নানা জটিলতা ও নেতিবাচক ঘটনাবলির মধ্যে দিয়েই হয়ে গেল ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের উৎসবের মূল সংকটের বিষয় ছিল হলিউডে চলমান ধর্মঘট। এ কারণে যুক্ত হতে পারেননি অনেক অভিনেতা ও পরিচালক। কিন্তু এর মধ্যেই যতটা সম্ভব আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজিত হয়েছিল উৎসব। এর মধ্যেও উৎসব মনোযোগ ধরে রেখেছিল আর সে মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন নির্মাতা সোফিয়া কপোলা, ব্র্যাডলি কুপার, উডি অ্যালেন, অভিনেতা অ্যাডাম ড্রাইভার, টনি লিউং প্রমুখ। প্রদর্শনী হয়েছে লেনার্ড বার্নস্টাইনের জীবনীভিত্তিক মায়েস্ত্রো ও প্রিসিলা প্রিসলির জীবনীভিত্তিক সিনেমা প্রিসিলা। এছাড়া ছিল অ্যাডাম ড্রাইভার অভিনীত এনজো ফেরারির গল্প নিয়ে নির্মিত ফেরারি।

অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের আসরে হংকংয়ের অভিনেতা টনি লিউংকে দেয়া হয়েছিল গোল্ডেন লায়ন। আজীবন সম্মাননা হিসেবে ভেনিসে গোল্ডেন লায়ন দেয়া হয়। এ ঘটনা উৎসব শুরুর দিকের। শনিবার সমাপনী দিনে দেয়া হয়েছে আরো কিছু পুরস্কার। এর মধ্যে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন আমেরিকান অভিনেতা পিটার সার্সগার্ড। তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন মেমোরি সিনেমায় অভিনয় করার জন্য। সিনেমায় তিনি ডাইমেনশিয়ায় আক্রান্তের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সার্সগার্ড ভেনিসে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু সেখানে পুরস্কার হাতে নিয়ে মঞ্চে তিনি হলিউডে চলমান ঘর্মঘটের পক্ষেই কথা বলেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে তিনিও চিন্তিত। সার্সগার্ড বলেন, ‘আমরা সবাই একমত হয়েছি যে অভিনেতা একজন ব্যক্তি এবং চিত্রনাট্যকারও তাই। কিন্তু এখন আর এ রকম সম্ভব না-ও হতে পারে। এবার যদি ধর্মঘটে আমরা হেরে যাই, তাহলে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে।’

এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা অন্যতম সিনেমা প্রিসিলা। এলভিস প্রিসলির স্ত্রী প্রিসিলা প্রিসলির জীবনের গল্প অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সোফিয়া কপোলা। এ সিনেমায় অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী ক্যালি স্প্যানি। প্রিসিলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌প্রিসিলা আমার ওপর ভরসা করেছিল। চরিত্রটি ছিল খুবই জটিল ও নানামুখী। আমি চেষ্টা করেছি প্রিসিলাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে।’ এ সিনেমার জন্য বেশ কয়েক দফা সেশনে বসেছিলেন প্রিসিলা, ক্যালি ও সোফিয়া। প্রিসিলার এ সহযোগিতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ক্যালি বলেন, ‘‌আমি তার সততার জন্য তাকে সম্মান করি এবং প্রিসিলা হয়ে উঠতে আমাকে সাহায্য করার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।‌’

আলোচিত হয়েছিল ব্র্যাডলি কুপারের মায়েস্ত্রোও কিন্তু সেরা সিনেমার পুরস্কার জিতে নিয়েছে অর্গাস ল্যান্থিনোস পরিচালিত ‘‌পুওর থিংস’। সিলভার লায়ন গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার পেয়েছে রায়ুসুকে হামাগুচি পরিচালিত ‘‌ইভল ডাজ নট এক্সিস্ট’। সিলভার লায়ন বেস্ট ডিরেক্টরের পুরস্কার পেয়েছেন ম্যাতেও গারো। বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছে শরণার্থী সংকট নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘‌গ্রিন বর্ডার’। সেরা চিত্রনাট্য ‘‌এল কঁদে’।