দেশের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মধুমিতা। প্রায় অর্ধশত বছর পেরিয়েছে এ হলের। স্পষ্ট করে বললে, দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে চলছে এটি। দেশের সিনেমা ব্যবসা মন্দা হলেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলটিতে লোকসান দিয়েও সিনেমা প্রদর্শন চালু রাখার চেষ্টা করেছেন এর বর্তমান কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ। তবে বর্তমানে লোকসানের কারণে মধুমিতা সিনেমা হল বন্ধ করার চিন্তাও আছে তার। এটি ভেঙ্গে এখানে একটি মাল্টিপ্লেকস তৈরি হতে পারে।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর অতিক্রম করায় বছরজুড়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশে চলচ্চিত্র বাজারের ধারাবাহিক মন্দায় ঐতিহ্যবাহী হলটি সামনের দিকে ভালো সিনেমা না এলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখান নওশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় সব সিনেমা হলই বন্ধ হয়ে গেছে। সিনেপ্লেক্স ছাড়া সিঙ্গেল স্ক্রিন নেই বললেই চলে। মধুমিতা একটা ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল। এটি আমরা এতদিন ধরে রেখেছিলাম। আমাদের দেশে বর্তমানে ভালো সিনেমা নেই। সিনেমা তৈরির মেধা শেষ হয়ে গেছে। যে সিনেমাগুলো বর্তমানে তৈরি হচ্ছে, এগুলো সিনেপ্লেক্সে চলে। কিন্তু সিঙ্গেল স্ক্রিনে চলে না। আমাদের শাকিব খানের সিনেমা অথবা ঈদ উৎসবের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়।
সারা বছর ভালো কোনো সিনেমা থাকে না।’ আক্ষেপ করে নওশাদ বলেন, ‘‘‘দরদ’’ প্রদর্শন করে গত ২৮ নভেম্বরের পর সিনেমা প্রদর্শন আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এরপর মধুমিতায় কোনো সিনেমা চলেনি।’
মধুমিতা সিনেমা হলের সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা সাউন্ড সিস্টেমের জন্য অনেক টাকা খরচ করেছি। স্ক্রিনের জন্যও অনেক টাক খরচ করেছি। এর সবই বৃথা গেল।’
প্রজেক্টর নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সের যে প্রজেক্টর আছে, সেটা হলে ভালো হতো। কিন্তু এটা কিনতে গেলে অনেক টাকা গুনতে হবে। আমাদের যেহেতু স্ক্রিন বড়, লেন্থ বড়, নতুন প্রজেক্টর আনতে গেলে প্রায় ৮০ লাখ টাকা লাগবে, এটা আনব কিনা এমন সিদ্ধান্ত নিতেই সাহস পাচ্ছি না। দেখা গেছে, আমরা প্রজেক্টরটা আনলাম, কিন্তু এর পয়সা যে উঠে আসবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। মধুমিতায় সম্প্রতি যে দেড় কোটি টাকা খরচ হয়েছে, এটাই তো উঠছে না।’ সিনেপ্লেক্স নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেপ্লেক্সেও সিনেমা ভালো যাচ্ছে না। হলিউডের সিনেমাও এখন তেমন ভালো যাচ্ছে না। মোট কথা আমাদের ভালো কনটেন্ট নেই।’
মধুমিতা সিনেমা হল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে নওশাদ বলেন, ‘রোজার ঈদ বা কোরবানির ঈদে সিনেমা চলতে পারে। তবে ভালো সিনেমা এলে চলতে থাকবে, সিনেমা না এলে লসে যেতে চাচ্ছি না। এমন হলে বন্ধ করে দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’










