বলা হয়েছিল তার ক্যারিয়ার শেষ। নব্বইয়ের দশকের সুদর্শন তারকা ব্রেন্ডন ফ্রেজার তার ফিটনেসের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন। সে লোকটিই হারালেন ফিটনেস। অবস্থা এমন হলো নায়ক হওয়ার সুযোগ আর তার নেই। ক্যারিয়ার শেষ, এমন কথা তো লোকে বলবেই। কিন্তু তিনি ফিরলেন। নায়ক হিসেবে নয়, অভিনেতা হিসেবে। আর ব্যাপারটা অনেকটাই হলো—এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ফিরে এসেছেন নানা অপমান আর ব্যক্তিগত জীবনের বহু সংকট পার করে। বাঘা বাঘা নায়ক, অভিনেতাদের টপকে অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতলেন ব্রেন্ডন ফ্রেজার।
অস্কারের মঞ্চে পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিচালক অ্যারনোফস্কিকে। তিনি বলেন, ‘আমি ড্যারেন অ্যারনোফস্কির প্রতি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং দ্য হোয়েলের মতো একটি সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছেন।’ পুরস্কার হাতে নিয়ে তার প্রথম কথাটি ছিল দারুণ। তিনি বলেন, ‘মাল্টিভার্স দেখতে তাহলে এ রকমই।’ মাল্টিভার্সের তত্ত্ব অনুসারে একটি দুনিয়ায় ব্যর্থ ব্যক্তি অন্য দুনিয়ায় হয়তো চূড়ান্ত সফল। ফ্রেজারের মনে হয়েছে, তিনি অন্য দুনিয়ায় পৌঁছে গেছেন। এমন মনে হওয়ারই কথা, কেননা ৫৪ বছর বয়সী এ তারকাকে বহু কিছু পার করে আসতে হয়েছে।
প্রায় ১৫ বছর পর ফিরলেন ফ্রেজার। এ প্রজন্মের অনেকে তার নাম শুনল কেবল। অথচ ব্রেন্ডনের ক্যারিয়ার প্রায় ৩০ বছরের। নব্বইয়ের দশকে হলিউডের অ্যাকশন ও মিস্ট্রি জনরার সিনেমায় তিনি ছিলেন অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ১৯৯৯ সালের দ্য মাম্মি ও ২০০১ সালের দ্য মাম্মি রিটার্নসের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত। মাম্মি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এ দুটো ওই সময়ের জনপ্রিয়তম সিনেমা। সেখানে রিক চরিত্রে ব্রেন্ডনের অভিনয় থেকে শুরু করে তার পারফরম্যান্স সবার নজরে পড়ে। ফ্রেজার ছিলেন তার সময়ের সুদর্শন নায়কদের মধ্যে একজন। ‘হ্যান্ডসাম’ শব্দটি যেন তার ক্ষেত্রে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। কিন্তু হলিউডে তিনি মানাতে পারেননি বা হলিউড তাকে মেনে নিতে পারেনি। সে কারণেই দীর্ঘ বিরতি।
২০০৩ সালে হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফিলিপ বার্ক বেভারলি হিলস হোটেলে ফ্রেজারকে হেনস্তা করেন। এ কথা ফ্রেজার নিজেই জানিয়েছিলেন। ফলে বার্কের মতো ক্ষমতাসীন ব্যক্তির সঙ্গে সমস্যা তৈরি হওয়ায় অভিনয়ের সুযোগ কমে যায় ফ্রেজারের। ব্যক্তিগত জীবনেও গেছে নানা উত্থান-পতন। ২০০৮ সালের পরই কমে যায় ব্রেন্ডন ফ্রেজারের কাজের পরিমাণ। কিন্তু ওই বছর তাকে দেখা গিয়েছিল ‘দ্য মাম্মি: টম্ব অব দ্য ড্রাগন এমপেরর’ ও ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দি আর্থ’-এর মতো সিনেমায়। সে বছরই ব্রেন্ডনের ডিভোর্স হয়। অ্যাফটন স্মিথের সঙ্গে ডিভোর্সের পর প্রাক্তন স্ত্রী ও সন্তানের জন্য তাকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হতো। ২০১১ সালে তিনি আদালতে পিটিশন করে জানান, বার্ষিক ৬ লাখ ডলারের খোরপোশ দেয়ার মতো আর্থিক সংগতি তার নেই। ব্রেন্ডনের তিন সন্তানের বড় গ্রিফিন। অটিজমে আক্রান্ত গ্রিফিনের জন্য আলাদা মনোযোগ দিতে হয়।
সিনেমায় ফেরার ইচ্ছা ব্রেন্ডনের ছিল না এমন নয়। নিজেকে ভেঙে গড়েছেন নতুন করে। হ্যান্ডসাম রিক এখন ৬০০ পাউন্ডের চার্লি। তিনি কেমন অভিনেতা, সে বিষয়ে অ্যারনোফস্কির একটি কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেন, ‘এ চরিত্রের জন্য আমি পৃথিবীর অন্য কোনো অভিনেতার কথা চিন্তায়ও আনিনি।’ অস্কারে ১৪ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন তাই ফ্রেজারের চোখে অশ্রু আনে। আর আমাদের মনে হয়, এভাবেও ফিরে আসা যায়।










