‘দেবীপ্রসাদ বাড়িতে আছেন?’
‘আরে কে দেবীপ্রসাদ? এটা দেবীপ্রসাদের বাড়ি না।’
বাংলায় লিখলেও সংলাপ মূলত হিন্দি। আর হিন্দি সিনেমার দর্শকের কাছে এ সংলাপ খুবই পরিচিত। বাবুরাও আপ্তে চরিত্রে অভিনয় করা পরেশ রাওয়ালের মুখে তার এ সংলাপ শুনেছেন। সিনেমার নাম ‘হেরা ফেরি’। পরিচালক প্রিয়দর্শন। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমার পর এখন পর্যন্ত একইভাবে জনপ্রিয়। সিনেমার পরিচালক হিসেবে প্রিয়দর্শনকে সবাই জানলেও এর পেছনে আছেন আরেকজন। তিনি মালয়ালম সিনেমার নামজাদা পরিচালক সিদ্দিক। ১৯৮৯ সালে তার গল্প ও পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল মালয়ালম সিনেমা ‘রামজি রাও স্পিকিং’। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হেরা ফেরি। তবে হেরা ফেরির লেখক হিসেবে তাকে দর্শক না চিনলেও বডিগার্ডের পরিচালক হিসেবে ঠিকই চেনে। এমন অনেক সিনেমা দিয়ে দর্শক মাতিয়ে চলে গেলেন সিদ্দিক ইসমাইল।
সিদ্দিক বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। গত মঙ্গলবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। সিদ্দিক ইসমাইলের মৃত্যুতে স্বভাবতই শোকের ছায়া নেমেছে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মালয়ালম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’ দুলকার সালমান লিখেছেন, ‘সবচেয়ে নম্র যে আত্মা, দয়ালু যে মানুষটি, তিনি একজন অসামান্য পরিচালক। তার কাজের মধ্যে ছিল সূক্ষ্ম হাস্যরস। তার সিনেমাগুলো আমাদের রোজকার জীবনেরই অংশ। অপরিমেয় ক্ষতি হলো আমাদের। সিদ্দিক স্যার ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা রইল।’
সিদ্দিক ইসমাইল তার ক্যারিয়ার শুরু করেন নির্মাতা ফাজিলের (ফাহাদ ফাসিলের বাবা) সহকারী হিসেবে। এ সময় সিদ্দিকের সঙ্গে আরো একজনের জুটি ফাজিলের চোখে পড়ে। পরবর্তী সময় এরা জুটি হিসেবে বেশকিছু সিনেমায় কাজ করেছেন। সিদ্দিক-লাল জুটির লালকেও অনেকে চিনবেন। প্রভাস অভিনীত ‘সাহো’-তে তিনি ইব্রাহিম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এদের হাত ধরেই ১৯৮৯ সালে এসেছিল রামজি রাও স্পিকিং। খুব সাবলীলভাবে কমেডিকে তিনি উপস্থাপন করেছিলেন দৈনন্দিন বাস্তবতার পাশে। লালের সঙ্গে মিলে সিদ্দিক দেখিয়েছিলেন সিনেমায় খুব বেশি কিছু আনতে হয় না। বিশেষত কমেডির ক্ষেত্রে গল্পের চরিত্রগুলো অনুসারে লেখকরা ঠিক লেখাটা আনতে পারলে তা মজাদার হয়ে ওঠে।
একজন পরিচালক তখনই কিংবদন্তিতে পরিণত হন, যখন তার সিনেমা সময় ও স্থানের সীমা ছাড়ায়। সিদ্দিকের সিনেমা কেরালা ছাড়িয়ে এসেছে বলিউডে। রিমেক হয়েছে দক্ষিণের অন্যান্য ভাষায়। সিদ্দিক মূলত এ শতকের আগে দক্ষিণের বাইরে পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু তাকে সামনে আনলেন আরেক কিংবদন্তি, প্রিয়দর্শন। পরবর্তী সময় সিদ্দিকের সিনেমা আরো অনেকে রিমেক করেছে। তিনি নিজেও এসেছিলেন বলিউডে। ২০১১ সালে মুক্তি পায় সালমান খান অভিনীত বডিগার্ড। সিদ্দিক আগের বছর মালয়ালমে নির্মাণ করেছিলেন সিনেমাটি। সালমানের সিনেমাটি বলিউডে রেকর্ড ব্যবসা করেছিল। তার ‘মান্নার মাথাই স্পিকিং’ থেকে সাবপ্লট নিয়ে প্রিয়দর্শন ফের নির্মাণ করেছিলেন ‘ভাগম ভাগ’। ২০০৭ সালে নির্মিত ‘ঢোল’ও সিদ্দিকের ‘ইন হরিহর নগর’ থেকে অনুপ্রাণিত। বহু নির্মাতার জন্য প্রেরণা ছিলেন তিনি আর বহু নির্মাতার জন্য প্রেরণা রেখে গেলেন সিদ্দিক।










