এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হলিউডের বাজারে ব্যবসায়িক সাফল্য ধরে রেখেছে মার্ভেল। অ্যাভেঞ্জার্সের মাধ্যমে এ সাফল্যের চূড়ান্তে যাওয়া শুরু হয় তাদের। এরপর একের পর এক সিনেমা দিয়ে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। মহামারীর পরও সবচেয়ে বড় হিট ছিল তাদের সিনেমা। স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম হলিউডের মেজাজ ফিরিয়েছিল। কিন্তু এর পরই যেন অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। মার্ভেলের সিনেমাগুলো আগের মতো ব্যবসা করতে পারছে না। গল্প ও মানের ক্ষেত্রেও আশা জাগিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে একেকটি সিনেমা। সম্প্রতি অ্যান্ট ম্যান অ্যান্ড দ্য ওয়াসপ: কোয়ান্টাম্যানিয়া দিয়ে নতুন ফেজ শুরু করেছে এমসিইউ। কিন্তু নতুন পর্যায়ের শুরুটা ভালো হলো না। দ্বিতীয় সপ্তাহে বক্স অফিসের আয় কমে গেছে অনেকটা। আগের সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। তাই মনে হয় সতর্ক হওয়ার সময় এসেই গেল মার্ভেলের।

শুরুতেই ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা সিনেমাটির টিকিট বিক্রি দ্বিতীয় সপ্তাহে ৬৯ শতাংশ কমে গেছে। এমসিইউর ক্ষেত্রে এত বড় পতন এর ইতিহাসে দ্বিতীয়। বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এত বড় হারে পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুশ্চিন্তার। আবার এক্সিবিটর রিলেশনসের জেফ বক বলছেন, ‘‌সিনেমাটি মার্ভেলের অন্যতম বড় ওপেনিং পেয়েছে। এরপর যেকোনোভাবে পিছিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু সূচনার কারণে সে পতন সামলে নেয়া সহজ হবে।’ মহামারীর পর মুক্তি পাওয়া মার্ভেলের সিনেমাগুলোর দিকে তাকালে একই রকম অবস্থা দেখা যায়। যেমন ব্ল্যাক উইডোর টিকিট বিক্রি কমেছিল ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ, থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডারের ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেসের ৬৭ শতাংশ। এমনকি স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোমের মতো সফল সিনেমারও টিকিট বিক্রি ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছিল। 

কিন্তু স্পাইডার ম্যান বাদে অন্য সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে এ বিষয় বক্স অফিসে বিরূপ প্রভাবই ফেলেছিল। যদিও ব্ল্যাক উইডো বাদে প্রতিটি সিনেমাই ৭৬-৯৫ কোটি ডলার আয় করেছে। অর্থাৎ অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে টার্গেট অডিয়েন্সকে মার্ভেল ঠিকই ধরতে পেরেছে। মার্ভেলের ভক্তরা মার্ভেলের সিনেমা দেখা বন্ধ করেনি। কিন্তু আসলেই কি সে রকম?

কোয়ান্টাম্যানিয়া মাত্র দুই সপ্তাহে উত্তর আমেরিকায় আয় করেছে ১৬ দশমিক ৭ কোটি ডলার। উত্তর আমেরিকার বাইরে সিনেমাটি আয় করেছে ৩৬ দশমিক ৪ কোটি ডলার। সে হিসেবে এটি দুই সপ্তাহেই ডিসির ব্ল্যাক অ্যাডামের লাইফটাইম আয় (৩৯ দশমিক ২ কোটি ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু তবু মার্ভেলকে সতর্ক হতে হবে দুটো কারণে। প্রথমত মার্ভেলের নিবিষ্ট ভক্তরাও বিগত কয়েকটি সিনেমা দেখে বলেছেন মার্ভেলের সিনেমার মতো হচ্ছে না। এমনকি আপত্তি এসেছে কোয়ান্টাম্যানিয়ার ভিএফএক্স নিয়েও। এদিকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ডিসির দ্য ফ্ল্যাশ সিনেমার ট্রেলার ডিসির জন্য আশা জাগাচ্ছে। দর্শকরা এ সিনেমা ও ডিসির নতুন ইউনিভার্স নিয়ে আগ্রহী। অন্যদিকে থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার যে দর্শকরা পছন্দ করেনি তা সবারই জানা। তাই এটাই সঠিক সময় সতর্ক হওয়ার।