সুপারস্টারদের যুগ শেষ হয়ে এসেছে, এমন কথা আকসারই শোনা যায়। কিন্তু সিনেমা বা অন্য যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিতে তারকার বিকল্প নেই। তারকারাই একটি শিল্পের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি। সিনেমার ক্ষেত্রে এ কথা আরো বেশি প্রযোজ্য। সুপারস্টাররা নিয়ে আসেন ব্যবসা। সে কারণে প্রতিটি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সুপারস্টার খোঁজে, প্রয়োজনে তৈরি করে। একই রকম অবস্থা তামিল ইন্ডাস্ট্রিরও। প্রায় চার দশক ধরে তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় একচ্ছত্র জনপ্রিয়তা ছিল রজনীকান্তের। এখনো নেই এমন নয়, তবে ‘থালাইভা’র বয়স এখন ৭২ বছর। ফলে তামিল সিনেমার জন্য প্রয়োজন নতুন সুপারস্টার। এ তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবেন থালাপতি বিজয়, অজিত কুমার, সুরিয়া ও ধানুশ। কিন্তু তাদের মধ্যে কে হবেন পরবর্তী সুপারস্টার, তা নিয়ে একটি চাপা গুঞ্জন রয়েছে।
রজনীকান্তকে কেবল তামিলনাড়ু নয়, পুরো ভারতই থালাইভা সম্বোধন করে। ‘নেতা’র সমার্থক এ শব্দ রজনীকান্ত অর্জন করে নিয়েছেন। তামিল সিনেমায় কেবল রজনীকান্ত একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন এমন নয়। একটা সময় তামিলে রাজত্ব করেছেন কমল হাসানও। কমল হাসান একদিকে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি সমালোচকদের তালিকায়ও তিনি এগিয়ে থাকেন। অন্যদিকে রজনীকান্তের ভক্তকূল বিস্তৃত। তাদের কারো কাছে তিনিই নায়ক, তিনিই নেতা, এমনকি কেউ কেউ তাকে বসিয়েছে দেবতার আসনে। সে কারণে ‘সুপারস্টার’ বলতে যে ইমেজ বোঝায়, তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে তা রজনীকান্তের মতো আর কারো ছিল না। এখনো ৭০ বছর বয়সে দরবারে তুমুল এনার্জি নিয়ে অভিনয় করে দর্শক মাতান তিনি।
ফিরে এসেছেন কমল হাসানও। কিন্তু তার বয়সও কম হলো না। তামিল ইন্ডাস্ট্রির নতুন সুপারস্টারের জন্য প্রয়োজন তুলনামূলক তরুণ অভিনেতা। সেদিক থেকে গত কয়েক বছরে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন অজিত কুমার। তামিল সিনেমার যে মারদাঙ্গা অ্যাকশনের ধারা, সেখানে অজিত এগিয়ে থাকেন। ভীরম, বিশ্বাস, ভেলিমাইয়ে তার ‘মাথা গরম’ চরিত্রে অভিনয় পছন্দ করেছে দর্শক। ১১ জানুয়ারি মুক্তি প্রত্যাশী থুনিভু নিয়েও ইতিবাচক ভাবনাই দেখা যাচ্ছে। সেদিক থেকে এগিয়ে আছেন অজিত। কিন্তু অজিতের এ জনপ্রিয়তা বেশি দিনের নয়। সে তুলনায় এগিয়ে আছেন সুরিয়া। সিনেমার পাশাপাশি সামাজিক কাজকর্মের কারণে দর্শকের গুডবুকে সুরিয়া আছেন বহু আগে থেকেই। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া সোরুরাই পোটরু ও ২০২১ সালের জয় ভীম তাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। তবে দর্শক-পছন্দের তালিকায় এখন শীর্ষে থাকবে লোকেশ কনগরাজের দেয়া ‘রোলেক্স’ চরিত্রটি। বিক্রমের সিকুয়ালে তিনি এ চরিত্রে ফিরবেন।
কিন্তু সুরিয়া সুপারস্টার হতে পারলে ধানুশ কেন নয়? আসুরান, কারনান, মারীর এ অভিনেতা সুপারস্টার হওয়ার যোগ্য। তবে গ্ল্যামারে ধানুশ কিছুটা পিছিয়ে থাকেন। আবার অ্যাংরি ইয়াং ম্যান হলেও কারনান, শামিতাভের মতো সিনেমার এ অভিনেতা সমালোচকদের পছন্দের সিনেমায়ও এগিয়ে। রজনীকান্তের জামাতা হলেও রজনীকান্তের মতো ‘ধুম ধারাক্কা’ অভিনেতা তিনি নন। ঠিক এ জায়গায় সবার তুলনায় এগিয়ে থাকেন থালাপতি বিজয়। রজনীকান্তের মতো মাথা গরম, অসম্ভব অ্যাকশন ও ডায়লগ ডেলিভারি এ অভিনেতার বৈশিষ্ট্য।
১৯৮৪ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিষেক হওয়া বিজয়ের ক্যারিয়ারে সিনেমার সংখ্যা ৭৮টি। এর মধ্যে কিছু তার কৈশোরের এবং কোনো কোনোটায় ক্যামিও করেছেন। কিন্তু এ শতকে এসে শুরু থেকেই বিজয়ের ক্যারিয়ার গতিময়। তার সিনেমায় যেমন আছে রোমান্স, তেমনি আছে অ্যাকশন। থুপাক্কি, থেরি, মার্শাল, ভৈরব, বিগিলের পর মাস্টারে তার অভিনয়ে থিয়েটারের দর্শক তুমুল তালি বাজিয়েছে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে তার অ্যাকশন, সংলাপে রজনীকান্তের প্রভাব আছে। এছাড়া দেখা যাচ্ছে, জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখরকে বলা হয় ‘থালাপতি’ যা কিনা থালাইভারই প্রতিশব্দ। সুতরাং ধরে নেয়া যায় বিজয়ই এগিয়ে থাকছেন সবার তুলনায়।
এক সাক্ষাৎকারে রজনীকান্ত বলেছিলেন, ‘রাজা কোনো ব্যক্তি নয়। একটি পদ। সুপারস্টারও তেমনি। একজন সুপারস্টার চলে গেলে সে স্থানটি আরেকজনের হবে।’ তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে সে জায়গাটি রজনীকান্তের পরে সম্ভবত বিজয়েরই হবে।










