গত সপ্তাহে হইচইয়ে মুক্তি পেল মোশাররফ করিম অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘মোবারকনামা’। বছরের শুরু থেকেই ওটিটিতে চর্চা ছিল মোশাররফ করিম অভিনীত ‘মহানগর ২’ নিয়ে। বছর শেষও করলেন তিনি। এর মধ্যে এসেছে আরো অনেক কনটেন্ট। এর মধ্যে ছিল ওয়েবফিল্ম, শর্টফিল্ম, অরিজিনাল সিরিজ ও অ্যান্থোলজি। দেশের প্রতিটি ওটিটিতেই মুক্তি পেয়েছে নতুন এ কনটেন্টগুলো। খেয়াল করলে দেখা যাবে এর মধ্যে কয়েকটি ওটিটি এগিয়ে ছিল তাদের কনটেন্ট নিয়ে। আর দর্শকের ক্ষেত্রে তারা ওয়েব ও শর্টফিল্ম সাদরে গ্রহণ করলেও পছন্দের তালিকায় এগিয়ে অরিজিনাল সিরিজ।

আলাপ শুরু করা যাক পুনর্মিলনে দিয়ে। চরকিতে মুক্তি পাওয়া এ ওয়েবফিল্মের নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান। এর গল্প একটি পরিবারকে ঘিরে। দাদির জন্মদিন ঘিরে সবার একত্র হওয়ার মাধ্যমে দর্শকের মধ্যেও নস্টালজিয়া তৈরি করেছেন আরিয়ান। কিন্তু পরকীয়ার কারণে ফিল্মটির সমালোচনা করেছেন দর্শক। অন্যদিকে একই প্লাটফর্মে মুক্তি পাওয়া আরিয়ানেরই ‘উনিশ ২০’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। আরিফিন শুভ ও বিন্দু অভিনীত ওয়েবফিল্মটিকে দর্শকরা ‘ফ্রেশ লাভ স্টোরি’ বলেছেন।

বছরটা শুরু করেছিলেন অবশ্য ভিকি জাহেদ। জানুয়ারির শেষে এসেছিল তার ওয়েব সিরিজ ‘দ্য সাইলেন্স’। অনেকটাই ভিন্নধর্মী এ সিরিজে অভিনয় করেছিলেন শ্যামল মাওলা, মেহজাবিন চৌধুরী, বিজরী বরকতউল্লাহ, আজিজুল হাকিম ও আবদুন নূর সজল। এ সিরিজে অভিনয় করে সজল বেশ প্রশংসা পান। ভিকি জাহেদ ভিন্ন ধরনের কাজ করে প্রশংসিত ও জনপ্রিয়। তিনি আরেকটি সিরিজ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেখানেও মেহজাবিন ও শ্যামল জুটি হয়েছিলেন। আই স্ক্রিনে মুক্তি পায় ‘আমি কি তুমি?’ পুনর্জন্ম সিরিজের মতো ওটিটিতে ততটা জনপ্রিয়তা পাননি ভিকি। তবে দ্য সাইলেন্স নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে।

ওয়েবফিল্ম নিয়ে এসেছিলেন রায়হান রাফী। বরাবরের মতো এটিও ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ নির্মিত। ভায়োলেন্স দেখাতে চেয়েছিলেন নির্মাতা। কিন্তু গল্প আর অভিনয় মিলে ঠিক জমে ওঠেনি বিঞ্জে মুক্তি পাওয়া ফিল্মটি। এদিকে বছরের শেষে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ফারুকী-তিশা। নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন ফারুকী। নিজের জীবন ও এর সঙ্গে কিছুটা কল্পনা জুড়ে গল্পটা তৈরি করেছেন তিনি। চরকিতে স্ট্রিম হওয়া ‘অটোবায়োগ্রাফি’ পেয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ওটিটিতে অ্যান্থোলজি বেশ জনপ্রিয়। বিশ্বের জনপ্রিয় ওটিটিগুলো অ্যান্থোলজি নিয়ে হাজির হয়। আমাদের দেশের ওটিটিতে এর পরিমাণ কম। তবে চরকি এনেছিল এ বছর ‘প্রচলিত’। আমাদের দেশে প্রচলিত নানা অতিপ্রাকৃত গল্পের ভিন্ন ধারার উপস্থাপনা ছিল এতে। পাঁচ পর্বের এ অ্যান্থোলজি নির্মাণ করেছেন আবিদ মল্লিক। গত বছর আসা ‘পেট কাটা ষ’র কারণেই প্রচলিত নিয়ে দর্শকের আশা ছিল বেশি। কিন্তু প্রচলিত তা পূরণ করতে পারেনি। অ্যান্থোলজিটি আরো ভালো হতে পারত বলেই দর্শকরা বলেছে।

এ বছর চরকি, বিঞ্জ, বঙ্গ, আই স্ক্রিন, দীপ্ত প্লে, হইচই সবাই চেষ্টা করেছে নানা কনটেন্ট আনতে। এর মধ্যে ঈদে দীপ্ততে এসেছিল নিকষ। দুই বোনের সংগ্রামের এ গল্পে কিছু সমাজসচেতনতার চেষ্টা ছিল।

বিঞ্জ এ বছর দুটি সিরিজ দিয়ে দর্শকের মনোযোগ পেয়েছে। দ্য সাইলেন্সের পাশাপাশি ছিল ‘অগোচরা’। মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের লেখা থেকে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন সিদ্দিক আহমেদ। সামাদের গল্পটা দর্শক পছন্দ করেছে। এদিকে সারা বছর খুব বেশি কাজ না আনলেও কাজল আরেফিন অমির ‘হোটেল রিল্যাক্স’ দিয়ে মনোযোগ পেয়েছে বঙ্গ। কনটেন্ট নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সিরিজটি বেশ ভালো ভিউ পেয়েছে।

তবে মাঠ কাঁপিয়েছেন মূলত আশফাক নিপুণ ও শিহাব শাহীন এবং তাদের সঙ্গে মোশাররফ করিম ও নাসির উদ্দিন খান। আশফাক নিপুণ এনেছিলেন ‘মহানগর ২’। ওসি হারুনকে দর্শক প্রথম সিজন থেকেই পছন্দ করেছে। দ্বিতীয় সিজনের গল্পটা অন্য রকম হলেও তারা সেটাও পছন্দ করেছে। অন্যদিকে শিহাব শাহীন তার অ্যালেন স্বপনকে ফিরিয়ে এনেছেন। এই প্রথম কোনো স্পিন অফ পেল দেশীয় ওটিটি। আর জনপ্রিয়তায় অ্যালেন স্বপন এখন কিংবদন্তি।

এসব কিছু মিলিয়ে মোটের ওপর দেখা যাচ্ছে ওটিটিতে ফিল্মের চেয়ে সিরিজের প্রতিই দর্শকের আকর্ষণ থাকছে বেশি।