর কাওয়াসাকি বাইকের সঙ্গে দর্শক ভাসে নস্টালজিয়ায়।










