কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতি বছরই দেখা যায় তারকারা লাল গালিচায় হাঁটছেন। তাদের পরনে অদ্ভুত সব পোশাক। আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হলেও যারা এসব পরেন, তাদের পক্ষ থেকে এগুলোকে বলা হয় ‘ডিজাইনার পোশাক’। হয়তো তারকাদের কোনো সিনেমা কানে নির্বাচিতও হয়নি, কিন্তু তারা ‘গ্ল্যামারাস লুক’ নিয়ে হাজির হচ্ছেন রেড কার্পেটে। তাদের নিয়ে লেখা হচ্ছে বড় বড় ফিচার। বিশেষত ভারতের তারকাদের ক্ষেত্রে এমনটাই হচ্ছে। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সারা আলী খান, ম্রুনাল ঠাকুর থেকে এ বছর উর্বশী রাউতেলাকে নিয়েও অনেক কথা হলো। কিন্তু ভারতের সত্যিকার তারকারা রয়ে গেলেন প্রদীপের নিচের অন্ধকারে।
এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবে তিনজন ভারতীয় নির্মাতা ও তাদের চলচ্চিত্র বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। তারা হলেন মনিপুরি চলচ্চিত্র নির্মাতা আরিবাম শ্যাম শর্মা, যুধজিৎ বসু ও কানু বেহল। এর মধ্যে আরিবাম শ্যাম শর্মা মনিপুরের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘ইশানোউ’। সিনেমাটিকে ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন পুনরুদ্ধার করেছে। পাশাপাশি সিনেমাটি প্রদর্শন করা হচ্ছে কানের ‘ক্ল্যাসিক’ বিভাগে। এ বিভাগে ‘ইশানোউ’ই একমাত্র ভারতীয় সিনেমা হিসেবে এ বছর স্থান করে নিয়েছে। ৮৮ বছর বয়সী শ্যাম শর্মা কানেই অবস্থান করছেন, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পারেননি। উল্লেখ করার মতো আরেকটি তথ্য হলো, সিনেমাটি ১৯৯১ সালে কানে ‘আঁ সার্তে রিগা’য় প্রদর্শিত হয়েছিল।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৬তম আসরে স্ক্রিনিং হলো কলকাতার সিনেমা নির্মাতা যুধজিৎ বসুর ‘ নেহেমিচ’। ২৩ মিনিটের এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রায় দুই হাজার এন্ট্রির মধ্য থেকে সিনেমা ফাউন্ডেশন বিভাগে প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে। যুধজিৎ এফটিআইআইয়ের ছাত্র। এটি তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। যুধজিৎ মনে করেন, সিনেমা তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা বিষয় নিয়েই তিনি নির্মাণ করেন। মজার ব্যাপার যুধজিৎকে লাল গালিচায় দেখা যায়নি। তার সে গ্ল্যামার নেই।
তৃতীয় ব্যক্তি কানু বেহল। ২০১৪ সালে তার নির্মিত ‘তিতলি’ প্রদর্শিত হয়েছিল কানের ‘আঁ সার্তে রিগা’য়। এ বছর তার ‘আগ্রা’ প্রদর্শিত হচ্ছে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে। কানের নানা বিভাগের মধ্যে এটি অন্যতম মর্যাদার জায়গা। কিন্তু কানু বেহল সম্পর্কে ভারতের জনপ্রিয় মিডিয়া তেমন কোনো খবর দেয়নি। এমনকি কানু কিংবা যুধজিতের চেহারাও দর্শক চেনেন না।
ভারতের স্বাধীনতার পর মূলধারার বলিউড সিনেমার মধ্যে ১৯৫২ সালে ভি শান্তারামের ‘অমর ভূপালি’ ও ১৯৫৩ সালে রাজ কাপুরের ‘আওয়ারা’ পাম ডি অরের জন্য প্রতিযোগিতা করেছিল। গত বছর গোল্ডেন আই পুরস্কার পাওয়া শৌনক সেনের ‘অল দ্যাট ব্রিদস’ বা ২০১৮ সালে আঁ সার্তে রিগায় মনোনীত নন্দিতা দাসের ‘মান্টো’ মূলধারার বলিউড তো দূর মূল ধারার ভারতীয় সিনেমাই না। দেখা যাচ্ছে, মূল ধারার সিনেমা ও তারকাদের কৃতিত্ব যা-ই হোক না কেন, আলোচনায় থাকতে তারা পোশাক দিয়েই কানে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করছেন। কানকে তারা সিনেমা নয় বরং পোশাকের উৎসব বানিয়ে ফেলেছেন।










