গত বছর আগস্টে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় ‘হার্ট অব স্টোন’। সিনেমার মূল চরিত্রে ছিলেন গাল গাদত। ওয়ান্ডার উইম্যান হিসেবে খ্যাতি পাওয়া গাদত এ সিনেমায় দুর্দান্ত অ্যাকশন করেছেন। ‘হার্ট অব স্টোন’-এ গাদতের সহঅভিনেত্রী ছিলেন আলিয়া ভাট। বলিউডের শিল্পীরা সাধারণত এ ধরনের সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্র পান, কিন্তু সিনেমায় আলিয়ার চরিত্রটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যদিও অ্যাকশন তিনি করেননি। এর আগে অবশ্য ‘সিটাডেল’ সিরিজে প্রিয়াংকাকে অ্যাকশন করতে দেখা গেছে। তবে তা ভারতের বাইরে। ভারতে, বিশেষত বলিউডে অভিনেত্রীদের হার্ডকোর অ্যাকশন করতে দেখা যায় না। ক্যাটরিনা কাইফ, দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়াংকা, শিল্পা শেঠি কিছু অ্যাকশন করলেও তা সাধারণ। তবে অভিনেত্রীরা এখন অ্যাকশনে আগ্রহী।
বলিউডের বার্বি ডল ক্যাটরিনা কাইফই বলা যায়, সবার আগে অ্যাকশনে একটু নতুনত্ব দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। টাইগার সিরিজের সিনেমাগুলোয় সে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে প্রথম সিনেমা ‘এক থা টাইগার’-এ ততটা ছিল না। তবে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ সিনেমায় ছিল বেশ কয়েকটি দৃশ্য। একটা হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট ক্যাটরিনাকে নতুন করে পরিচয় করায়। ‘টাইগার থ্রি’তেও নতুন করে নিজেকে অ্যাকশনের জন্য গড়েছেন তিনি। এ নিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘জয়ার চরিত্রে অভিনয় করে আমি গর্বিত। এখন তো এটা যশরাজের স্পাই ইউনিভার্সেরই অংশ হয়ে গেল। জয়ার চরিত্রটি হিংস্র বা মরিয়া। আবার সে বিশ্বাসী, অন্যকে রক্ষা করে। এবার জয়া ফিরছে মানুষের জন্য। প্রতিবার সে মানুষের ভালোর জন্য কাজ করে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না।’
টাইগার থ্রিতে অ্যাকশনের ক্ষেত্রে নিজেকে নতুন করে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন ক্যাটরিনা। এ নিয়ে ক্যাট বলেছিলেন, ‘টাইগার থ্রি অন্য দুটো সিনেমার চেয়ে ভিন্ন নয়। তবে আমরা অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলোকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। শরীর যতটা সহ্য করতে পারে তার শেষ বিন্দুতেই গেছি। এটা আমার সক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রমাণ।’
গত মাসে এসেছিল রোহিত শেঠির উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স। এতে লেডি অফিসার তারা শেঠির চরিত্রে অভিনয় করেন শিল্পা শেঠি। তিনিও অ্যাকশন সিনেমা ও সিরিজে অভিনেত্রীদের আসা ও অভিনেত্রীদের নিয়ে অ্যাকশন সিনেমা করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
পিটিআইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শিল্পা বলেন, ‘আমরা সাধারণত বাজেটের কারণে নারীদের নিয়ে অ্যাকশন ফিল্ম তৈরি করি না। তার চেয়েও বড় কথা আমরা এখনো একটা পুরুষ শাসিত সমাজেই বাস করি। খুব খুশি হব যদি এ চিত্র বদল হয়। এমন একটা ইন্ডাস্ট্রি দেখতে চাই, যেখানে ভারতের অভিনেত্রীরাও গাল গাদত, স্কারলেট জোহানসনদের মতো অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করবেন। আমি নিজে ‘‘লং কিস গুডনাইট’’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। এ সিনেমাগুলোয় ইমোশন আর কনটেন্ট দুটোই থাকে। আমি আশা করি, আমাদের নির্মাতারাও এ রকম কাজ করবেন।’
মুক্তির অপেক্ষায় আছে বিদ্যুৎ জামওয়াল, অর্জুন রামপাল ও নোরা ফাতেহি অভিনীত ‘ক্র্যাক’। এ সিনেমা ম্যান টু ম্যান অ্যাকশনের, কিন্তু অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি জানাচ্ছেন তিনিও অ্যাকশন সিনেমায় অভিনয় করতে চান। নোরা বলেন, ‘আমি আশা রাখি, একদিন লেখক ও নির্মাতারা নারী চরিত্র নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করবেন, যাতে এ ধরনের স্টান্ট থাকবে। আমি তাদের মতো (অভিনেতাদের মতো) অ্যাকশন করতে চাই। কারণ আমি এখন এ ধরনের অ্যাকশন সিন করার জন্য প্রস্তুত।’ তিনি আরো জানান, নৃত্যশিল্পী হওয়ার কারণে অ্যাকশন সিকোয়েন্সে শরীরকে সহজে নড়াচড়া করানো তার জন্য সহজ।
এমনকি অ্যাকশন-প্যাকড সিনেমায় অভিনয় করতে চান হুমা কোরেশীও। রণবীর কাপুরের ‘অ্যানিমেল’-এর নাম করেছেন তিনি। এ সিনেমার রণবিজয়ের মতো বন্দুক হাতে গোলাগুলি করতে চান হুমা। মূলত এ ধরনের সিনেমার দিকে আগ্রহ বাড়ছে অভিনেত্রীদের। বলিউডে নানা সময় যুদ্ধ ও অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনেত্রীরা চিরাচরিত ধারার চরিত্রেই অভিনয় করে এসেছেন। সে জায়গা থেকে সরে গিয়ে এখন তারা নিজেদের অন্য রূপেও দেখতে চান।










