সালমান খান অভিনীত টাইগার সিরিজের তৃতীয় সিনেমা মুক্তি পেল গত রোববার। ‘‌টাইগার থ্রি’ টাইটেলের সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মনীশ শর্মা। সালমান খান ও টাইগার সিরিজের সিনেমা হওয়ার পাশাপাশি আরো নানা কারণে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের ছিল বিপুল আগ্রহ। সিনেমা মুক্তির পর বক্স অফিসে এর সাফল্য প্রমাণ দিচ্ছে সিনেমাটি পছন্দ করেছেন দর্শক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে টাইগার সত্যিই কতটা ভালো করল। কেননা টাইগার যেহেতু একটি সিরিজ, আগের দুই সিনেমার সঙ্গে এর তুলনা এসেই যাবে, পাশাপাশি আলাপ করতে হবে সাম্প্রতিক অন্যান্য সিনেমা নিয়ে। সেদিক থেকে বিচার করতে বসলে দেখা যাবে টাইগার আসলে পিছিয়ে আছে বেশকিছু জায়গায়। তবে এ সিনেমায় তৈরি হয়েছে স্পাই ইউনিভার্সের স্কেচ।

টাইগার নিয়ে সবচেয়ে ভয়ের জায়গা ছিল সালমানের কন্টিনিয়ুটিতে। সালমান খান গত কয়েক বছরে যে সিনেমাগুলো করেছেন তা নানা জায়গায় পিছিয়ে ছিল। গল্প, অভিনয়, কমেডি, অ্যাকশন কোনোটিতেই সালমান যেন নিজের প্রতিই সুবিচার করতে পারেননি। কিন্তু ভরসাও ছিল আরেক জায়গায়। টাইগার সিরিজে সালমান খান নিজের সেরা অভিনয় করার চেষ্টা করেন। টাইগার থ্রিতেও এর প্রমাণ আছে। পাশাপাশি গল্পের কথা বলতে গেলে বলতে হয় এর গল্পটা যথেষ্ট ভালো। কিন্তু সেটার উপস্থাপনায় মার খেয়ে গেল। অবশ্য এটি সমালোচনার দৃষ্টি থেকেই ধরতে হয়। কেননা খবর যা পাওয়া যাচ্ছে, হলে বসে দর্শকরা আনন্দেই দেখেছেন সিনেমাটি। 

টাইগার থ্রির মূল গল্পটা পরিচিত। চাইলে পাঠানের সঙ্গে মেলাতেও পারেন অনেকে। কিন্তু এখানে আতিশ রহমান ভারতের নন, পাকিস্তানি এজেন্ট ও অবশ্যই ভারতবিরোধী। সিনেমায় গল্পের ধারা তাই বলিউডের পুরনো ধারা মেনে চলে। কিন্তু এর মধ্যেই স্পাই ইউনিভার্স ও গল্প এস্ট্যাবলিশ করার জন্য বেশকিছু শাখা আনা হয়েছে গল্পের। যেমন জোয়ার অতীত, তার সঙ্গে আতিশের সংযোগ, ক্যাপ্টেন আবরার ও জাফরকে ফিরিয়ে আনা ও তাদের চরিত্রে বৈচিত্র্য দেয়া ইত্যাদি। গল্পের টুইস্টও ভালো ছিল এবং বলতেই হয় প্রথমার্ধ বেশ টেনে নিয়েছে দর্শককে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গিয়েই খেই হারাল সিনেমার গল্প। একটা পর্যায়ে মনে হতে থাকে যে গল্পটা বলার কথা ছিল, সেটা না বলে অন্যকিছু বলা হচ্ছে।

‘‌এক থা টাইগার’ পরিচালনা করেছিলেন কবির খান। তিনি নিজের মতো করে সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন। আর সালমান-কবির জুটির একটা আলাদা চার্ম আছে। সেখানে মূল গল্প এজেন্ট টাইগারকে নিয়ে হলেও টাইগার-জোয়ার প্রেমকাহিনী দর্শকের কখনো বাহুল্য মনে হয় না। সিকুয়াল ‘‌টাইগার জিন্দা হ্যায়’তেও সে ধারা বজায় রেখেছিলেন আলী আব্বাস জাফর। তার ওপর একটা মিশন বেজড সিনেমা হিসেবে বলিউডে একটা উদাহরণ তৈরি করেছিল সিনেমাটি। কিন্তু টাইগার থ্রি যেন নির্দিষ্ট কোনো ট্র্যাক ধরতে পারল না।

সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে ধরতে হয় আতিশ রহমানের চরিত্রটির বিল্ড-আপ। পেছনের গল্পটা মোটামুটি দাঁড় করানো হলেও গল্প আগানোর সঙ্গে তাকে সেভাবে দেখা গেল না। ইমরান হাশমিকে যে চরিত্র দেয়া হয়েছে সেটিকে ধরে তিনি দারুণ অভিনয় করেছেন, কিন্তু গল্পের লেখক তাকে অ্যান্টি হিরো হিসেবে তৈরি করতে পারেননি। বিশেষত পাঠান আসার পর এ নিয়ে আগ্রহ আরো বেশি ছিল। পাঠানের বিপরীতে জিমকে বরাবরই শক্তিশালী মনে হয়েছিল, কিন্তু টাইগার থ্রিতে আতিশ যেন বলিউডের পুরনো আমলের ভিলেনই থেকে গেলেন।

সিনেমার সেট ও অ্যাকশন ডিজাইন ভালো। অনেকগুলো চেজ সিন আছে এবং সবগুলো ভালো করে কোরিওগ্রাফ করা। বড় পর্দায় এ সিনেমা দর্শককে ভালো অভিজ্ঞতা দেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সালমান খান ও ক্যাটরিনা কাইফের রোমান্স ততটা ছিল না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যে অনেক বেশি পরিণত তা স্পষ্ট। দর্শকের অবশ্যই ভালো লাগবে কুমুদ মিশ্র, চন্দ্রচূড় রাই ও অনন্ত বিধাতের অভিনয়। গিরিশ কারনাডকে দর্শক মিস করবে, তবে এর প্রধান মিতালী মেননের চরিত্রে রেবতী (আশা নাইর) বেশ ভালো অভিনয় করেছেন।

টাইগার থ্রিতে ক্যামিও ছিল শাহরুখ খান ও হৃতিক রোশনের। কিন্তু অদ্ভুত কোনো কারণে পাঠানকে কমিক ক্যারেক্টার তৈরি করেছেন মনীশ। অন্যদিকে হৃতিকের ক্যামিওকে ‘পোস্ট ক্রেডিট সিন’ বলাই ভালো। সেটির পরিচালক আবার অয়ন মুখার্জি। হৃতিকের অংশটিতে একটা ডার্ক ভাইব আছে। ধারণা করা যায় ‘‌ওয়ার টু’ ভিন্ন ধারার হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে টাইগার থ্রি বোঝাল বিচিত্র শাখা নিয়ে তৈরি হবে স্পাই ইউনিভার্স।