মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স গত বছর বেশকিছু ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়েছে। কিন্তু ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আছে কিছু ক্ষোভ। অপ্রাপ্তি জানিয়েছেন অনেকেই। এক্ষেত্রে বলা যায় ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস যতখানি আশা জাগিয়েছিল, ততটা ভালো সিনেমা এটি হয়নি। এরপর দেখা যাচ্ছে ওয়াকান্ডা ফরএভার কম-বেশি দর্শককে প্রাপ্তির জায়গায় নিয়ে গেছে। তবে মার্ভেলের চতুর্থ ফেজ যে সিনেমাগুলো দিয়েছে সেখানে মার্ভেলের মূল ভাবটি নেই। এমসিইউতে দর্শক যা চান বা মার্ভেলের ফ্লেভার-সেটার খামতি রয়েছে। এই খামতি থেকে বেরিয়ে আসা মার্ভেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়সপ: কোয়ান্টোমেনিয়া মার্ভেলের পুরনো ধারায় ফিরে আসার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোয়ান্টোমেনিয়ার ট্রেলারে পাওয়া গেল ক্যাংকে। মার্ভেলের পরবর্তী পর্বে ক্যাং হয়ে উঠছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। বিশেষত খলনায়ক। ক্যাংয়ের সাম্রাজ্য ও ক্ষমতাই নির্ধারণ করতে যাচ্ছে মার্ভেল সুপারহিরোদের পরবর্তী সব পদক্ষেপ ও যাত্রা। পুরো গল্পটা যতখানি অ্যান্ট ম্যানকে ঘিরে আবর্তিত হবে, ততটাই গুরুত্ব পাবে ক্যাং। মার্ভেলের ফেজ ফোরের সিনেমাগুলো একটি প্যাটার্নে চলে গিয়েছিল। সেখানে মূল নায়ক কোনো না কোনো ভুল করে এবং সে ভুলের ফলে ঘটনা ঘটে। সে ধরনের গল্প নিয়ে সিনেমা এগোয়। একই ধারার গল্প বলার কারণে ভক্তরাই বলছেন মার্ভেল মিডিওকোর সিনেমা দিয়েই পার করেছে ফেজ ফোর। ভিএফএক্স ভালো ছিল, কিন্তু সেখানেও দর্শকদের ছিল আপত্তি। মার্ভেলের মতো করে কোনোকিছুই হচ্ছে না।
কোয়ান্টোমেনিয়ার অন্যতম ভালো জায়গা এর ভিজুয়াল এফেক্টস। রীতিমতো একটি নতুন দুনিয়ার সন্ধান দিচ্ছে তা। ক্যাংয়ের দুনিয়া, তার ক্ষমতার একটি প্রতিফল পাওয়া যায় এখানে। অন্তত এখন পর্যন্ত ট্রেলার সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফেজ ফোরে যে প্যাটার্ন দেখা গিয়েছিল সেখান থেকেও বের হচ্ছে মার্ভেল। এখানে স্কট ল্যাঙ (অ্যান্ট ম্যান) ভুল করে না বরং ক্যাং তাকে একটি ফাঁদে ফেলে দেয়। অবশ্য ল্যাঙ যে একেবারেই ভুল করে না এমন না। সে তার আবেগের জায়গা থেকে ক্যাংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসে। পুরো বিষয়টি অ্যান্ট ম্যানের পুরনো ঘটনাবলির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে অ্যান্ট ম্যানকে কাজে লাগিয়ে নিজের ক্ষমতার জায়গাটি শক্ত করার চেষ্টা করে ক্যাং। ফেজ ফোরে মার্ভেলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা হয়ে উঠেছিল ওয়াকান্ডা ফরএভার। ফেজ ফাইভে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়সপ: কোয়ান্টোমেনিয়া। ল্যাঙের সঙ্গে এবারো আছে হ্যাঙ্ক পিম ও হোপ ভ্যান ডাইন। এখন পর্যন্ত এ সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক মনে হচ্ছে এর গঠন। মার্ভেল তার আগের সিনেমাগুলোয় আবেগকে যেভাবে প্রধান্য দিয়েছিল তার তুলনায় এবারের সিনেমায় গল্পের গঠনের দিকে মন দেয়া হয়েছে বেশি। সেটা ক্যাংকে প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফেজ ফাইভের গল্প শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও কাজে দেবে।
অ্যান্ট ম্যানের চরিত্রে এবারো থাকছেন পল রাড। তবে মনে হচ্ছে স্পটলাইট কেড়ে নেবেন জোনাথন মেজর্স। ক্যাংয়ের চরিত্রে তিনি দুর্দান্ত। ধূর্ত এ খলনায়কের সঙ্গে মার্ভেলের ‘ক্ষুদ্র সুপারহিরো’টির মুখোমুখি লড়াইয়ের গল্পটাই হয়তো মার্ভেলকে ফেরাবে নিজের পুরনো রূপে।










