রয়্যাল শেকসপিয়ার কোম্পানির প্রযোজনা ‘কিং লিয়ার’। লিয়ারের চরিত্রে মাইকেল গ্যামবন, অ্যান্টনি শের করলেন ‘ফুল‘-এর চরিত্র। ১১৩ মিনিট দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলেন দুজন। ছিলেন আরো অনেকে, কিন্তু নজর কেড়েছিলেন এ দুজন এবং অবধারিতভাবেই যেন লিয়ারের দিকেই নজর পড়েছিল সবার। সে নাটক অনেকেরই দেখা হয়নি, কিন্তু দেখেছিলেন জেকে রাউলিং। সে কারণেই হয়তো প্রফেসর ডাম্বলডোরের চরিত্রে বসেছিলেন গ্যামবন। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান’ প্রথম দেখেছিল দীর্ঘ দাড়ি ও জোব্বা পরা ডাম্বলডোরকে। এর পর থেকে তিনি হ্যারি পটারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। দর্শকের অন্যতম প্রিয় চরিত্রে পরিণত হয়েছিল ডাম্বলডোর, যার আড়ালে ছিলেন মাইকেল গ্যামবন।
অ্যালবাস ডাম্বলডোরের আড়ালে থাকা গ্যামবনের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৯ অক্টোবর, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে। পরবর্তী সময়ে তিনি তার মায়ের সূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক হন। ১৯৪৫ সালে বাবার সঙ্গে লন্ডনে আসেন। উত্তর লন্ডনের কেন্টে তিনি টুল মেকিংয়ে যোগ দেন খুব অল্প বয়সে। তখনো নাটক সম্পর্কে মাইকেলের কিছু জানা ছিল না। কিন্তু কাজের সূত্রে কয়েকটি নাটকের স্টেজ বানাতে হয়েছিল এবং তখনই নাটক কোম্পানির তরফ থেকে তাকে কয়েকটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেয়া হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে গ্যামবন বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানতাম না। কিন্তু চরিত্রগুলো করার পর থেকে মনে হতে থাকে এটা আমারই কাজ। তখন থেকেই আমি একজন অভিনেতা হতে চাইতাম।’
অভিনয়ে আগ্রহ জন্মাতেই তিনি ডাবলিনের গেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ম্যাকলিমোয়ার ও হিলটন এডওয়ার্ডসের কাছে চিঠি লেখেন। ওথেলোয় কাজ করার সুযোগ হয় এবং এরপরই লরেন্স অলিভিয়ারের ন্যাশনাল থিয়েটারে ডাক পান তিনি। অবশ্য চরিত্রটি ছিল বর্শা হাতে হেঁটে চলার ছোট চরিত্র। এমনই চলছিল। এর মধ্যে অলিভিয়ার তাকে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছিলেন তুলনামূলক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের চেষ্টা করার। ১৯৭৪ সালে ‘দ্য নরম্যান কনকোয়েস্ট’ নাটকে তিনি একজন ভেটেরিনারি সার্জনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ওই চরিত্রে গ্যামবনের অভিনয় দর্শককে হাসিয়েছিল।
গ্যামবন নানা সময় বলেছেন, তিনি আয়না দেখতেন না। তার নিজের ধারণা, তিনি দেখতে ততটা সুদর্শন নন। তার দীর্ঘ শরীর, ভারী মুখের কারণে কখনো হ্যামলেট বা অন্য কোনো নায়কোচিত চরিত্রে অভিনয় করেননি। কিন্তু তার অভিনয় দক্ষতা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় তাকে খ্যাতি দিয়েছিল। এর মধ্যে কিং লিয়ার থাকবে ওপরের দিকে। এরপর থিয়েটারে তিনি বহু নাটকে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ডেভিড হেয়ারের স্কাইলাইটের জন্য ১৯৯৬ সালে টনি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেতার মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
হ্যারি পটারে ডাম্বলডোর চরিত্রটি করার আগে তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন একটি টেলিভিশন মিনি সিরিজ দিয়ে। ১৯৮৬ সালে প্রচারিত সিরিজটির নাম ‘দ্য সিংগিং ডিটেকটিভ’। গ্যামবন থিয়েটারকেই বেশি ভালোবাসতেন এবং নানা সময় তা প্রকাশও করেছেন। কিন্তু এরই মধ্যে সুযোগ পেলেই ছোট ও বড় পর্দায় নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
হ্যারি পটারের শুরুতে ডাম্বলডোরের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রিচার্ড হ্যারিস। তার মৃত্যুর পর চরিত্রটি করার প্রস্তাব যায় গ্যামবনের কাছে। আজ গ্যামবন ছাড়া আর কাউকে ভাবা যায় না এ চরিত্রে। গ্যামবনের মৃত্যুর পর একটি টুইটে রাউলিং লিখেছেন, ‘তাকে আমি প্রথম দেখি ১৯৮২ সালে কিং লিয়ারে। সে সময় কেউ যদি বলত আমার কোনো লেখায় তিনি অভিনয় করবেন, আমি বিশ্বাস করতাম না। তিনি ছিলেন অসাধারণ এক অভিনেতা।’ হ্যারি পটার ড্যানিয়েল র্যাডক্লিফ বলেন, ‘তিনি কেবল একজন অসাধারণ অভিনেতাই ছিলেন না, কাজকে ভালোবাসতেন গ্যামবন। মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে।’










