বাজেট ছিল ৭০০ কোটি রুপি। সিনেমা মুক্তির আগেই নানা বিতর্ক। মুক্তি পাওয়ার পর আয় হলো মেরেকেটে ৪০০ কোটি। তা-ও অনেকের সন্দেহ, সঠিক তথ্য দেননি সিনেমার নির্মাতারা। কথা হচ্ছে প্রভাস অভিনীত ‘আদিপুরুষ’ নিয়ে। সিনেমার পরিচালক ওম রাউত ঘটা করে জানিয়েছিলেন, আদিপুরুষ হতে যাচ্ছে ভারতের অন্যতম সেরা সিনেমা। বিশেষত ভিজুয়াল ইফেক্টসে এ সিনেমা অন্য সবাইকে ছাড়াবে। বাস্তবে হয়েছিল উল্টোটা। বাজে ভিএফএক্স ও চরিত্রগুলোর উপস্থাপনায় ‘আদিপুরুষ’ পরিণত হলো ভারতের অন্যতম ব্যর্থ ও বিতর্কিত সিনেমায়। এর আগেও প্রভাস অভিনীত সিনেমা বক্স অফিসে মার খেয়েছে। অথচ তাকে বলা হচ্ছে ‘প্রথম প্যান ইন্ডিয়ান স্টার’। কেননা তাকে তৈরি করা হয়েছিল তুরুপের তাস হিসেবে।
প্রভাসের উত্থান পতনের গল্পটা আগ্রহ জাগানিয়া। যদিও ‘পতন’ কথাটা এখনই হয়তো বলা যায় না, অনেকে মানবেনও না। কেননা প্রভাসকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা এখনো আলোচনা তৈরি করে। আসন্ন ‘সালার’ নিয়ে তো গুজব, গুঞ্জন ও আলোচনার কোনো শেষ নেই। একই দিনে মুক্তির মাধ্যমে শাহরুখ খানের সঙ্গে দ্বৈরথে যাচ্ছে সিনেমাটি। সে হিসেবে প্রভাস অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু খেয়াল করে দেখার বিষয় ‘বাহুবলী’র পর প্রভাসের কোনো সিনেমাই ‘সফল’ হয়নি—না বক্স অফিসে, না দর্শকের কাছে। আদিপুরুষের আগে ২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘রাধে শ্যাম’। সাড়ে ৩০০ কোটি রুপিতে নির্মিত সিনেমার বক্স অফিসে আয় ছিল ২০০ কোটি রুপির কিছু বেশি। এর আগে ‘সাহো’ বক্স অফিসে সফল হলেও দর্শক পছন্দ করেনি সিনেমাটি। ২০১৭ সালে বাহুবলী: দ্য কনক্লুশনের পর প্রভাসের কোনো হিট সিনেমা নেই। কিন্তু বাহুবলীর আগে কী ছিল?
প্রভাসকে অনেক সময়ই ‘রেবেল স্টার’ বলা হয়। এমন না যে তিনি দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো বড় পরিবর্তন এনেছিলেন বলে তার এ নাম। ২০১২ সালে রাঘব লরেন্স পরিচালিত সিনেমা ‘রেবেল’ থেকে প্রভাসের এ নাম হয়েছে। আইএমডিবিতে সিনেমাটির রেটিং ৪ দশমিক ৮। এর আগে করা ‘বিল্লা’ ও ‘ছত্রপতি’ জনপ্রিয়, কিন্তু এর মধ্যে ‘বিল্লা’ সরাসরিই ‘ডন’ (অমিতাভ বচ্চন অভিনীত) থেকে অনুপ্রাণিত। ‘ছত্রপতি’ রিমেক হয়েছে বহুবার এবং বলা যায় ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে রাজামৌলি পরিচালিত এ সিনেমায়ই প্রভাস ভালো কাজ করেছেন।
রাজামৌলি প্রভাসকে উপস্থাপন করেছিলেন ‘মাচো’ হিসেবে। ‘ছত্রপতি’তে তার শারীরিক গঠন ও শক্তিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা দক্ষিণের আমজনতার খুব পছন্দের ধারা। রজনীকান্ত, বিক্রম, প্রভাসকে তারা এভাবেই দেখতে পছন্দ করেন। এরপর ‘মিস্টার পারফেক্ট’, ‘বর্ষ’, ‘মিরচি’তে প্রভাস অ্যাকশন ও রোমান্সের একটা সাম্যাবস্থা তৈরি করেন। ছত্রপতিতে তিনি বৃহত্তর একটা শ্রেণীর পছন্দের তালিকায় এসেছিলেন, যাদের মধ্যে সিংহভাগ পুরুষ। এরপর তিনি লাভার বয় হিসেবে নারীদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পান। তবে প্রভাসের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেড়েছে ‘বাহুবলী’ থেকে। এর কারণ প্রভাস নন। বিজয়েন্দ্র প্রসাদ যেভাবে চরিত্রটি লিখেছেন, আর রাজামৌলি পরিচালনা করেছেন, সেটিই এ চরিত্রের এক্স ফ্যাক্টর। এছাড়া হিন্দি ডাবিংয়ে বাহুবলীর কণ্ঠ দিয়েছিলেন শরদ কেলকার। তার কণ্ঠের কারণে সিনেমাটি হিন্দিভাষী অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পায়।
বাহুবলীর পর প্রভাসের কী হয়েছে, তা যেন দর্শকের কাছেও ধোঁয়াশা। তার ওজন বাড়ল, চেহারা ভাঙল। এসবে প্রভাসের যেন কিছু আসে যায় না। ফিটনেস ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা নেই। স্ক্রিপ্ট বাছতেও ভুল করছেন। কেবল বাহুবলীই তার ক্যারিয়ারের ল্যান্ডমার্ক। এসব কারণে এখন অনেকে তাকে ‘লটারি স্টার’ বলেও ডাকে।
তবু প্রভাসকে নিয়ে নতুন নতুন পরিকল্পনা করছেন দক্ষিণের পরিচালকরা। কারণ বাহুবলী হিট করার পর (সেটাও হঠাৎই হয়েছিল) তাকে দক্ষিণের প্রযোজক পরিচালকরা ‘প্যান ইন্ডিয়ান স্টার’ হিসেবে প্রচার করেছেন। এখন প্রভাসকে দিয়ে তাদের ব্যবসা করতে হবে। কেজিএফের পর যশ সে জায়গা নিতে পারতেন, কিন্তু প্রভাসের তুলনায় তিনি জুনিয়র। তাই প্রভাসই দক্ষিণের ব্যবসায়ীদের একমাত্র অবলম্বন।










