ভোগ ফিলিপাইনসের প্রচ্ছদ করা হয়েছে ১০৬ বছর বয়সী ট্যাটুশিল্পীকে নিয়ে। ভোগের ফিলিপাইন এডিশনের এবারের কভার স্টার। কেবল বয়সের জন্য নয়, তিনি আরো নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আপো ওয়াং-অড নামের এ ট্যাটুশিল্পী ফিলিপাইনের বাসকালান অঞ্চলে বসবাস করেন। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ট্যাটুকে ধারণ করেন তিনি। বলা যায় এ ট্যাটুকে ওয়াংই র্বঁচিয়ে রেখেছেন। কেননা ট্যাটু তৈরি ও গায়ে বসানোর প্রক্রিয়াটি বহু বছরের পুরনো। সে ধারায় এখন আর কেউ কাজ করে না।
ভোগ তাকে প্রচ্ছদ স্টার করার পর প্রচ্ছদটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছে। এর সঙ্গে লিখেছে, ‘তিনি কলিঙ্গ গোত্রের চিহ্নকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ চিহ্ন সাহস, শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক।’ এ কথা লেখার কারণ বাসকালানের ঐতিহ্যবাহী ট্যাটু আসলেও সাহস ও শক্তির প্রতীক। পুরুষদের জন্য সেটা ছিল বীরত্বের আর নারীদের জন্য সৌন্দর্যের। এখন সে পুরনো সময় নেই। কিন্তু গত ১৫ বছর ওয়াং-অড তার এ প্রতিভাকে উদযাপন করেছেন। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে ট্যুরিস্টরা তার গ্রামে এসেছে ও ট্যাটু করিয়ে নিয়ে গেছে।
ওয়াং-অড মূলত প্রায়-মৃত একটি ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। যে ধারায় তিনি ট্যাটু করেন, তা এখন আর কেউ করে না। তিনি একটি কাঁটার সাহায্যে ট্যাটু করেন। আর কালি হিসেবে ব্যবহার করা হয় কয়লা ও পানি। ওয়াং-অড বলেন, ‘পাতিলের গায়ে লাগা কয়লা থেকেই কালি তৈরি করি।’
ওয়াং-অড ও তার ট্যাটু মূলত বাসকালানের ইতিহাস বহন করে। অঞ্চলটি নানা সময়ে শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। সে কারণে বাসকালানের মানুষেরা এমন করে বসতি নির্মাণ করলেন, যেন আগুয়ান শত্রুদের সহজে দেখা যায়। খণ্ডযুদ্ধ লেগেই থাকত। এর সঙ্গেই যুক্ত ট্যাটুর ইতিহাস। তাকে নিয়ে নির্মিত একটি ভ্লগে ওয়াং-অড বলেন, ‘এখন তো যে কেউ ট্যাটু করায়। আমাদের এখানে কেউ যখন যুদ্ধে কাউকে হত্যা করত, তখন ট্যাটু করত। ট্যাটুর মানে ছিল, তারা যোদ্ধা। আর মেয়েরা করত অন্য রকম ট্যাটু। সেগুলো তাদের সৌন্দর্য বাড়াত।’ কতদিন ধরে ট্যাটু করছেন, এ প্রশ্নে জবাবে তিনি হেসে বলেন, ‘একশ বছর বয়স হতেও পারে আমার। আর আমি যখন এইটুকু ছিলাম, তখন থেকেই ট্যাটু করি।’ আরো কতদিন এ কাজ করবেন জানতে চাইলে তিনি ভোগকে বলেছেন, ‘যতদিন চোখে দেখতে পাই ততদিন। আমি মানুষের মাঝে বাসকালানের চিহ্ন রেখে যেতে চাই।’










