কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে ‘‌ব্যোমকেশ ও দুর্গরহস্য’র টিজার। বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত সিনেমাটিতে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেব। সিনেমাটি নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল এবং নানা কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ব্যোমকেশ ভক্তরা ব্যোমকেশ চরিত্রে দেবকে কেমন লাগবে তা নিয়ে বেশ সমালোচনাই করেছেন। টিজার মুক্তি পাওয়ার পরও তা থেমে নেই। এদিকে কাছাকাছি সময়ে স্ট্রিম হবে অনির্বাণ ভট্টাচার্য অভিনীত ব্যোমকেশ সিরিজের এবারের সিজন। সেটিও ‘‌দুর্গরহস্য’। এর পরিচালক সৃজিত মুখার্জি।

পশ্চিমবঙ্গে গোয়েন্দা কাহিনী অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণের ধুম পড়েছে। শুরুটা হয়েছিল আরো আগে, কিন্তু এখন গোয়েন্দা চরিত্রগুলো নিয়ে রীতিমতো চানাহেঁচড়া করছেন নির্মাতা এমনকি অভিনেতারা। ব্যোমকেশের এই একই সময়ে দুই সিনেমা-সিরিজ সেই পরিস্থিতির একটি উদাহরণ। পশ্চিমবঙ্গে ব্যোমকেশ থেকে সিনেমা নির্মাণের এ হিড়িকের শুরু গত দশকের শুরুতে। আবির চ্যাটার্জিকে ব্যোমকেশ ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে অজিত চরিত্রে কাস্ট করে সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন অঞ্জন দত্ত। ‘‌ব্যোমকেশ বক্সী’ নামে অঞ্জনের প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১০ সালে। আবির-শাশ্বতকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন আরো দুটো সিনেমা। কিন্তু এর পরই ভাঙন।

অঞ্জনের সিনেমা থেকে কোনো কারণে সরে যান আবির। ২০১৫ সালে যীশু সেনগুপ্তকে নিয়ে অঞ্জন দত্ত নির্মাণ করেন ‘‌ব্যোমকেশ বক্সী’। যীশুকে নিয়ে তিনি ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আরো দুটি সিনেমা নির্মাণ করেন। একই সময়ে আবির চ্যাটার্জি আবার অরিন্দম শীলের পরিচালনায় ‘‌হর হর ব্যোমকেশ’ (২০১৫), ‘‌ব্যোমকেশ পর্ব’ (২০১৬) ও ‘‌ব্যোমকেশ গোত্র’ (২০১৮) সিনেমায় অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে ২০১৭ সাল থেকে হইচইয়ে স্ট্রিম হয়েছে ব্যোমকেশ সিরিজ, যেখানে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এখানেই শেষ নয়, ২০১৪-১৬ পর্যন্ত ইটিভি বাংলায় প্রচার হয়েছে ব্যোমকেশের টেলিভিশন সিরিজ, যেখানে অভিনয় করেছে গৌরব চক্রবর্তী।

মজার বিষয়, অঞ্জন দত্তর ব্যোমকেশে সত্যবতীর চরিত্রে আবিরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন উষসী চক্রবর্তী, অরিন্দম শীলের আবিরের সত্যবতী সোহিনী সরকার। হইচইয়ের সিরিজে অনির্বাণের বিপরীতে সত্যবতী ঋদ্ধিমা, কিন্তু সৃজিতের পরিচালনায় অনির্বাণের সত্যবতী আবার সেই সোহিনী সরকার। অন্যদিকে ইটিভির সিরিজে গৌরবের বিপরীতে সত্যবতী ছিলেন ঋদ্ধিমা। সিরিজ বা সিনেমাগুলো কেমন হয়েছে, তার চেয়েও একই চরিত্রে ভিন্ন ভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীর ঘুরেফিরে আসার বিষয়টি বিরক্তিকর। এদিকে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও ব্যোমকেশ হয়েছেন।

কিন্তু কেবল ব্যোমকেশেই থেমে নেই। ফেলুদাকে নিয়েও টানাটানির শেষ নেই। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর সবার জন্য ফেলুদা হয়ে উঠেছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। তার পর ফেলুদা খোঁজা বা ফেলুদা হিসেবে কাওকে প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে ফেলুদা হতে চাওয়া অভিনেতাই যেন বেশি। কখনো অভিনেতা নিজেই নির্মাতা হয়ে গেছেন। এক্ষেত্রে পরমব্রত এক কাঠি সরেস। একসময় তপেশ চরিত্রে অভিনয় করা পরম নিজের নির্মাণে নিজেই ফেলুদা হয়েছিলেন। সম্প্রতি আরেকটি সিরিজ করেছেন তিনি। কিন্তু ফেলুদার সেই ইমেজ ধরতে পারছেন না। ওদিকে সৃজিত নতুন ফেলুদা হিসেবে এনেছেন টোটা রায়চৌধুরীকে। সন্দীপ রায়ের ফেলুদা হয়েছেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। তিনি আবার কিরীটী রায়ও বটে। বাংলাদেশে আহমেদ রুবেলও ফেলুদা হয়েছিলেন।

মূলত একটা সময় দক্ষিণ ভারতের সিনেমার রিমেক করে করে এখন পশ্চিমবঙ্গ মৌলিক সিনেমা নির্মাণ ভুলে গেছে। সে কারণে তৈরি হয়েছে গল্পের সংকট। ঘুরেফিরে যেতে হচ্ছে ফেলুদা-ব্যোমকেশে। কিন্তু টানাটানি এত বেশি হচ্ছে যে দ্রুতই তা থামানো দরকার।