সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ’। এ আক্ষেপ যার জীবনে আছে তিনিই জানেন এর গভীরতা। তবে চলচ্চিত্র পরিচালক মার্টিন স্করসেসিকে এমন কথা বলতে হচ্ছে না। কারণ বহুদিনের বন্ধু রবার্ট ডি নিরো এখনো আছেন তার সঙ্গে। দুজনই এখন অশীতিপর বৃদ্ধ। কিন্তু বার্ধক্য তাদের শরীরে এলেও মন ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলেনি। নিরো বাবা হলেন কিছুদিন আগে আর স্করসেসি নির্মাণ করেছেন আরেকটি সিনেমা। ওসেজ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার ‘কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ নিয়ে সবাই আশাবাদী। এ সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন নিরো। সম্প্রতি তাদের ছয় দশকের বন্ধুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন স্করসেসি।
মার্টিন স্করসেসির জন্ম নিউইয়র্কের কুইন্সে। এর কাছাকাছি অঞ্চলেই বেড়ে উঠেছেন ডি নিরো। একটি জুম ইন্টারভিউতে মার্টিন বলেন, ‘আমরা একই পরিবেশে বেড়ে উঠেছি। মিন স্ট্রিটস ও ট্যাক্সি ড্রাইভার নির্মাণের সময় দেখলাম আমরা একই ধরনের মানসিক গড়নের। এক ধরনের আবেগই আমাদের চালিত করে। সংকটগুলোও এক রকম।’ এমন হলে বন্ধুত্ব হতে সময় লাগে না খুব বেশি। সে সময় থেকে মার্টিন আর নিরোও যেন গেঁথে গিয়েছিলেন এক সূত্রে। মার্টিনের শুরুর দিনগুলোয় যারা তার সঙ্গে ছিলেন তাদের অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। মার্টিন বলেন, ‘একমাত্র নিরোই বেঁচে আছে যে জানে আমি কোথা থেকে এসেছি। আমি কেমন করে আমি হয়ে উঠলাম। আমাদের বন্ধুত্বের সূত্র হলো বিশ্বাস, সাহস ও গৌরব।’
দুজনের সাফল্যময় পথ শুরুর আগে তারা নির্মাতা ব্রায়ান ডি পামার সূত্রে একত্র হয়েছিলেন। এরপর তাদের বন্ধুত্ব ও পেশাদার কাজের পথচলা ৬৪ বছরের। এর মধ্যে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন ১০টি ফিচার ফিল্মে। এর মধ্যে হলিউডের মতো জায়গায় একসঙ্গে সবসময় কাজ করা সম্ভব হয় না। বিশেষত ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার গডফাদার টু সিনেমায় অভিয়ের জন্য অস্কার পেয়েছিলেন ডি নিরো। ওই সময় স্টুডিওগুলো এমন অভিনেতাদের ছিনিয়ে নিত। স্করসেসি বলেন, ‘গডফাদার টুয়ে অভিনয় করে অস্কার জিতে সে শক্ত অবস্থানে চলে গিয়েছিল। এ সময় স্টুডিও তাকে ছিনিয়ে নিতে চাইত। কিন্তু নিরো এমন মানুষ ছিল যে আমাকে কখনো ছেড়ে যায়নি।’
১৯৭৩ সালে নিরোকে নিয়ে মিন স্ট্রিটস নির্মাণ করেছিলেন স্করসেসি। তিন বছর পর ট্যাক্সি ড্রাইভার। এরপর একে একে নিউইয়র্ক, রেজিং বুল, দ্য কিং অব কমেডি, গুডফেলাস, কেপ ফিয়ার, ক্যাসিনো, দি আইরিশম্যান ও সর্বশেষ এ বছরে কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন। এর মধ্যেই দুজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম। লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। ডি নিরোর পর ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গে মার্টিনের রসায়ন এতটা জমেছে যে তাদের সিনেমাগুলো দেখে মনে হয় ডি ক্যাপ্রিও পরের প্রজন্মের ডি নিরো।
মজার ব্যাপার হলো ডি নিরোই ক্যাপ্রিওকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন মার্টিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছেলেটা বেশ ভালো। আমার প্রথমেই মনে হয়েছিল। বব (নিরো) আমার সঙ্গে ওকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। নিরোর মতোই ওর মধ্যেও আমি সে সাহস দেখেছিলাম।’
কিলার্স অব দ্য ফ্লাওয়ার মুন মুক্তি পাচ্ছে ২০ অক্টোবর। স্করসেসির এ সিনেমায় ডি নিরো ও ডি ক্যাপ্রিওকে একসঙ্গে দেখা যাবে।










